default-image

১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা শুনে কী আনন্দই না হয়েছিল! জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও এমন আনন্দ হয়নি। তার কিছুদিন পর শুরু হলো লকডাউন, আমার জন্য এই নতুন অভিজ্ঞতাটা মজারই ছিল। রোজ সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শুধু স্কুল, কোচিং, টিউটর থাকত; এরপর বাড়ির কাজ করতে করতে ক্লান্ত ছিলাম আমি। ঠিকমতো আমার ‘বারান্দাকৃষি’ করা হতো না। কথা হতো না অবাক কাব্যের সঙ্গে। নিরঞ্জন ও নির্মলাকে খাবারও দেওয়া হতো না।

এরা আসলে আমার বন্ধু। ‘অবাক কাব্য’ আমার টিয়া পাখির নাম। নিরঞ্জন ও নির্মলা আমার পায়রা। রক্তকরবী ছোট্ট অ্যাকুরিয়ামের গোল্ডফিশটার নাম। ব্যস্ত থাকার জন্য আমি ওদের ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারতাম না। লকডাউনে আমি ওদের বিশেষ যত্ন নিই। আব্বু-আম্মু তাদের কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকত। তারাও এখন আমাদের দুই ভাইবোনকে সময় দিতে পারে। এখন আব্বু আমাকে ও ভাইয়াকে নিয়ে ছাদে হারমোনিয়ামে রোজ বিকেলে রেওয়াজ করে। আমরা চারজনই একসঙ্গে লুডু খেলি। ফুলগাছে রোজ পানি দেই, আগাছা পরিষ্কার করি। আম্মু নতুন নতুন খাবার রান্না করে, আমরা সবাই একসঙ্গে খাই। সময়টা তো ভালোভাবে কাটাতে হবে, তাই না?

তোমরা ভালো থেকো। সুস্থ থেকো।


লেখক : শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণি, টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজ, গাজীপুর

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0