default-image

মার্চের ১৫ তারিখ স্কুল ছুটির সময় এক বন্ধুর ধাক্কায় পড়ে গিয়ে পায়ে বেশ ব্যথা পাই। সারা রাত ব্যথার যন্ত্রণায় ভুগে পরদিন গেলাম চিকিৎসকের কাছে। পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানালেন, ফ্র্যাকচার। অনেকটা জোর করেই পায়ে প্লাস্টার করিয়ে দিল আম্মু। তিন সপ্তাহের বিশ্রামে থাকতে বলেন চিকিৎসক।

তিন সপ্তাহের মতো ঘরে বন্দী থেকে বারবার মনে হচ্ছিল কবে বাইরে যাব। দুই দিন পরই ১৮ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হলো। অল্প কিছু কাপড় নিয়ে বেশ তাড়াহুড়ো করেই চলে গেলাম আমার গ্রাম কিশোরগঞ্জে।

পা ঠিকঠাক, পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাই দেড় সপ্তাহের মাথাতেই। গল্পের বই যা এনেছিলাম সব শেষ। ৩১ তারিখের আগের ফিরে আসব—ভেবে খুব বেশি বই আনা হয়নি। আসলে তখন আমার সুস্থতা নিয়ে ভেবেছে সবাই। কিন্তু ৩১ তারিখ পেরিয়ে গেল। ছুটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ল আমার যন্ত্রণাগুলোও। কিছুই করার নেই। একমাত্র ভরসা ছিল মোবাইল ফোন, তাতেও দেখা দিল নানা সমস্যা।

মুভি যা দেখতাম, সেটাও একপর্যায়ে ধাক্কা খেল ইয়ারফোনের এক পাশ ছিঁড়ে যাওয়ায়। এ নিয়েই শুরু করতে হলো অনলাইন ক্লাস। ক্লাস করতেও ভুগতে হচ্ছে নানা সমস্যা। বই তো পিডিএফে। একবার বই দেখতে হয় আরেকবার ক্লাস। কী যন্ত্রণা!

ছাদে গিয়ে আকাশ দেখা, প্রকৃতিকে উপভোগ করা আর ছেঁড়া ইয়ারফোন দিয়ে গান শোনা—সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় অনেকাংশে। দিনরাত প্রচুর পিডিএফ বই পড়ছি, তাও মনে হচ্ছে যেন একই বই পড়ছি। বই পড়ার প্রকৃত স্বাদটা যেন আসছে না কিছুতেই। সবই চার কোনা স্ক্রিনের মধ্যে আবদ্ধ।

লেখক : শিক্ষার্থী, দশম শ্রেণি, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0