পুরোনো বইয়ের দুনিয়া

শীতের দুপুরে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আরাম করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে খেতে হেনরি এলিয়টের লেখা দ্য পেঙ্গুইন ক্ল্যাসিক বইটা পড়ছিলাম। দারুণ বই। পেঙ্গুইন পৃথিবীখ্যাত প্রকাশনা, তাদের ক্ল্যাসিক বইগুলো নিয়ে লেখা বই। পড়তে পড়তে পাশে রাখা ট্যাবে নোট করে রাখছিলাম যে ওই বইতে বলা কোন কোন বই কেনা যায়। ট্যাবে নোট করছিলাম, এম আর জেমসের দ্য কমপ্লিট গোস্ট স্টোরিজ অব এম আর জেমস জোগাড় করতে হবে। এই লেখকের ভূতের গল্প দারুণ। চার্লস ডিকেন্সের আ ক্রিস্টমাস ক্যারোল পড়েছি আগে; এখানে দেখছি, তাঁর ক্রিস্টমাস ক্যারোলসহ বড়দিন নিয়ে আরও নানান লেখা একত্র করে একটা বই আছে; নাম আ ক্রিস্টমাস ক্যারোল অ্যান্ড আদার ক্রিস্টমাস রাইটিং। এই বইটাও পেলে মন্দ হয় না।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর দারুণ বইটার আমেজে যখন বুঁদ হয়ে আছি, তখন বেরসিকের মতো ‘ক্যাঁ ক্যাঁ’ করে দরজার বেলটা বেজে উঠল। মুশকিল। এই ভরদুপুরে আবার কোন হতভাগা হাজির হলো আমার আরামটাকে হারাম করতে? আমার বিশাল বপুটাকে কোনোমতে হাঁচড়ে-পাঁচড়ে বিছানা থেকে নামিয়ে মনের ভেতর শত রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলে যে মহাশয়ের দেখা মিলল, তাকে দেখে মেজাজ ঠান্ডা হবে কি, আমার প্রায় টাক মাথাটা আরও গরম হয়ে গেল—এ তো দেখি জলজ্যান্ত মুশকিল!

পাশের বিল্ডিংয়ের সামিন হাজির। ক্লাস সিক্সে পড়ে, চেহারা দেখলে মনে হয় ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। কিন্তু ভেতরে–ভেতরে হাড়বজ্জাত। ব্যাটা ধুরন্ধর বইচোর। আমার টিনটিন–এর চারটি কমিকস খুঁজে পাচ্ছি না, নির্ঘাত ও–ই সরিয়েছে। বয়সে আর বপুতে আমার তুলনায় এক রত্তি হলে কী হবে, আমাকে ভজিয়ে-ভাজিয়ে হোক, চোখে ধুলো দিয়ে হোক, যতবার আসবে, ততবার আমার কোনো না কোনো বই হারাবেই। তার ওপর মুশকিল হয়েছে যে একবার ওর মাকে এ ব্যাপারে বিচার দিতে তিনি তো হেসেই অস্থির। বললেন, ‘কী যে বলেন না ওসমান ভাই, ও হলো আপনার ছেলের বয়সী! আর আপনি কিনা বাচ্চাদের মতো ওর নামে নালিশ দিতে এসেছেন!’ এমন কথার পর আর কী বলবার থাকে একজন ভদ্রলোকের? চুপচাপ মুখ চুন করে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। এতটাই মন খারাপ হয়েছিল যে আমি যেখানে ওজন কমাবার জন্য রাতে ভাত না খেয়ে ঘিয়ে ভাজা মাত্র চারটি পরোটা খাই ডিম আর মুরগি ভুনা দিয়ে, সেদিন মাত্র দুটি পরোটা খেয়ে শুয়ে পড়ি। এমনকি বেদম মজার বই রাহাত খানের লেখা দিলুর গল্প অর্ধেক পড়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম ওই দিন, এতটাই মন খারাপ হয়েছিল!

আমি মুখ চুন করে বলি, ‘কী চাই?’ সামিন তো মহা ধুরন্ধর, সে তো আমার দুর্বল জায়গা জানেই, তাই বলে, ‘আঙ্কেল, আপনি না বলেছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের নীলক্ষেতে একটা দারুণ পুরোনো বইয়ের জায়গা আছে। আপনি ফ্রি থাকলে আমাকে নিয়ে যাবেন ওখানে আজ? আমার খুব যাওয়ার ইচ্ছা। মাকে বলেছিলাম, মা বললেন, তোর ওসমান আঙ্কেলকে নিয়ে যা।’ বলা বাহুল্য, আমি গলে গেলাম মুহূর্তে! এই পাড়ার সব্বাই জানে যে যদি কেউ আমাকে বলে, তোমাকে সাত বছর জেলে বন্দী থাকতে হবে, তার বিনিময়ে তোমাকে পুরো দুটি দিন নীলক্ষেতের বইপত্র ঘাঁটতে দেওয়া হবে, তবে আমি হাসিমুখে জেলে চলে যাব!

তাই সুড়সুড় করে রেডি হয়ে সামিন আর আমি রিকশায় চেপে বিকেলের আগেই হাজির হয়ে গেলাম নীলক্ষেত, থামলাম থানার পাশে। ওখান থেকেই নীলক্ষেতের বিখ্যাত ফুটপাত। ওই ফুটপাত অবশ্য আজকাল মোবাইল চার্জার, হেডফোন, ফলফলারি, ওয়ালেট, নোটখাতা, কলম, সাবান-শ্যাম্পুতে ছেয়ে গেছে; কিন্তু, বইপত্রের স্তূপ এখনো যা আছে, তা ঘেঁটে এক জীবন কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব।

হাঁটা আরম্ভ করি।

সামিনকে বলি, ‘সামিন, পাইরেটেড বই কাকে বলে জানো তুমি? লেখক-প্রকাশকের অনুমতি না নিয়ে, যেমন ইচ্ছা বই ছাপিয়ে বিক্রি করাকে বলে পাইরেসি। এতে যে লেখক অনেক কষ্ট করে একটা বই লেখেন, যে প্রকাশক অনেক খরচ করে একটা বই ছাপান, তারা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হন। নীলক্ষেতে ওই ধরনের বইয়ের ছড়াছড়ি। মনে হবে, এত কম দামে পাচ্ছি, কিনেই ফেলি। কিন্তু এটা কখনোই করা উচিত না। বরঞ্চ, একটু ধৈর্য ধরে ঘাঁটাঘাঁটি করলে তুমি যে বইটা খুঁজছ, সেটার অরিজিনালটারই পুরোনো কপি পেয়ে যাবে, কম দামেই। সেটাই কেনা উচিত।’

সামিন আমার কথা শুনতে শুনতে বই দেখছিল। সে বলল, ‘তা না হয় না কিনলাম। কিন্তু এই গাদা গাদা করে রাখা বইয়ের ভিড়ে আমি যে বইটা খুঁজছি, সেটা খুঁজে পাব কী করে?’

আমি হেসে জবাব দিই, ‘এটা একটু মুশকিল। পুরোনো বইয়ের দুনিয়াই এমন। এলোমেলো থাকাটাই যেন এর সৌন্দর্য।’

‘মানে?’

‘মানে হলো, ধরো তুমি নোবেলজয়ী লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের গ্রিন হিলস অব আফ্রিকা বইটি কিনতে এসেছ। ঘাঁটাঘাঁটি করছ, পাচ্ছ না। একপর্যায়ে দোকানদার মামা জানাল, ওই বইটা মনে হয় নেই, কিন্তু ওই লেখকের আরেকটা বই আছে। তিনি বইটা বের করে দেখালেন। ওই লেখকের আরেকটা বই, নাম দ্য স্নোস অব কিলিমাঞ্জারো। কিলিমাঞ্জারো নামটা ভূগোল বইয়ের সুবাদে তোমার জানা, কিলিমাঞ্জারো হলো আফ্রিকার সবচেয়ে উঁচু পর্বতমালা। তুমি ওই বইটা কিনে আনলে এবং পড়া শেষ করে বুঝলে, তোমার পুরো পয়সা উশুল। আবার নীলক্ষেতের বই দোকানি মামারা খুব একটা উঁচু ক্লাস পর্যন্ত পড়াশোনা না করলেও বই নিয়ে তাদের স্মৃতিশক্তি বেশির ভাগ সময় অসাধারণ। তুমি, খুঁজে না পেলে কী হবে, ওনার কাছে যদি বইটা থাকে, তাহলে কী এক জাদুমন্ত্রবলে হাজার হাজার বইয়ের নিচ থেকে তিনি ঠিক বইটা খুঁজে বের করে ফেলেন।’

আমি বিষয়টার একটা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন দেখানোর জন্য থানার ঠিক পাশেই মোজার দোকানের পাশে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসা দোকানিকে বলি, ‘ভাই, বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড় বইটা হবে?

তিনি আমার চেনা, তাই একটু হেসে বলেন, ‘পাইরেটেড কপি তো হাজারে হাজারে আছে; কিন্তু আপনি তো আবার ওইগুলা নেবেন না। তা কোন এডিশন হইলে হবে আপনার? বাংলাদেশি নাকি কলকাতার?’

‘একটা হলেই হবে, শুধু খুব বেশি ছেঁড়া না হলেই হয়।’

‘একটু খাড়ান।’ বলে, এক ছুটে কোথায় উধাও, একটু পর হাসিমুখে হাজির, ‘এই যে গোডাউনে ছিল। ফ্রেশ আছে। কলকাতার এডিশন।’

বইটা পড়েনি সামিন, কিন্তু নামটা ওর আগেই জানা। তার ওপর দোকানির এই বই খুঁজে দেওয়ার ক্ষমতা দেখে তো সে রীতিমতো মুগ্ধ। সে বইটা কিনতে চায়। অনেক দামাদামি করে বইটা কিনি, ৬০ টাকায়। কলকাতার সিগনেট প্রেসে ছাপা, দারুণ সব ছবি ভেতরে।

সামিন বইটা উল্টে দেখে বলে, ‘আরে আঙ্কেল দেখেন, ভেতরে কী জানি লেখা বইটায়!’

আমি দেখি, ওতে লেখা ‘সাকিবের দ্বাদশ জন্মদিনে, অনেক আদর ও শুভকামনা।—বড় চাচা, ২০১২।’

আমি একটু হেসে বলি, ‘পুরোনো বইয়ের এই আরেক মজা। অনেক রকম লেখা মেলে ভেতরে। কোনোটা মজার, কোনোটা মন খারাপ করা। এমনকি কখনো কখনো অনেক পুরোনো চিঠিও পেয়েছি আমি বইয়ের ভেতরে।’

‘বাহ্! এটা তো দারুণ ব্যাপার!’ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে সামিন।

‘শুধু কি তাই, বড় বড় লেখকের অটোগ্রাফ দেওয়া বইও মিলে যায় মাঝেমধ্যে। যেমন আমি পেয়েছিলাম, ইমদাদুল হোক মিলন একটা বই উপহার দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদকে!’

‘বলেন কী? এটা তো রীতিমতো ঐতিহাসিক ব্যাপার!’

‘তা বলতে পারো, তবে, যদি ওই অটোগ্রাফ দোকানদারের চোখে পড়ে যায়, তাহলে সে অনেক দাম হাঁকে ওই বইটার। তখন তো ওই বইটা আর নিছক পুরোনো কোনো বই নয়, ওটার মূল্য আলাদা। তবে ‘বই সংগ্রাহক’ আর ‘বই পাঠক’ সাধারণত দুই ঘরানার মানুষ: সংগ্রাহকেরা খোঁজেন প্রাচীন, প্রথম সংস্করণ, লেখকের স্বাক্ষর আছে—এমন সব বই। তারা ওর জন্য বেশি দাম দেন। আবার যারা পাঠক, তারা খোঁজেন কম দামে ভালো বই, এডিশন-স্বাক্ষর তাঁদের কাছে মুখ্য নয়। অনেক সময় এই সংগ্রাহকদের চাহিদার কারণে পুরোনো বইয়ের দাম অনেক বেড়ে যায় বলে, যারা কম দামে বই কেনার পাঠক, তারা বড্ড বিরক্ত হন। এই দুই দলের মধ্যে খুনসুটি চলে।’

‘মজা তো!’ হাসতে হাসতে বলে সামিন।

আমরা বই দেখতে দেখতে হাঁটি ফুটপাত ধরে। মূল মার্কেটটা দেখাই সামিনকে। নড়বড়ে একতলা মার্কেট, কিন্তু আকারে বিশাল। কম্পিউটার, স্টেশনারি, ছাপাখানা, বাঁধাই এসব দোকানের সংখ্যা অগুনতি হলেও বইয়ের দোকানও অনেক। বেশির ভাগ যদিও পাঠ্যবই, কিংবা চাকরির পরীক্ষার বই—তার মধ্যেও গল্প-উপন্যাসের বইও একদম কম না। বেশ কটাই আছে। তবে মার্কেটের গলিঘুপচির মধ্যে ওই দোকানগুলো খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

সামিনকে বলি, ‘আমি এত এত আসি এখানে, কিন্তু এখনো গলি চিনতে ভুল হয়ে যায় আমার। এক দিনে পুরোটা দেখা কঠিন, তার চেয়ে চলো তোমাকে আজ ম্যাগাজিন গলিটা দেখিয়ে আনি।’

‘ম্যাগাজিন গলি? মানে?’ জিজ্ঞেস করে সামিন।

‘আসলে নীলক্ষেতের একেকটা গলি একেক নামে চেনে লোকে। কোনোটা কোনো একজন পুরোনো দোকানির নামে, কোনোটা কোনো দোকানের নাম, আবার কোনোটা ওই গলির বিশেষত্ব ধরে। যেমন ম্যাগাজিন গলির দোকানগুলোতে একসময় প্রচুর বিদেশি ম্যাগাজিন পাওয়া যেত বলে, ওটার নামই হয়ে গেছে ম্যাগাজিন গলি। এখন আর আগের মতো অত ম্যাগাজিন পাওয়া যায় না ওখানে, কিন্তু নামটা রয়ে গেছে।’

‘ম্যাগাজিন যদি অত না–ই পাওয়া যায় এখন, তবে আর ওখানে যাব কেন?’

‘আরে, এখনো যা পাওয়া যায়, সেটিও অনেক। বিশেষ করে বিদেশি বই আর ম্যাগাজিনের সংগ্রহ ওই গলিতে, আর গলির সামনের সারির দোকানগুলোতে এখনো বেশ ভালো। বিদেশি বইয়ের দাম তো এমনিতে বেশি, তাই ওখানে ঘুরঘুর করলে মাঝেমধ্যেই কিছু মণিমুক্তা মিলে যায়। তবে ইদানীং ওদের বইয়ের দামও বাড়তি। কিন্তু দুর্লভ, এখন ছাপা নেই কিংবা অনেক বেশি দামি বইয়ের জন্য ওই গলি এখনো দারুণ। যেমন টি জি এইচ জেমসের লেখা দারুণ দারুণ ছবিসহ মিসরীয় ফারাও তুতেন খামেনের ওপর একটা বই আছে। বিশাল আকারের বই। এক বন্ধুর মামাবাড়িতে দেখেছিলাম, বেশ কয়েক বছর আগে। সেই থেকে বইটার খোঁজে ছিলাম। কিন্তু দেশের কোথাও পাই না। বিদেশের অনলাইনে বইটার দাম আকাশচুম্বী। তাই তক্কে তক্কে ছিলাম, আর সেই অপেক্ষার পুরস্কারও পেলাম—গত মাসে পেয়ে গেছি বইটা, দাম এখানেও কম না নিতান্ত, কিন্তু নতুন বইটার তুলনায় তো অনেক অনেক সস্তা।’

এসব কথা বলতে বলতে ম্যাগাজিন গলিতে গিয়ে হাজির হয়েছি আমরা। সামিনের মুখটা ঝলমলে হয়ে গেল পৌঁছানোমাত্রই। ও তার পছন্দের আর্চিজ কমিক পেয়ে গেছে। এমনিতে দাম বেশি বলে নতুনগুলো খুব একটা কিনতে পারে না, কিন্তু ওখানে পুরোনো আর্চিজগুলো সস্তায় পেয়ে ও তো মহা খুশি। বইগুলো একটু মলিন, কিন্তু তাতে তো পড়ায় কোনো অসুবিধা হবে না—এই ভেবেই সামিন মহা খুশি।

আমি, ওই যে দুইটা বইয়ের তালিকা করেছিলাম, সে দুটি অনেক খুঁজেও পেলাম না; তবে এম আর জেমসের দ্য কমপ্লিট গোস্ট স্টোরিস অব এম আর জেমস খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম, এভরিম্যানস পকেট ক্ল্যাসিকস সিরিজের গোস্ট স্টোরিজ। এই বই আগে দেখেছিলাম, একটি বইয়ের দোকানে, অনেক দাম বলে কেনা হয়নি, আজ ওই বইটার পুরোনো একটা কপি এখানে পেয়ে গিয়ে মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠল। আর ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’ পত্রিকার একটা পুরোনো সংখ্যাও পেয়ে গেলাম—এই ম্যাগাজিনগুলোর ছবিগুলো এত সুন্দর যে এমনিতেই তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে।

মন ভরে বইপত্তর কিনে ফুটপাত লাগোয়া দোকান থেকে গরম–গরম জিলাপি খেয়েদেয়ে দুজনে রিকশায় চেপে বসলাম বাড়ির পথে। বললাম, ‘বুঝলে সামিন, যদি অনেক পুরোনো কোনো বই কখনো পেয়ে যাও কিংবা কোনো বিখ্যাত লেখকের অটোগ্রাফসহ প্রথম সংস্করণ বা এমন কিছু, তাহলে ওগুলো কিন্তু নিলামে তুলে, লাখ টাকাতেও বিক্রি করা যায়। বিদেশে এমন নিলাম অহরহ হচ্ছে।’

গল্প করতে করতে বাড়িতে পৌঁছে গেছি।

বাড়িতে পেঁয়াজুভাজা হচ্ছিল। টুপটাপ কয়েকটা মুখে পুরে সামিন বলল, ‘আজ আসি আঙ্কেল, আবার আপনার সাথে নীলক্ষেত যাব একদিন।’

‘নিশ্চয়’, বলে হাসিমুখে বিদায় জানাই ওকে।

তারপর, আজকের কেনা ভূতের বইটা আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকটা আরাম করে পড়ব বলে মনস্থির যে–ই করেছি, তখনি খেয়াল করলাম, যে ভূতের বইটা আছে বটে কিন্তু ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকটা হওয়া!

অর্থাৎ সামিন, তার ‘সুনাম’ অক্ষুণ্ণ রেখেছে! আমার চোখে ধুলো দিয়ে, কোন ফাঁকে ওর বইয়ের প্যাকেটটায় ঢুকিয়ে সুড়ুৎ করে কেটে পড়েছে!

কী আর করা! ভূতের বইটা হাতে নিয়ে পড়তে বসি। সামিনকে মাফ করে দিই মনে মনে। ওর সুবাদেই তো আজ নীলক্ষেতে যাওয়া হলো, আর পেয়ে গেলাম এই বই।

পুরোনো বইয়ের গন্ধে মনটা ভালো হয়ে যায় আমার।

যদি ধুলায় অ্যালার্জি না থাকে, তবে বইয়ের এই গন্ধটার কোনো তুলনা হয় না!