জেনে ভুল করি না জেনেও

এক.

কাঠফাটা রোদ থোড়াই পরোয়া করে ফুটবল নিয়ে নেমে গেল একদল কিশোর। সারা মাঠ দাবড়ে বেড়ানো হলো। একটা সময় খেলাও শেষ হলো। খেলার সঙ্গে সঙ্গে দমও ফুরিয়ে এসেছে। গলা শুকিয়ে তখন কাঠ। তৃষ্ণায় গলা ভেজাতে ঢকঢক করে অনেকেই খেয়ে ফেলে কোমল পানীয়। কিংবা বরফঠান্ডা পানি। এ তো আমরা হররোজ করছিই। তীব্র গরমে ঘেমে সঙ্গেই সঙ্গেই বরফঠান্ডা পানি খাওয়া কিন্তু একদমই ঠিক নয়। এই কৃত্রিম ঠান্ডা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় দ্রুত তারতম্য তৈরি করে। এ কারণে অনেকেরই গলাব্যথাসহ সর্দি-কাশিতে ভোগার ঝুঁকি থাকে।

দুই.

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পকেটে টাকা রাখতেই হয়। কাজে-অকাজে সারা দিনই টাকাপয়সা হাত-বেহাত হয়। রিকশা কিংবা বাসের ভাড়া মেটাতেও ‘মামা’দের কাছে লেনদেন হয় টাকার। বারবার হাতবদলে টাকা কিন্তু জীবাণুতে ভরপুর হয়ে থাকে। তার পরও পরম যত্নে টাকাগুলো কখনো হাতে নিয়ে খেলছি। নিজের অজান্তে পয়সায় কামড় বসিয়ে দিচ্ছি।

টাকাপয়সায় লেগে থাকা রোগ-জীবাণু হাত থেকে মুখে যাচ্ছে হরহামেশা। আর যদি কামড়ানোর অভ্যাস থাকে টাকাপয়সায়, তাহলে তো কথাই নেই; রোগবালাই লেগেই থাকবে সব সময়।

তিন.

যারা গ্রামে বড় হয়েছ, তারা জানো, একটা সময় গ্রামের স্কুলের মাস্টাররা খুব দুষ্টু ছাত্রদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতেন। হাতে ইট নিয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকাটা ছিল একধরনের শাস্তির অংশ। এখন তো শাস্তির ব্যাপারটা স্কুল থেকে উঠে গেছে। কিন্তু সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোটা কি বন্ধ হয়েছে? সত্যি কথা বলতে কি, খেলার ছলে কিংবা বাজি ধরে কে কতটা সময় সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারবে, এমন খেলা মাঝেমধ্যে আমরা খেলছি কিন্তু। এটা চোখের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কখনো কখনো চোখের রেটিনা প্রচণ্ড উত্তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্ধ হয়ে যাওয়াটাও বিচিত্র কিছু নয়।

চার.

অনেকেরই পশুপাখি পোষার শখ থাকে। সাধ মেটাতে অনেকে ফেসবুকে ভার্চুয়াল একটা পেট (পোষা) রাখে। কিন্তু যাদের বাড়িতে বেশ জায়গা থাকে আর সামর্থ্য থাকে, মা-বাবা কখনো কখনো তাদের কিনে দেন প্রিয় পশুটি। তারপর বিস্তর ঝক্কি। পশুটিকে গোসল করাতে হয়, প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়াতে হয়। ময়লা পরিষ্কারও করতে হয় নিয়মিত। প্রিয় পশুটি ঘরময় চরে বেড়ায়। পশুদের মলে ও গায়ে থাকে কৃমির জীবাণু। এ থেকে সহজেই পরিবারের সদস্যরা কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া পোষা পশুপাখি বিস্তর রোগ ছড়াতে পারে। তাই প্রয়োজনে পশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারো।

পাঁচ.

কম্পিউটারে গেম খেলতে বসলে তো সময়ের ব্যাপারে হুঁশ থাকে না। একটানা চলতেই থাকে। ছুটির দিনগুলোয় খেলতে বসলে মা-বাবাও তেমন একটা বিরক্ত হন না। কিন্তু একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। তাই নিজের দেখভাল নিজেকেই করতে হবে। টানা কম্পিউটারের সামনে বসে না থেকে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর খানিকটা অন্য কাজ করে আসো। খানিকটা বিরতি দিয়ে আবার পূর্ণোদ্যমে বসে যেতে পারো কম্পিউটারের সামনে। এভাবে অভ্যাস গড়ো, চোখ ভালো থাকবে আবার মেরুদণ্ডের রোগেও ভুগতে হবে না।

ছয়.

রাস্তায় খোলা ডাস্টবিন তো আমরা নিত্যদিনই দেখি। ভাগাড় থেকে ময়লা উপচে পড়ে রাস্তায়। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় উত্কট গন্ধ লাগে নাকে। নাক-মুখ চেপে ধরে দ্রুত হেঁটে যায় কেউ কেউ। আবার কেউ শুধু নাক চেপে, মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে নিতে দিব্যি হেলেদুলে হেঁটে যায়। খোলা ডাস্টবিন এড়িয়ে চলা উচিত। সম্ভব না হলে ব্যাগে সার্জিক্যাল মাস্ক রাখতে পারো। প্রয়োজনে পরে নেবে। মাস্কগুলো কিন্তু খুব সস্তাও। আর ময়লা-আবর্জনার কাছ দিয়ে হাঁটার সময় মুখ না খোলাই ভালো। শরীরে রোগ-জীবাণু ঢোকার জন্য মুখের চেয়ে ভালো পথ কিন্তু আর নেই!

সাত.

পুকুর, সুইমিংপুল, নদী কিংবা যেকোনো জলাধারেই সাঁতার কাটার সময় কানে পানি যেতে পারে। আবার বাথরুমে গোসল করার সময়ও কানে পানি ঢোকা বিরল ঘটনা নয়। অনেকেই কাঠি দিয়ে বেশ খোঁচাখুঁচিও করে। এই অভ্যাস কিন্তু ছাড়তে হবে। জেনে রাখো, পরিষ্কার পানি কানে ঢুকলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। নোংরা পানি অন্তঃকর্ণে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কান থেকে পানি বের করতে মাথা হেলিয়ে খানিকক্ষণ লাফ দাও, বেরিয়ে আসবে। আর যদি না আসে, কটন বাড দিয়ে আস্তে করে পানি বের করে আনেতে পারো। তার পরও যদি বের না হয়, নিজে আর না খুঁচিয়ে নাক, কান, গলাবিশেষজ্ঞের কাছে যাও।

আট.

কতশতভাবে যে চোখে ময়লা পড়ে, তার কি আর বলা-কওয়া আছে। চোখে ময়লা পড়লেই চট করে চোখটা রগড়ে দিই আমরা। কেউ দেয় ফুঁ, আবার কেউ চোখটা কচলাতেই থাকে। কখনো জামা-কাপড় দিয়েও বিস্তর ঘষামাজা চলে। চোখে ময়লা পড়লে অস্থির হওয়া চলবে না। আশপাশে পানি পাওয়া গেলে বেশি করে পানির ঝাপটা দাও প্রথমে। আর সেটি যাদি না হয়, পারিষ্কার কাপড় কিংবা রুমাল দিয়ে, অন্য কারও সাহায্য নিয়ে আস্তে ময়লাটা বের করে আনলে ভালো।