আমি এখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। আমার চোখের পাওয়ার -১.৭৫। মাঝেমধ্যে মনে হয়, ইশ্! এই চশমা নামের বোঝাটা ছেড়ে যদি কোথাও যেতে পারতাম!
ছোটবেলায় অনেক মানুষকে চশমা পরতে দেখতাম। দাদু-নানু তো ছিলেনই, এমনকি স্কুলের বন্ধুদের মধ্যেও অনেকে চশমা পরত। মাঝেমধ্যে আমারও চশমা পরতে ইচ্ছা করত। মনে হতো, স্কুলের শিক্ষকেরা, বিজ্ঞানীরা যেহেতু বেশির ভাগই চশমা পরেন, তার মানে হয়তো সব বুদ্ধিমান মানুষই চশমা পরেন! আমার আপু নিজের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বড় একটা ফ্রেমের চশমা কিনেছিল। সেই চশমা আমি বারবার পরে দেখতাম, তবে সবার সামনে নয়। লুকিয়ে লুকিয়ে পরতে হতো। কারণ, সবার সামনে পরলেই বকা খেতে হতো, ‘চোখ নষ্ট হয়ে যাবে তো! পাওয়ারওয়ালা চশমা কেন পরছিস?’
তখন মনে হতো, আমাকে চশমায় না জানি কত সুন্দর লাগে!
কিছুদিন পর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলাম। সামনে পিইসি পরীক্ষা, তাই পড়ালেখার চাপও একটু বাড়ল। আমি আবার শব্দের মধ্যে পড়তে পারি না। তাই রাত জেগে পড়াশোনা করতাম। স্কুলের বোর্ডে স্যার-ম্যাডামরা অনেক ছোট ছোট করে অনেক অঙ্ক করাতেন। সেগুলো দেখতে খুব কষ্ট হতো। তার ওপর অনলাইন ক্লাস, টেলিভিশনে সিনেমা দেখা, এসব তো ছিলই।
এক দিন, দুই দিন, তিন দিন...কিন্তু চোখ আর কত দিন এমন অত্যাচার সহ্য করবে?
হ্যাঁ, আমার চোখেরও পাওয়ার কমে গেল। আম্মুকে অনেকবার বলেছি, আমি এখন আগের মতো দূরের জিনিস ভালো দেখতে পাই না। কিন্তু আম্মু ভাবতেন, হয়তো ফ্যাশন করার জন্য চশমা কিনতে চাইছি। এসব শুধুই বাহানা। আম্মুকে বোঝাতেই পারছিলাম না যে আমার সত্যিই সমস্যা হচ্ছে। দেখতে দেখতে এক বছর কেটে গেল। চোখের পাওয়ার -০.৭৫ থেকে -১.০০ হয়ে গেল। অবশেষে হাসপাতালে যাওয়ার পর ডাক্তার বললেন, আমার চশমা ব্যবহার করা প্রয়োজন।
চশমা কিনে বাসায় ফেরার সময় একটু খুশি লাগছিল। কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ লাগছিল। আমার চোখটা নষ্ট হয়ে গেল!
আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে আমি আর খালি চোখে আগের মতো দেখতে পারব না। সব সময় চশমা পরে থাকতে হবে। হ্যাঁ, বুঝলাম, এই যুগে চোখের পাওয়ারের সমস্যা খুবই সাধারণ। কিন্তু তবু?
আমি: আপু! ঘুমাচ্ছ? আমি কোচিংয়ে যাব। কিন্তু আমার চশমাটা কোথায় রেখেছি, খুঁজে পাচ্ছি না। তোমার চশমাটা নিয়ে যাই?
আপু: দুই ঘণ্টার মধ্যে যদি ফিরে আসতে পারিস, তাহলে নিয়ে যা।
আমি: আচ্ছা! ধন্যবাদ।
লেখক: শিক্ষার্থী, সপ্তম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ