জানা-অজানা অগণিত গল্প দিয়ে সাজানো ইতিহাসের প্রতিটি পাতা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গল্পগুলো আমাদের মনে থাকলেও কত গল্পই তো দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়। আজ ১১ মার্চ ২০২৪। বছরের এই দিনে উল্লেখযোগ্য কী কী ঘটেছিল, যা আমরা অনেকেই জানি না? ইতিহাসের পাতা থেকে চলো একবার চোখ বুলিয়ে আসা যাক!
‘রাষ্ট্রভাষা’ শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে পড়ে বায়ান্নর কথা। কিন্তু তোমরা কি জানো বাংলা নিয়ে যুদ্ধটা এর অনেক আগেই শুরু হয়েছে? ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে বলা হয় ‘প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস’। বায়ান্নর যে রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন, তার সূতিকাগার বলা হয় এই দিনকে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল ছাত্রজনতা। শুধু ঢাকা নয়, পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে এই দিন পালিত হয় হরতাল ও ছাত্র ধর্মঘট। তবে মূল ঘটনা ঘটেছিল শহরজুড়েই।
২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে সরকারি কাজে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে ব্যবহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তবে এরপরই পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধিতায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। তবে এ ঘটনা মোটেই সহজভাবে নেয়নি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ। প্রতিক্রিয়া হিসেবে কয়েক দফায় রাজপথে নামে ছাত্রজনতা। ২ মার্চ তমদ্দুন মজলিস ও মুসলিম ছাত্রসমাজের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শামসুল হককে আহ্বায়ক করে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। সেই সভায় ১১ মার্চ সারা দেশে ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আসে সেই দিন। পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ও আন্দোলন কর্মসূচি করে। মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে এই ধর্মঘট চলে ১৫ তারিখ অবধি। তীব্র আন্দোলনের পাকিস্তানের খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আটটি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল তমদ্দুন মজলিস ও পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। এরপর ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সাল অবধি ১১ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ পালিত হয়।