কার্নিভ্যালে লেখালেখি কর্মশালায় দেশসেরা লেখক, ছড়াকার ও নির্মাতারা

বাঁ থেকে, সঞ্চালক আনিসুল হক, ছড়াকার আখতার হুসেন, বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার, নির্মাতা রেদওয়ান রনি, লেখক শিবব্রত বর্মন, কথাসাহিত্যিক তানজিনা হোসেন, ও ছড়াকার রমজান মাহমুদছবি: রিফাত হাসান

এবারের কিআ কার্নিভ্যাল ২০২৬-এ বসেছিল লেখকদের এক চমৎকার আড্ডা। খ্যাতিমান লেখক, নির্মাতা আর ছড়াকারদের উপস্থিতিতে এই আসর তরুণ লেখকদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছিল। লেখক শিবব্রত বর্মন, কথাসাহিত্যিক তানজিনা হোসেন, বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার, নির্মাতা রেদওয়ান রনি থেকে শুরু করে ছড়াকার আখতার হুসেন, রোমেন রায়হান ও রমজান মাহমুদ—কে ছিলেন না এই আড্ডায়! টুকরা টুকরা আলাপে দারুণ কিছু জীবনবোধ আর লেখালেখির কৌশল উঠে এসেছে এ আয়োজনে। সঞ্চালনায় ছিলেন কিআ সম্পাদক আনিসুল হক।

শিবব্রত বর্মন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র হয়েও নিয়মিত ফিকশন বা কল্পকাহিনি লিখছেন
ছবি: রিফাত হাসান

লেখালেখি করার জন্য যে সাহিত্যেরই ছাত্র হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই! রেদওয়ান রনি যেমন বললেন, ‘আমি পড়াশোনা করেছি সিএসইতে, কিন্তু হয়ে গেছি ফিল্মমেকার!’ শিবব্রত বর্মন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র হয়েও নিয়মিত ফিকশন বা কল্পকাহিনি লিখছেন। কথাসাহিত্যিক তানজিনা হোসেন পেশায় একজন চিকিৎসক। কিন্তু কেউ পরিচয় জানতে চাইলে তিনি সবার আগে নিজেকে ‘লেখক’ হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন। অন্যদিকে গণিতের শিক্ষক হয়েও রমজান মাহমুদ চমৎকার ছড়া কাটেন। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি ছড়া কেটে বলেন, ‘আমি রমজান মাহমুদ, ছড়া করি মওজুদ!’

আরও পড়ুন
ছড়াকার আখতার হুসেন উত্তর দিলেন, সবার আগে চাই কল্পনাশক্তি
ছবি: রিফাত হাসান

আড্ডায় অংশগ্রহণকারী মৌমিতা তাসনিম যখন জানতে চাইল, ‘আমরা যা দেখি, সেটা থেকে কীভাবে গল্প বানাতে পারি?’ ছড়াকার আখতার হুসেন উত্তর দিলেন, সবার আগে চাই কল্পনাশক্তি। চারপাশের সাধারণ ঘটনাগুলোকেই কল্পনার মিশেলে গল্পে রূপ দিতে হয়। লেখার আইডিয়া কীভাবে ধরে রাখা যায়, সে বিষয়ে দারুণ কিছু টিপস উঠে আসে এই আড্ডায়। লেখক শিবব্রত বর্মন পকেটে বা ব্যাগে সব সময় একটা নোটখাতা রাখতে বলেন। মাথায় কোনো আইডিয়া এলেই যেন টুপ করে লিখে ফেলা যায়। এই আয়োজনে উপস্থিত সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এক শিক্ষার্থী এই ছোট বয়সেই তিনটি বই লিখে ফেলেছে। রমজান মাহমুদ ছন্দের তাল মেলানোর কৌশল হিসেবে বললেন, ‘তালের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে অনেক বেশি বেশি গল্প, কবিতা ও ছড়া পড়তে হবে।’

ছবি: রিফাত হাসান

চিত্রনাট্য লেখা বা স্ক্রিপ্টিং নিয়ে কথা বলেন রেদওয়ান রনি। সিনেমা বানানোর কারিগরি দিক, যেমন থ্রি-অ্যাক্ট থিওরি, ক্লাইমেক্স বা প্লট টুইস্ট নিয়ে আলোচনা করলেও তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘সিনেমার আসলে কোনো ধরাবাঁধা ফর্মুলা নেই।’ থিওরি যতই পড়া হোক না কেন, দিন শেষে গল্প বলা আর মানুষের কাছে পৌঁছানোটাই আসল।

আরও পড়ুন
বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার
ছবি: রিফাত হাসান

একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করে, ‘আমি চিকিৎসক হতে চাই, আবার লিখতেও পছন্দ করি। কীভাবে আমি পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখির জন্যও সময় বের করতে পারব?’ এর উত্তরে তানজিনা হোসেন দারুণ একটি পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘লেখালেখিটা হলো ভালোবাসার জায়গা। নিজের কাজের সঙ্গে লেখার সমন্বয় করতে হবে। পড়াশোনা বা পেশার চাপে সময় বের করা কঠিন, কিন্তু লেখার প্রতি ভালোবাসা থাকলে তুমি ঠিকই সময় বের করে নিতে পারবে।’ পাশাপাশি তিনি তরুণদের শুদ্ধ করে বাক্য লেখা শিখতে বলেন। সময়ের সঠিক ব্যবহার নিয়ে কিআ সম্পাদক আনিসুল হক কথা বলেন। তিনি নিজের রুটিনের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘রাতের বেলা ঘুমাবা, ভোরবেলা উঠবা, কাজ শেষ করে তারপর বাসা থেকে বের হবা।’

তানজিনা হোসেন দারুণ একটি পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘লেখালেখিটা হলো ভালোবাসার জায়গা। নিজের কাজের সঙ্গে লেখার সমন্বয় করতে হবে। পড়াশোনা বা পেশার চাপে সময় বের করা কঠিন, কিন্তু লেখার প্রতি ভালোবাসা থাকলে তুমি ঠিকই সময় বের করে নিতে পারবে।’
ছবি: রিফাত হাসান

আড্ডায় মজার অনুষঙ্গ হিসেবে উঠে আসে ‘গুড্ডুবুড়া’ প্রসঙ্গ। আনিসুল হক প্রশ্ন রাখেন, মানুষ কেন হাসে? এরপর তিনি নিজেই বলেন, মানুষ সাধারণত তখনই হাসে, যখন অন্য কেউ কোনো ভুল করে বা বোকামি করে। আবার কখনো কখনো খুব অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটলেও মানুষ মজা পায়। আড্ডার শেষ দিকে সবাই মিলে ছন্দে ছন্দে সুনির্মল বসুর বিখ্যাত কবিতা ‘সবার আমি ছাত্র’ আবৃত্তি করেন।

আরও পড়ুন