ঘুম ভাঙতে এত দেরি কেন?

বন্ধুরা হাসাহাসি করে বলল, ‘তোমার ঘুম ভাঙতে এত দেরি কেন?’মডেল: অ্যাঞ্জেলা, ছবি: সুমন ইউসুফ

প্রতিদিন সকালে যে আওয়াজটি শুনে আমার ঘুম ভাঙে, তা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর শব্দ—অ্যালার্ম ঘড়ির কর্কশ চিৎকার! মনে হয় যেন কোনো দুষ্টু ভিলেনের অট্টহাসি! আমার শান্ত, মিষ্টি ঘুম চুরমার হয়ে যায়, আর শুরু হয় আমার ‘সকালের মিশন’।

আমার বিছানাটা যদি এক মায়াবী মেঘের দেশ হয়, অ্যালার্ম ঘড়ি হলো সেই রাজ্যে হঠাৎ হানা দেওয়া এক যমদূত। আমি চোখ না খুলেই হাত বাড়িয়ে এদিক-ওদিক ফোনটা হাতড়াই। অনেক সময় ফোনটা গিয়ে পড়ে বালিশের নিচে, আর তখন মনে হয় তুলার মধ্যে আটকে থাকা কোনো ভূতের গোঙানি শুনছি! কোনোমতে সেটাকে খুঁজে বের করে ‘স্নুজ’ বাটনটা টিপে আবার দুচোখের পাতা এক করার যে স্বর্গীয় সুখ, সেটা পৃথিবীর আর কিছুতে নেই।

একদিন স্কুলের স্পোর্টস ছিল। ভোর ৫টায় অ্যালার্ম দিলাম, যেন ঠিক সময়ে মাঠে পৌঁছাতে পারি। কিন্তু কী কাণ্ড! ঠিক ৫টায় ঘড়িটা বাজতে বাজতে বলল, ‘সময় শেষ!’ আমি ভাবলাম, বাহ্‌! এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল? যাকগে, বলে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।

আরও পড়ুন

এরপর যখন ঘুম ভাঙল, তখন ঘড়িতে সকাল ৯টা। ততক্ষণে স্পোর্টসের সব মজার ইভেন্ট শেষ! মা–বাবার বকা তো খেলামই, সেই সঙ্গে বন্ধুরা হাসাহাসি করে বলল, ‘তোমার ঘুম ভাঙতে এত দেরি কেন?’

তখনই বুঝলাম, আমি ভুল করে অ্যালার্ম না দিয়ে টাইমার সেট করে রেখেছিলাম। টাইমারের কাজ তো বাজানো নয়, কাজটা শেষ হলে জানানো। মোবাইল সেটা জানিয়েছে। তখন মনে হলো, এই অ্যালার্ম ঘড়িটা আসলে ভিলেন নয়, ওটা একটা বার্তাবাহক। ও আমাকে বলছে, ‘ওহে, জীবন শুরু হয়ে গেছে! উঠে পড়ো!’ যদিও প্রতিদিন সকালে ওকে আমি বকা দিই, তবু ও আমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু। কারণ, ও না থাকলে আমার রাজ্যের আসল রাজা, অর্থাৎ আমার পড়াশোনা, খেলা আর আনন্দ সব পিছিয়ে যেত। এটা আমাকে শেখায় যে এমনকি কঠিনতম শত্রুও ছদ্মবেশে ভালো বন্ধু হতে পারে।

তাই এখন আমি ঘুমাতে যাওয়ার আগে অ্যালার্ম ঘড়িটার সঙ্গে একটু মিষ্টি করে কথা বলি। মনে মনে বলি, ‘কাল সকালে কিন্তু খুব জোরে বাজবে না, প্লিজ!’ যদিও ও শোনে না, তবু আমার ভালো লাগে।

আশা করি কিশোর আলোর বন্ধুরা, তোমাদের জীবনেও আমার অ্যালার্ম ঘড়িটার মতো এমন মজার, বোকা বোকা শত্রু আছে, যাদের সঙ্গে লড়াই করে তোমরা প্রতিদিন নতুন অ্যাডভেঞ্চার শুরু করো!

আরও পড়ুন