করোনাকাল

থেমে নেই ক্রিকেটাররা

বিজ্ঞাপন
default-image

২০২০ সালের শুরুতে কত যে পরিকল্পনা করেছিলেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক, সে পরিকল্পনার কথা কিছুটা বলেছিলেনও সাংবাদিকদের, ‘দেশের মাটিতে টেস্টে আমরা ভালো করি, বিদেশেও ধারাবাহিক ভালো করতে চাই।’
তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার—সবারই মুমিনুলের মতো বছরের শুরুতে অনেক পরিকল্পনা ছিল। তাঁদের সব পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিয়েছে সর্বনাশা করোনাভাইরাস। অদৃশ্য এই অতিক্ষুদ্র অণুজীব যে এত বড় দৈত্যে পরিণত হবে, তা কি আর বছরের শুরুতে তাঁরা ভেবেছিলেন? করোনার ধাক্কায় বছরের অর্ধেকটা যেন মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়। বছরের বাকি সময়েও ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নামা হবে কি না, সেটির উত্তর দেওয়ার উপায় নেই এ মুহূর্তে।
গত মার্চে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তোমাদের মতো খেলোয়াড়েরাও ঘরবন্দী। খেলা না থাকলেও ক্রিকেটাররা কিন্তু একেবারে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন না। তোমরা যেমন কেউ কেউ ক্লাস করছ অনলাইনে, কেউ নিজের তাগিদেই পড়া এগিয়ে নিচ্ছ, ক্রিকেটাররাও তা–ই। নিজের কাজটা এগিয়ে রাখছেন, যেন খেলা শুরু হলেই ফিট থেকে ধারাবাহিকভাবে খেলে যেতে পারেন।
এখন যেহেতু মাঠে নেমে অনুশীলনের সুযোগ নেই, ম্যাচ খেলার উপায় নেই, হাত-পা গুটিয়ে থাকলে ফিটনেসে সমস্যা হতে পারে বলে নিয়মিত তাঁরা শরীরচর্চার কাজটা করে যাচ্ছেন। তোমাদের যেমন শিক্ষকেরা অনলাইনে নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও-ট্রেনাররাও অনলাইনে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঠিক রাখতে নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন ও কাজগুলো তদারক করছেন। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছ, তারকা ক্রিকেটাররা প্রায়ই ফেসবুকে নিজেদের ফিটনেস ট্রেনিংয়ের ছবি কিংবা ভিডিও পোস্ট করছেন নিজেদের অফিশিয়াল পেজে।

default-image

মুশফিকুর রহিমের কথাই বলা যাক। করোনাভাইরাসের কারণে খেলা থেমে গেছে কবে থেকে। মুশফিক কিন্তু থেমে নেই। প্রতিদিন ঘড়ি ধরে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেন। ঘরবন্দী থাকতে থাকতে ক্লান্ত মুশফিক অবশ্য মাঝে কয়েক দিন বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন রানিং করতে। দেশে করোনা–পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফিটনেস ট্রেনিং আবার ঘরেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন। যিনি অনুশীলন থেকে দূরে থাকতে পারেন না, ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা যাঁর কাছে সব সময়ই ‘শাস্তি’ মনে হয়; সেই মুশফিক ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে কোনোভাবে কাটিয়ে দিচ্ছেন কঠিন দিনগুলো।
ঘরে আটকা থাকতে থাকতে অনেক সময় তোমাদের মতো একঘেয়েমি পেয়ে বসছে খেলোয়াড়দেরও। সেই একঘেয়েমি কাটাতে লিটন দাস হাতে তুলে নিচ্ছেন রংতুলি। মাহমুদউল্লাহ বানাচ্ছেন পিজ্জা। তামিম আসছেন অনলাইন আড্ডায়। মুশফিক নিয়ম করে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন দুই বছরের সন্তান মায়ানকে। শুধু শখের কাজই নয়, ক্রিকেটাররা পাশে দাঁড়াচ্ছেন করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশেও। ঘরবন্দী সময়টা যে ভালো ভালো কাজ করেও কাটিয়ে দেওয়া যায়, ক্রিকেটাররা তা নিয়মিতই করে দেখাচ্ছেন।

default-image

এই মহামারিতে ক্রিকেটারদের কেউ কেউ আবার আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন কোভিড-১৯ রোগে। মাশরাফি বিন মুর্তজা কিংবা নাজমুল ইসলামকে লড়তে হচ্ছে করোনার সঙ্গে। স্বস্তির খবর, দুজনই দ্রুত সেরে উঠছেন। জেনে থাকবে, খেলোয়াড়দের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সব সময়ই ভালো থাকে। সবার তাই প্রত্যাশা, মাশরাফি-নাজমুলও দ্রুত সেরে উঠবেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মাশরাফি বারবার বলছেন, ঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে। সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। জরুরি না হলে বাসার বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু অফিস চলছে। চলছে গণপরিবহন। মুশফিক তাই বলছেন, নিজের সুরক্ষা নিজের হাতে। নিজে সুরক্ষিত থাকলে পরিবারেরও সুরক্ষা থাকবে।
শুধু কি মুশফিক-মাশরাফি, কয়েক দিন আগে সাকিব আল হাসানের বড় মেয়ে পাঁচ বছরের আলাইনা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবাইকে ভিডিও বার্তায় বলল, ‘হাত ধুতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সুরক্ষাপোশাক পরতে হবে।’
করোনার সঙ্গে যে যুদ্ধ চলছে, সেটিতে জয়ী হতে হবে এভাবেই। কঠিন এ সময়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থেকে ক্রিকেটাররা চাইছেন, করোনাকে হারিয়ে দ্রুত মাঠে ফিরতে। একই চেষ্টা করে যেতে হবে তোমাকেও। করোনাকে হারিয়ে দিতে পারলেই আবার যাওয়া যাবে স্কুলে, যাওয়া যাবে খেলার মাঠে। আবার সাকিব-তামিমদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে গাওয়া যাবে লাল-সবুজের গান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন