বিজ্ঞাপন
default-image

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দেশে যখন হুলুস্থুল অবস্থা, তখন ফুটবল মাঠও এর থেকে দূরে ছিল না। দেশের সব মানুষের সঙ্গে খেলোয়াড়েরাও জীবন বাজি রেখে পাড়ি জমান ভারতে। ভারতে গিয়ে সেখানকার লিগে যোগ দিতে চাইলেও সুযোগ হচ্ছিল না অনেক কারণে। কিন্তু মনের মধ্যে উশখুশ ছিলই কিছু না কিছু করার, যাতে ভারত ও বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামী বার্তা। শেষ পর্যন্ত মাথায় এল, তাঁরা যে জিনিসটা ভালো পারেন, তা–ই করা হোক না কেন? এই চিন্তায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের।

কাজটা এত সহজও ছিল না। বিদেশের মাটিতে খেলতে গেলে দরকার হয় সে দেশের সরকার এবং ফুটবল সংস্থার অনুমোদন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রস্তাব শুনে লুফে নেন, এর থেকে সহজভাবে সবার কাছে মুক্তিযুদ্ধকে পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি কীই–বা হতে পারে? ডাকা হয় খেলোয়াড়দের, ৩৪ সদস্যের দলে অধিনায়ক করা হয় মোহামেডানের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুকে। প্রতাপ শংকর হাজরাকে সহ–অধিনায়ক আর দলের ম্যানেজার হন তানভির মাজহার তান্না। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল নদীয়া জেলা একাদশ।

১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। সেদিনই প্রথম জাতীয় সংগীতের সঙ্গে মাঠে নামে বাংলাদেশের কোনো দল। কিন্তু বেঁকে বসেছিল প্রশাসন, এখনো স্বীকৃতি না পাওয়া দেশের পতাকা ও জাতীয় সংগীত বাজানো কি সম্ভব? নদীয়ার জেলা প্রশাসক ডি কে ঘোষও বেঁকে বসলেন, তাঁর এলাকায় সবই হবে। জাতীয় সংগীতও বাজবে, খেলাও হবে। সেদিন নদীয়ার মাটিতে প্রথম বাজে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। আর শুরু হয় ফুটবল। নদীয়া দলের কাছে ১-২ গোলে হারতে হয়েছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে। কিন্তু সেই হার থেকেই উত্থানের শুরু স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের। পরদিনই কৃষ্ণনগর মাঠে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার অপরাধে চাকরি চলে যায় ডিসির।

এই দলটি ভারতের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি ম্যাচে অংশ নেয়। ফান্ডে উঠে এসেছিল পাঁচ লাখ টাকা। যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের ফুটবলকে চাঙা করতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল কাজ করে। মুক্তিযুদ্ধ শেষেও দলটি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় খেলে দেশের উন্নয়নে অর্থ জোগাড় করে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সর্বশেষ খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় মুম্বাইতে যেখানে মহারাষ্ট্র ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেন ভারতের খ্যাতনামা সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক নবাব মনসুর আলী খান পতৌদি।

বোবানের লাথি ও ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধ

১৫ জুলাই ২০১৮, রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যখন ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় সংগীতের শব্দে বিভোর, তখন লুকা মদরিচ-ইভান রাকিতিচদের চোখের ভাষা যেন পড়া যাচ্ছিল। এই পরিশ্রম-নিষ্ঠা-ত্যাগের গল্প ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল তাদের সবার রক্তকণিকায়। ঠিক সেখান থেকে টাইম মেশিন দিয়ে যদি ঠিক ৩০ বছর আগে ফিরে গিয়ে কাউকে বলা হতো, তোমরা একদিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে, তা–ও তাদেরই মাটিতে, তাদেরই সামনে, যারা আজ তোমাদের চারপাশে শিকল দিয়ে রেখেছে। আর কিছু না পেলে ফুটবলটাই হয়তো ছুড়ে মারতও আপনার দিকে। নুন আনতে পান্তা ফোরানোর অবস্থা যাদের, তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র স্বপ্ন নিয়ে খোঁটা কে-ই বা গায়ে মাখতে পারে? সেদিনের সেই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা মদরিচ রাকিতিচের মা–বাবাদের অনুপ্রেরণা হয়েছিল এই ফুটবল। আরও বড় করে বললে, একজন ফুটবলার, নাম তাঁর জবেনোমির বোবান।

কাগজে–কলমে ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৩১ মার্চ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার আসল স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালের ১৩ মে। সার্বনিয়ন্ত্রিত যুগোস্লাভের বিরুদ্ধে। যুগোস্লাভিয়া ছিল বিভিন্ন জাতিসত্তার মিশেলে গড়ে ওঠা এক বিশাল রাজ্য। মার্শাল টিটোর মৃত্যুর পর এক অস্থিতিশীল সময় তৈরি হয় পুরো যুগোস্লাভিয়ায়। ক্ষুধামান্দ্যর মধ্যে ক্রোয়াটদের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠল ফুটবল। যুগোস্লাভিয়ান লিগে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা ডায়নামো জাগরেবকেই আঁকড়ে ধরেছিল তারা। স্টেডিয়ামে গান গেয়ে, স্লোগান তুলে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পেত।

default-image

অন্যদিকে অখণ্ড যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের ক্লাব রেড স্টার। বৃহত্তর যুগোস্লাভের পক্ষে থাকা সবাই জড়ো হয়েছিল বেলগ্রেডের পতাকাতলে। এক পাশে ডায়নামো জাগরেবের ‘ব্যাড ব্লু বয়েজ’, অন্যদিকে রেডস্টার বেলগ্রেডের ‘দালিজ’। দেশ তখন উত্তাল, আর এর মাঝেই যুগোস্লাভিয়ান লিগে মুখোমুখি হলো ডায়নামো জাগরেব ও রেডস্টার বেলগ্রেড। ম্যাচের আগে থেকেই বোঝা হয়েছিল, এই ম্যাচ শুধু ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাই সেখানে ছিল অতিরিক্ত পুলিশ, এমনকি সেনাবাহিনীও। বলা বাহুল্য, পুলিশ বাহিনী ছিল বেলগ্রেডের পক্ষে। দুই দলের সমর্থকের মনেই যখন আগুন, তখন ম্যাচ আর কীভাবে চলে? ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় রেফারির ভুল ডিসিশনে ফুঁসে ওঠেন ডায়নামো জাগরেবের সমর্থকেরা। ব্যস, ম্যাচ ওখানেই শেষ। নরকের আগুন যেন নেমে এল মাঠে। 

মুহূর্তেই মাঠ ভর্তি হয়ে যায় আন্দোলনকারীদের ভিড়ে। পুলিশ বাহিনী তখন সরিয়ে নিচ্ছে খেলোয়াড়দের। এর মধ্যেই জবেনমির বোবানের চোখে পড়ল মাঠের মধ্যে, এক ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতাকামীর ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। মুহূর্তেই সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে এলেন বোবান, কোনো কিছু না ভেবেই ছুটে এসে লাথি বসিয়ে দেন পুলিশের মুখে। পুলিশ কিছু বলার আগেই জাগরেব সমর্থকদের সহায়তায় সেখান থেকে নিরাপদে বের হয়ে আসেন তিনি।

আর্সেনাল কিংবদন্তি টনি অ্যাডামসের একটা বিখ্যাত কথা আছে, ‘তোমার জার্সির সামনের ব্যাজটার জন্য খেলো, দিন শেষে সবাই তোমার জার্সির পেছনের নামটা মনে রাখবে।’

ফলাফল? যুগোস্লাভিয়ায় নিষিদ্ধ হন বোবান, ৯০ বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয় তাঁকে। তাতে বয়েই গিয়েছে তাঁর। সুযোগ পেয়ে যুগোস্লাভিয়া থেকে তাঁকে কিনে আনে এসি মিলান। কিন্তু এক লাথি যেন প্রতিটি স্বাধীনতাকামী ক্রোয়েটকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। স্বপ্ন দেখে নতুন এক ভোরের, নতুন এক দেশের। যুগোস্লাভিয়া আর নয়। সেই থেকে এক বছর পর স্বাধীনতার স্বাদ পায় ক্রোয়েশিয়া, দিনটা ছিল ১৯৯১ সালের ২৫ জুন।

আর সেই বোবান, এখনো অটল তাঁর সেই কাজ নিয়ে, দুবার ভাবেননি সে অবস্থায় কী করা উচিত তা নিয়ে। ‘সেখানে আমি ছিলাম একজন জনপ্রিয় মুখ, যে কিনা নিজের জীবন, ক্যারিয়ার এবং যা কিছু খ্যাতি আমাকে এনে দিতে পারত, সবকিছুর ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিলাম, শুধু একটি আদর্শের জন্য, একটি কারণে—ক্রোয়েশিয়ার জন্য।’

আইভরি কোস্টের গৃহযুদ্ধ ও দিদিয়ের দ্রগবা

স্বাধীনতার পর থেকে একদলীয় সরকার বাদে কিছুই দেখেনি আইভরি কোস্টের জনগণ। শেষ পর্যন্ত যখন সব সমস্যা কাটিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। তখন দেশের মানুষ ভেবেছিল, তারা শান্তিতে রাত কাটাতে পারবে। কিন্তু কিসের কী? শপথ নেওয়ার আগেই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পালালেন দেশ ছেড়ে, নির্বাচনে হেরে যাওয়া দলপ্রাধান বসলেন মসনদে। যা হওয়ার ছিল সেটাই হলো। একনায়ক আর স্বৈরাচারী শাসক, প্রেসিডেন্ট লরেন্ট বাগাবো ও এলাসানে ওয়াতারার সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ। আইভরি কোস্টের দক্ষিণে ঘাঁটি ছিল সরকার বাহিনীর আর উত্তরে মুসলিম বিদ্রোহীদের। দেশ হয়ে পরে দুই ভাগ, যাকে বলে গৃহযুদ্ধ। সেই গৃহযুদ্ধ এমনই আকার ধারণ করে যে জাতিসংঘ তার সবটা দিয়েও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাতে সমর্থ হয়নি। 

অন্যদিকে আইভরি কোস্টের মানুষের জন্য এক আশার নাম ছিল ফুটবল, চারদিকে অশান্তির মাঝে এক ফোঁটা শান্তি ফুটবলে। ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সুদানের বিপক্ষে একটা জয়ই পারে তাঁদের বিশ্বকাপের টিকিট হাতে তুলে দিতে। সে ম্যাচে সুদানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেন দ্রগবা, তোরে, ইব্যুয়েরা। খেলোয়াড়-কোচ-স্টাফ থেকে শুরু করে দেশের মানুষেরা পর্যন্ত যখন উদ্‌যাপনে ব্যস্ত, তখন ড্রেসিংরুমে এসে মাইক তুলে নিলেন দ্রগবা। আইভরি কোস্টের ন্যাশনাল টিভিতে সরাসরি বক্তব্য দিলেন দেশের প্রতিটি মানুষের উদ্দেশে। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম—সব অঞ্চলের ভাইয়েরা, আজ আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি সবাই মিলে একসঙ্গে খেললে কী হতে পারে। আমরা বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আজ আমি সবাইকে অনুরোধ করছি নতজানু অবস্থায়।’ তখনই একসঙ্গে আইভরি কোস্টের সব খেলোয়াড় নতজানু হয়ে টিভি ক্যামেরায় বলেন, ‘ক্ষমা করে দাও, ক্ষমা করে দাও, ক্ষমা করে দাও। আফ্রিকার মতো সম্পদশালী দেশকে যুদ্ধ করে শেষ করে দিয়ো না। অস্ত্র ফেলে দাও, নির্বাচন দাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

default-image

এই কথা যখন বলছিলেন, তখন দ্রগবার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কোলো তোরে, যিনি আইভরি কোস্টের উত্তরের অধিবাসী, আর দ্রগবার জন্ম আইভরি কোস্টের দক্ষিণে। এত বড় গৃহযুদ্ধ এক দিনের কথায় থামানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। কিন্তু এরপর থেকেই মানুষ বুঝতে শুরু করে, দেশের উন্নতি করতে হলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। ফুটবল দলে যখন সবাই একে অপরের কাঁধে কাঁধ রেখে খেলতে পারেন, তবে দেশে কেন নয়?

এর দুই বছর পর আইভরি কোস্টে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপের কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচ নিজ উদ্যেগে আইভরি কোস্টের উত্তরাংশে নিয়ে যান দ্রগবা, যাতে তারাও ভাবতে পারে যে তাদের এখনো ফেলে দেয়নি দেশ। তারা এখনো আইভরি কোস্টের অংশ। আইভরি কোস্টে গৃহযুদ্ধ থামতে আরও পাঁচ বছর লেগেছিল, ২০১১ সালে নির্বাচন দিয়ে দেশে এখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থ চলছে। কিন্তু আজকের এই স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে দ্রগবার সেদিন মাইক তুলে নেওয়াটাই বড় ভূমিকা রেখেছে। দ্রগবার জীবনে এত অর্জনের পরও সবচেয়ে বড় অর্জন যে এটিই, ‘জীবনে অনেক শিরোপা জিতেছি। কিন্তু যুদ্ধ থামানোর মতো আনন্দ আমাকে কোনো ট্রফি জয়ই দিতে পারেনি।’

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা ও ফুটবল

১৯৫৮ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাস দুয়েক আগের কথা। আলজেরিয়ার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের মাথায় তখন দেশ স্বাধীন করার চিন্তা। ফ্রান্সের মতো দেশের আয়ত্ত থেকে নিজেদের মুক্ত করা এত সোজা কাজও নয় বটে। আর ফ্রান্স সে সুযোগটাই নিচ্ছে, আলরেজিয়ায় জন্মানো খেলোয়াড় দিয়েই সাজানো স্কোয়াড পাঠাচ্ছে বিশ্বকাপে। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ না হওয়ায় আলজেরিয়ারও কিছু করার নেই। নিজেদের রত্নগুলোকে অন্যের হাতে চলে যেতে দেখা ছাড়া। আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত অনেক ফ্রেঞ্চ খেলোয়াড়ই তখন সুইডেনে বিশ্বকাপ খেলতেন। 

আলজেরিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের যুদ্ধ শুরু হয়েছে আরও বছর চারেক আগে। কিন্তু বারবারই তাকে গৃহযুদ্ধ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ছিল ফরাসি মিডিয়ার। সুইডেন বিশ্বকাপের প্রাক্কালে তাই এফএলএনের কূটনীতিকেরা ধরলেন আলজেরিয়ান খেলোয়াড়দের। সুইডেন বিশ্বকাপের জন্য ঘোষণা করা দলে ২৩ জনের ৮ জনই ছিলেন আলজেরিয়ান। তাঁদের লক্ষ্য ছিল নতুন একটা জাতীয় দল খুলে ফরাসিদের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার। যুদ্ধের ময়দানের পাশাপাশি যেন তাঁরা খেলার মাঠেও প্রতিপক্ষকে দেখিয়ে দিতে পারেন, তাঁরা চাইলেই কী করতে পারেন। আরেকটা চিন্তাও তাঁদের মাথায় ছিল, ফুটবলের ব্যাপক প্রসারের কারণে তাঁরা চাইলেই সহজে মিডিয়ার আকর্ষণ কাড়তে পারবেন, সঙ্গে সঙ্গে করতে পারবেন আন্তর্জাতিক জনমত যাচাইয়ের কাজও।

এই সম্পূর্ণ পরিকল্পনাই ছিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের আলজেরিয়া অঞ্চলের সভাপতি বোমেজর৵াজের। তাঁর একসময়ের সতীর্থ ও সে সময়ের নেতা আহমেদ বেং বেলকে জানালেন নিজেদের পরিকল্পনার কথা। যেহেতু নিজে বোর্ডে ছিলেন, তাই সহজেই আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের খুঁজে পেতে সমস্যা হলো না। বিশ্বকাপের ঠিক এক মাস আগে বোমেজর৵াজ ধরলেন বিশ্বকাপ দলে থাকা আট খেলোয়াড়কে। তাঁদের সঙ্গে বসে করলেন নতুন দল বানানোর পরিকল্পনা। যার নাম হবে, ‘ইকুপ এফএলএন’। বলার সঙ্গে সঙ্গেই রাজি। দেশের ডাক অমান্য করার সাধ্য ছিল না তাঁদের কারোরই। ফ্রান্স দল ভেঙে তৈরি করা হলো নতুন আলজেরিয়া দল, যাদের কাজ ছিল দেশে দেশে নিজেদের দেশের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। 

যদিও ফরাসি ফুটবল নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ করেছিল সেই দলকে। ফ্রান্সে দাগি আসামি হয়েছিলেন তাঁরা, শেষ করে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের ফুটবলের স্বপ্ন। ক্লাব থেকে অর্ধচন্দ্র দেওয়া হয়েছিল তাঁদের, কিন্তু সেসব হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলেন তাঁরা। মুস্তফা জিতোনি হাসিমুখেই বলেছিলেন সেদিন, ‘আমার ফ্রান্সে অনেক বন্ধু ছিল, ভবিষ্যৎও ছিল। কিন্তু নিজের দেশের এমন অবস্থায় আপনি কি চাইলেও বসে থাকতে পারবেন? পারবেন না। আমিও পারিনি।’

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন