বিজ্ঞাপন
default-image

বিজয়ীদের পথ

প্রশান্ত মহাসাগর আর ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ঘেরা মধ্য আমেরিকান দেশ কোস্টারিকার বুকে আছে আরও একটি নৈসর্গিক সাইকেলবান্ধব সড়ক। অনেকের মতে, ‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ হাইওয়ে’ থেকে এ পথে সাইকেল চালানো সহজ হলেও প্রকৃতপক্ষে এটাও বেশ কঠিন। ২৭০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ সড়কের শুরু হয় বালু আর কাদার ভেতর দিয়ে। এরপর একে একে রেইনফরেস্ট, কফিবীজের বাগান পেরিয়ে দেখা মিলবে বিলুপ্তপ্রায় ইরাজু আগ্নেয়গিরি। প্রতিবছর নভেম্বর মাস নাগাদ তিন দিনব্যাপী এই পথে আয়োজন করা হয় এক বিশাল সাইকেল রেসিং প্রতিযোগিতা। যার নাম ‘La Ruta de los Conquistadores’ যার অর্থ বিজয়ীদের পথ। এ নামেই সড়কটির নামকরণ করে কোস্টারিকার সরকার। ১৬ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রী হুয়ান দে ক্যাভেলন এই পথের সন্ধান বের করেন। এ পথে সাইকেল চালাতে গিয়ে দেখা যাবে সুইজারল্যান্ডের জাতীয় পার্কের কিছু অংশ। শুরুতে জ্যাকো বিচ পেরোনোর পর থেকেই ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে এই পথ। গোটা সড়কটি পার হতে গিয়ে প্রায় ১ হাজার ফুট উঁচুতেও সাইকেল চালাতে হবে সাইক্লিস্টকে। তাই প্রয়োজনমতো অনুশীলন শেষে বেরিয়ে পড়তে পারো এ পথে।

ইউরোপের সেরা পথ—ইউরোভেলো

ইউরোপের আটটি দেশের ভেতর দিয়ে ছুটে চলা এক সাইকেল সড়ক হলো উত্তর সাগরীয় সাইকেল রুট। যার স্থানীয় নাম ইউরোভেলো রুট ১২। সারা পৃথিবীতে রাস্তার নির্দেশনা দেওয়া আছে এমন সবচেয়ে দীর্ঘ পথ হলো এটি। ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটি স্টকল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের শেটল্যান্ড আইল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে ক্রমান্বয়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন হয়ে শেষ হয়েছে নরওয়ের সীমানায়। একবারেই এই পুরো পথে সাইক্লিং করতে যাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কেননা প্রতিটি দেশে ঢুকেই এ সড়কের প্রকৃতি বদলে গেছে তার আপন কারুকার্যে। তাই প্রতিবছর আলাদা আলাদা ঋতুতে সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশে দেখা মেলে সাইক্লিস্টদের।

ওয়েবসাইটে আবেদন শেষে সাইক্লিস্টরা চূড়ান্ত অনুমোদন পাবেন সাইকেল আর কিছু ক্রোন (ডেনমার্ক ও নরওয়ের মুদ্রা) নিয়ে এ পথে পাড়ি জমানোর। এ ছাড়া ইউরোভেলো রুট ১২ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এখানে।

default-image

সাইকেলে ঘুরে সমুদ্র

বিশ্বের সুন্দর সাইকেল চালানোর সড়কগুলোর ভেতরে এটাই হয়তো একমাত্র সড়ক, যেটাতে পরিবারের সবাই মিলে যাওয়া যায়। কেননা জাপানের পশ্চিম সীমান্তে হিরোশিমা শহরের এই ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক। শিমানামি কাইডো নামের এই সাইকেল সড়কটি জাপানের নাগরিকদের সাইকেল চালাতে উৎসাহী করে তোলে। কারণ, সেখানকার মানুষ বিশ্বাস করে যে জাপানে গাড়ির সঙ্গে সমান তাল মিলিয়ে সাইকেল চালানো সম্ভব।

এই রাস্তাটিকে আরও সুন্দর করে সাজাতে সাইকেল চালানোর পাশাপাশি মানুষের হাঁটার জন্যও আলাদা পথ বানানো হয়েছে। এই সড়কে কিছুদূর পরপর সাইকেল ভাড়া নেওয়ার স্ট্যান্ড বসানো আছে। যেখান থেকে কেউ চাইলেই সাইকেল ভাড়া নিয়ে ঘুরে আসতে পারে এই সড়কটিতে। এ পথের সেরা আকর্ষণ হলো জাপানের এক অভ্যন্তরীণ সাগর, সেটো। সমুদ্রের পাশে সাইকেল চালিয়ে প্রকৃতিকে উপভোগ করার এর চেয়ে ভালো উপায় পৃথিবীতে আর বেশি নেই। সড়কের নানা অংশে আছে ছোট ছোট কিছু সেতু। যেগুলো পার হতে হলে সাইক্লিস্টকে সামান্য পরিমাণ টোল দিতে হয়। তাই এ পথে পাড়ি জমানোর আগে পকেটে কিছু পয়সা গুঁজে নিতে পারো। আর সাইকেলে চেপে দেখে আসতে পারো জাপানের এই প্রাকৃতিক নৈসর্গকে।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন