বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে আটঘাট বেঁধে বিশ্বকাপের সূচনা ১৯৭৫ সালে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের বয়স সবেমাত্র ৪। তখনই ৮ দল নিয়ে শুরু করা হয় সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ। ৬০ ওভারের প্রথম বিশ্বকাপের নাম ছিল ‘দ্য প্রোডেনশিয়াল কাপ’। টানা তিন বিশ্বকাপে চল ছিল এই ট্রফির। সে ট্রফি দুইবার হাতে তুলে নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয়বারও ফাইনাল উঠেছিল তারা, কিন্তু কপিল দেবের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে শিরোপা জিতে নেয় ভারত।

default-image

১৯৮৭ সালে বদলে যায় বিশ্বকাপের ফরম্যাট। এত দিন ধরে ৬০ ওভারে হয়ে আসা বিশ্বকাপ নেমে আসে ৫০ ওভারে। সে সঙ্গে বদলে যায় বিশ্বকাপের স্পনসরের নামও। প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপের স্পনসর হিসেবে আসে রিলায়েন্স। যে কারণে বিশ্বকাপের নাম হয় ‘দ্য রিলায়েন্স কাপ’। সোনালি সে বিশ্বকাপ তৈরি করা হয় ভারতের জয়পুরে। ধারণা করা হয়ে থাকে, ক্রিকেট বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ ছিল রিলায়েন্স কাপে। সেই শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

default-image

অস্ট্রেলিয়ায় ঋতু পরিবর্তনের কারণে ৫ বছর বিরতি দিয়ে ১৯৯২ সালেই নামে বিশ্বকাপ। বদলে যায় বিশ্বকাপের অনেক নিয়ম। বিশ্বকাপে দেখা যায়, রঙিন জার্সি, লাল বলের বদলে খেলা হয় সাদা বলে। যোগ হয় ফ্লাডলাইটের আলো, সঙ্গে নতুন ট্রফি। বেনসন অ্যান্ড হেজেসের স্পনসর করা বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান। অবসর থেকে ফিরে ইমরান খান হাতে তুলে নেন ক্রিস্টালের তৈরি শিরোপা। সে বিশ্বকাপই একমাত্র শিরোপা, যাতে কোনো প্রকার মেটাল ব্যবহার করা হয়নি।

default-image

১৯৯৬ বিশ্বকাপ আবারও বসে ভারতীয় উপমহাদেশে। বিশ্বকাপের নাম হয় উইলস ওয়ার্ল্ড কাপ। এই বিশ্বকাপও তৈরি হয় ভারতের জয়পুরে। সেবার অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বয়কটের কারণে শ্রীলঙ্কা সহজেই উঠে যায় ফাইনালে। অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপ জেতে শ্রীলঙ্কা। সেবার দেখা মিলে চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফির। আগের সব শিরোপার তুলনায় এই শিরোপা বেশ খানিকটা লম্বা ছিল। রুপালি রঙের বিশ্বকাপ ট্রফি নজর কেড়েছিল অনেকেরই।

অবশেষে নিজেদের নামে কিছু করার কথা ভাবল আইসিসি। প্রতি বিশ্বকাপেই ট্রফির বদল, সঙ্গে সঙ্গে স্পনসরের নামে বিশ্বকাপের মতো আসর বসানো নিয়ে মাথা ঘামল তারা। শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো, এই বিশ্বকাপ থেকেই শুরু হবে এক ট্রফির চল। যার একটি করে রেপ্লিকা দেওয়া হবে দেশকে। এমনকি বিশ্বকাপের নামও হবে আইসিসির নামে, অন্য কোনো স্পনসরের নামে নয়। তৈরি হলো ৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এক বিশ্বকাপ। যার তিনটি রৌপ্যদণ্ডের ওপর একটি স্বর্ণের গোল্ডেন গ্লোব। তিনটি কলাম দিয়ে বোঝানো হয়েছে ক্রিকেটের তিনটি স্টাম্পকে। আর গোল্ডেন গ্লোব দ্বারা ক্রিকেট বল। ১১ কেজি ওজনের বিশ্বকাপের নিচে ১৯৯৯ থেকে এখন পর্যন্ত সব বিশ্বকাপজয়ী দলের নাম লেখা আছে। এখনো জায়গা আছে আরও ১০টি বিশ্বজয়ী দলের নাম লেখার। বিশ্বকাপের আসল ট্রফিতে রয়েছে আইসিসির লোগো। অন্যদিকে জয়ী দলদের যে রেপ্লিকা দেওয়া হয়ে থাকে, তাতে থাকে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের লোগো। এ পর্যন্ত মাত্র ২টি দল উঁচিয়ে ধরতে পেরেছে এই শিরোপা-অস্ট্রেলিয়া আর ভারত। দেখা যাক, আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপের ট্রফি নতুন কারও হাতে উঠবে নাকি পুরোনোদের কাছেই ফিরে যাবে!

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন