বিজ্ঞাপন
default-image

সীতাকুণ্ড এলাকাটাকে হিন্দুদের বড় তীর্থস্থানও বলা হয়। চন্দ্রনাথ মন্দিরে প্রতিবছর বিশেষ পূজা হয়, যাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিশাল মেলা হয়। যখন আমরা পাহাড়ে ওঠা শুরু করেছি, তখন দেখলাম অনেকেই নেমে আসছে। ঘেমে সবার অবস্থা খারাপ, মনে পড়ে গেল আদনান মুকিতের বলা কথাটি! ঢোঁক গিললাম আরকি! বলে রাখা ভালো যে পাহাড়ে ওঠার জন্য লাঠি সংগ্রহ করতে হয়। পাহাড়ের একটু পরপরই দোকানিরা বিভিন্ন পাহাড়ি সামগ্রী সাজিয়ে বসে আছেন। একটু ওপরে উঠেই আশপাশে যখন তাকালাম, শুধু সবুজ আর সবুজ। পাহাড়ে ওঠার বিশেষ সুবিধা হলো সিঁড়ি।

default-image

সিঁড়ি দিয়ে প্রথম দিকে সহজেই উঠে পড়তে পারবে, কিন্তু যত ওপরের দিকে যাওয়া হয়, সিঁড়ির অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। এভাবে ৪০ মিনিটের মতো চলার পরে আমরা পাহাড়ে উঠলাম! ভুল হয়েছে, চন্দ্রনাথ পাহাড় না এটি। বিরূপাক্ষ মন্দির। চন্দ্রনাথে ওঠার পথে এই মন্দিরটি পাওয়া যাবে। কিন্তু এটাকেই চন্দ্রনাথ ভেবে আমি তো হাত–পা ছড়িয়ে বসে পড়েছিলাম রীতিমতো, পরে বুঝতে পেরে হাঁটা দিলাম আবার। বিরূপাক্ষ থেকে চন্দ্রনাথ পর্যন্ত পথ বেশ খাড়া। সাবধানে দু–এক পা করে করে উঠে পড়লাম গন্তব্যে।

default-image

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত পালামৌতে বাঙালির পাহাড়ের প্রতি আগ্রহের সঙ্গে আমার আগ্রহেরও যথেষ্ট মিল আছে মনে হলো। পাহাড়ে উঠে মন্দিরের বারান্দায় বসে অনেককেই বিশ্রাম নিচ্ছে দেখলাম। দূরে গাছপালার ভিড়ে সীতাকুণ্ড শহরটিও দেখা যাচ্ছিল।

default-image

পাহাড় জয় শেষে চলে গেলাম গুলিয়াখালী সি–বিচ। কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, কুয়াকাটার নাম শুনেছি, গুলিয়াখালী তো কখনো শুনিনি। এমনটা মনে হতে পারে। আমারও সন্দেহ ছিল, কিন্তু গিয়ে দেখি আসলেই তো সমুদ্র! একটু নোনাপানিও খেয়ে পরীক্ষা করে নিয়েছিলাম একফাঁকে। এক পাশে সমুদ্র আর অন্য পাশে কেওড়া বন ও তার শ্বাসমূল। অনেকটা সুন্দরবনের মতো। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে সবুজ ঘাসের মধ্যে গর্তের মতো নালাপথ রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে গলফ গ্রাউন্ডে চলে এসেছি।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন