default-image

খুব সকালে সাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয় রাতুল। রোজ সকালে শহর থেকে একটু দূরের পথে ঢুঁ মারা ওর নিত্যদিনের অভ্যাস। তবে এ কদিন টানা রাত জাগতে হচ্ছে। রাতে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প সেরে ঘুমানো আর হয়ে ওঠে না। প্রতিদিনের মতো ভোরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছা হয় ওর। তবে এভাবে সাইকেল চালাতে বেশ ক্লান্ত লাগে রাতুলের। পা ব্যথা, মাথা ঘোরানো আর পেশিতে যন্ত্রণা বেড়ে চলে একটু একটু করে।

রাতুলের মতো সাইকেলভক্ত হয়েও তোমরা অনেকেই এমন সমস্যার সম্মুখীন হও। সাইক্লিস্ট হিসেবে তোমার সুস্থ থাকা কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাইকেল চালানোর সময় তোমার পায়ে অনেক বেশি চাপ পড়ে। তোমার পায়ের পেশিগুলো টানা অনেক বেশি চাপ নেয়। এ জন্য পেশির বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। এটা তুমি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারবে না। দিন শেষে দেখবে, রাতে তোমার পায়ের পেশি ব্যথা করবে। এটাকে বলা হয় ডিওএমএস (DOMS—Delayed Onset Muscle Soreness)। সাইকেল চালানোর ২৪–৪৮ ঘণ্টার ভেতরে তোমার পেশি যদি বিশ্রাম না পায়, তাহলে তীব্র ব্যথা শুরু হবে। সময় এগোতেই এই ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়বে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে তোমার পেশির ভেতরের অংশে ক্ষতিকারক অ্যাসিড জমা হবে, যা তোমার পেশির জন্য বেশ ভয়ংকর।

বিজ্ঞাপন
লক্ষ রাখবে, প্রতিবার সাইকেল চালানোর পর তোমার হৃৎস্পন্দন যেন মাত্রাতিরিক্ত না বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে তুমি অভ্যস্ত হয়ে পড়লে তখন বাড়িয়ে নিতে পারবে তোমার সাইকেলের চাকার গতি।

এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য নির্ধারিত সময় পরপর বিশ্রাম নিতে হবে। তাহলে তোমার পেশি আরও মজবুত হবে। নিয়মিত ঘুমাতে হবে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া চাই। এভাবে নিয়ম মানলে তোমার পেশি যেমন সাইকেল চালানোর পরিশ্রম সহ্য করতে পারবে, তেমন ধীরে ধীরে তোমার পেশি আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। না হলে তোমার পেশির বড় কোনো ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে এটা তোমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেবে।

তবে এই বিশ্রাম কতটুকু হওয়া উচিত? সেটা নির্ভর করবে তোমার বয়স, খাবারের পুষ্টিমান আর তোমার সাইকেল চালানোর ধরন থেকে। এ জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, নিজেকে বারবার পরীক্ষা করা। ধরো, তুমি নিয়মিত ঘুমাও, পরিমাণমতো খাবার খাও আর পানি পান করো। এবার তুমি প্রতিদিন যে পরিমাণ বিশ্রাম নাও, তাতেও যদি তোমার পরদিন সাইকেল চালাতে খারাপ লাগে, তাহলে তোমাকে অবশ্যই বিশ্রাম নেওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন একই রকম দূরত্বে সাইকেল না চালিয়ে, তোমার সক্ষমতা বুঝে একটু কমিয়ে নিতে পারো রাস্তাটা। লক্ষ রাখবে, প্রতিবার সাইকেল চালানোর পর তোমার হৃৎস্পন্দন যেন মাত্রাতিরিক্ত না বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে তুমি অভ্যস্ত হয়ে পড়লে তখন বাড়িয়ে নিতে পারবে তোমার সাইকেলের চাকার গতি। তাই নিজে পুরোপুরি সুস্থ অনুভব না করা পর্যন্ত সাইকেল চালানো উচিত নয়।

default-image

সাইকেল চালানোর পাশাপাশি সপ্তাহে কিছুদিন চাইলে তুমি অন্য কোনো খেলাধুলাও করতে পারো। কিংবা হেঁটেও ঘুরে দেখতে পারো তোমার চারপাশটা। সুযোগ থাকলে সাঁতার কাটতে যেতে পারো। বিভিন্ন দিন আলাদা আলাদা ব্যায়াম করলে তোমার একই পেশিতে অনেক বেশি চাপ পড়বে না। ফলে আলাদা আলাদা ব্যায়ামের জন্য সারা মাসই তোমার সারা শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হবে। ফলে তুমিও সুস্থ থাকবে। সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে সব সময় ঢিলেঢালা নরম কাপড়ের পোশাক পরবে। এতে তোমার শরীরের স্বাভাবিক নড়নে বাধা পড়বে না। এ ছাড়া তোমার পেশিও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে।

সাইকেল চালাতে যেন তোমার নিজের বেশি কষ্ট না হয়, সে জন্য নিজের পাশাপাশি লক্ষ রাখতে হবে সাইকেলটারও। যারা গিয়ার সাইকেল চালাও, রাস্তাভেদে গিয়ার বদলে নিলে পায়ের পেশিতে চাপ কমাতে পারবে। এ ছাড়া চাকায় হাওয়া অনেক কম রেখে সাইকেল চালানো উচিত নয়। এতে তোমার বেশি পরিমাণে শক্তি খরচ করতে হবে। চাইলে সাইকেলের সঙ্গে হ্যান্ড পাম্পারও রাখতে পারো। নিয়মিত সাইকেলের চেইন ও গিয়ার পরিষ্কার রাখলে কম শক্তি খরচ করেই তুমি আর তোমার সাইকেল পাড়ি দিতে পারবে বহুদূরের পথ।

তাই নিজের শরীর আর সাইকেলের ওপর নজরদারি ঠিক রেখে এখনই বেরিয়ে পড়তে পারো নতুন কোনো অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে।

তথ্যসূত্র: বাইকস ইটিসি

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন