কে হচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের নতুন ‘নাম্বার নাইন’?

ঠিক কত দিন এক জার্সিতে খেললে সেই জার্সি আর খেলোয়াড় একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে? ৫ বছর? ১০ বছর? করিম বেনজেমা আর রিয়াল মাদ্রিদের ‘৯’ নম্বর জার্সির সম্পর্কটা পাক্কা ১৩ বছরের। বেনজেমা ছাড়া রিয়ালের ‘৯’ নম্বর জার্সি হয়তো কল্পনাই করেননি সমর্থকেরা। কত স্মৃতি বেনজেমার সঙ্গে এই জার্সির। নিজ সমর্থকদের কাছ থেকে যেমন শুনেছেন দুয়ো, তেমনই দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামের সামনে তুলে ধরেছেন নিজের ব্যালন ডি’অর। যেভাবে চোখের বালি হয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই ফিরে এসেছেন চোখের মণি হয়ে। ‘৯’ নম্বর জার্সি গায়ে রিয়াল মাদ্রিদের সবটা দেখা হয়ে গিয়েছিল বেনজেমার। তাই তো রিয়ালকে বিদায় বলেছেন ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকতে থাকতেই।

রিয়ালের সঙ্গে ১৪ বছরের সম্পর্ক ছেদ করে করিম বেনজেমা যোগ দিয়েছেন সৌদি ক্লাব আল-ইতিহাদে। আর রিয়ালকেও নামতে হয়েছে দলবদলের বাজারে, নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে। কিন্তু ১৪ বছর ধরে আগলে রাখা জায়গা, ব্যালন ডি’অর জেতা খেলোয়াড়ের জায়গায় অন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া কি এতটাই সোজা? পরবর্তী মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণভাগ কে সামলাবেন, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে চলছে রিয়াল বোর্ড।

যদিও রিয়ালের স্ট্রাইকার পজিশন পুরোটা এখনো খালি নয়। কাজ চালানোর মতো একটা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করেছে তারা। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমির তারকা জোসেলুকে নতুন করে কিনে এনেছে ক্লাবটি। তাঁকে অবশ্য ব্যাকআপ স্ট্রাইকার হিসেবেই ব্যবহার করার চিন্তা রিয়ালের। যে কারণে ‘৯’ নম্বর জার্সিটা এখনো ফাঁকা। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ইতিহাসে কখনো ‘৯’ নম্বর জার্সি ফাঁকা রেখে মৌসুম শুরু করেনি। এখন আর সেই রেকর্ড বাঁচিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তবে নতুন ‘নম্বর নাইন’ কেনার সুযোগ আছে এখনো। কিন্তু দুর্মূল্যের বাজারে কে হতে পারে রিয়ালের নতুন ‘নম্বর নাইন’?

পিএসজি ছাড়তে চান কিলিয়ান এমবাপ্পে
রয়টার্স

কিলিয়ান এমবাপ্পে

দলবদলের মৌসুম আসা মানেই একটা গুঞ্জন সবার আগে মাথাচাড়া দেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে আসছেন। রিয়াল মাদ্রিদ আর এমবাপ্পের গুঞ্জন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দলবদলের প্রতিটি মৌসুমেই এমবাপ্পেকে নিয়ে গুঞ্জন তৈরি করেছে মিডিয়া। রিয়ালও চেষ্টা করেছে বটে, কিন্তু পিএসজির সঙ্গে পেরে ওঠেনি। একের পর এক লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে এমবাপ্পেকে নিজেদের দলে ধরে রেখেছে পিএসজি।

তবে এই মৌসুমে বদলে গিয়েছে পাশার দান। পিএসজি আর কিলিয়ান এমবাপ্পের উষ্ণ সম্পর্ক হয়ে উঠেছে শীতল। পরিস্থিতি এতটাই শীতল যে দুই পক্ষের কথা বলা, দেখাদেখিও বন্ধ। বরং তাঁকে পাঠানো হয়েছে রিজার্ভ দলের সঙ্গে প্র্যাকটিস করতে। এমনকি এটাও জানানো হয়েছে যে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে পুরো মৌসুমই রিজার্ভে বসে থাকতে হবে তাঁকে। এই অবস্থাতে নতুন দলে যোগ দেওয়াটাই তাঁর জন্য সমীচীন। দলবদলের মৌসুমে একটি দলই আছে, যারা এমবাপ্পেকে দলে ভেড়াতে পারে। আর সেই দলটির নাম রিয়াল মাদ্রিদ। কাগজে–কলমে না এগোলেও রিয়ালের ‘নাম্বার নাইন’ সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হতে পারেন এমবাপ্পে।

যদিও গুঞ্জন, পিএসজির সঙ্গে শীতল সম্পর্ক আবারও উষ্ণ হতে শুরু করেছে। এমবাপ্পে থাকতে চলেছেন পিএসজিতে। গুঞ্জন সত্যি হলে অপেক্ষার পালা আরেক ধাপ বৃদ্ধি পেল রিয়ালের জন্য।

নাপোলির নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ভিক্টর ওসিমেন
ছবি: টুইটার

ভিক্টর ওশিমেন

নাপোলিতে স্বপ্নের মতো একটা মৌসুম কাটিয়েছেন ভিক্টর ওশিমেন। ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর নাপোলিকে আবারও এনে দিয়েছেন লিগ শিরোপা। অসামান্য এই অর্জনের অন্যতম বড় কারিগর ছিলেন এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। অনুমিতভাবেই তাঁকে নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গিয়েছে ফুটবল দুনিয়ায়। কিন্তু নাপোলি প্রেসিডেন্ট তাঁর সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে এত সহজে ছাড়তে রাজি নন। চাপিয়ে দিয়েছেন বিশাল অঙ্কের রিলিজ ক্লজ। যে কারণে তাঁর দিকে হাত বাড়ানোর সাহস পায়নি এখনো কেউ।

কিন্তু দলবদলের মৌসুমে রিয়াল এখন স্ট্রাইকারের জন্য মরিয়া। যে কারণে বড় অঙ্কের পয়সা ঢালতেও বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের। যে কারণে যত দিন যাচ্ছে ভিক্টর ওশিমেনকে পাওয়ার আশা আরও জোরালো হচ্ছে।  

করিম আদেমায়ি

সদ্য ২১ বছরে পা দেওয়া জার্মান স্ট্রাইকারের দিকেও নজর আছে রিয়ালের। শেষ ১০ বছর ধরে তরুণ তারকাদের নিয়ে দল গড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ধারা অব্যাহত রাখলে রিয়ালের প্রথম পছন্দ জার্মান স্ট্রাইকার করিম আদেমায়ি।

বয়সটা বেশি না হলেও খেলছেন বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডে। আর কথায় আছে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডে একবার যাঁরা প্রবেশ করেন, তারকা না হয়ে তাঁরা বের হন না। করিম আদেমায়ির বয়সটা কম হলেও জহুরির চোখ ডর্টমুন্ডের। বাজারে পরীক্ষিত তারকার অভাবেই দিনে করিম আদেমায়ি রিয়ালের জন্য সেরা অপশন।

ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড রানডাল কোলো মুয়ানি
রয়টার্স

কোলো মুয়ানি

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ মিনিটে এমি মার্তিনেজের সেভটা মনে আছে? আর্জেন্টাইন কোনো সমর্থক মনে হয় না সেই সেভ ভুলতে পারবে। বিখ্যাত সেই সেভ করা শট নেওয়া খেলোয়াড় ছিলেন এই কোলো মুয়ানি। ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকারের এক মিস দেখে তাঁর পুরো ক্যারিয়ার মেপে ফেলো না কিন্তু। ক্লাবের হয়ে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে গত মৌসুম ২৩ গোল করেছেন তিনি। যে কারণে বড় দলগুলোর রাডারে আছেন তিনি। বিশ্বকাপে বাজে ফর্ম তাঁর দামের ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। যে কারণে অন্য সব স্ট্রাইকারের তুলনায় বেশ কমেই পাওয়া যাবে তাঁকে।

জুভেন্টাস তারকা দুসান ভ্লাহোভিচ
ফাইল ছবি: এএফপি

দুসান ভ্লাহোভিচ

৬ ফুট ৩ ইঞ্চির সার্বিয়ান স্ট্রাইকারের উত্থান বছর দুয়েক আগে। ইতালিয়ান লিগের দল ফিওরেন্তিনার হয়ে অসাধারণ এক মৌসুম কাটানোর পর তাঁকে নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয় ইউরোপের বড় দলগুলোর। আর্সেনাল অনেক চেষ্টা-চরিত্রের পরও তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জুভেন্টাস। ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তাঁকে দলে ভেড়ায় জুভেন্টাস।

জুভেন্টাসের জার্সিতে তাঁর ফর্ম খুব একটা খারাপ নয়। কিন্তু রোনালদোর ফেলে রেখে যাওয়া ‘৭’ নম্বর জার্সির ভার সামলাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে জুভেন্টাসের অতিরিক্ত ডিফেন্সিস খেলার মনোভাবও প্রভাব ফেলছিল তাঁর খেলার ধরনের ওপর। সব মিলিয়ে সার্বিয়ান তারকার খেলার ধরনের সঙ্গে জুভেন্টাসকে ঠিক মানায় না। জুভেন্টাসও ভালো দাম পেলে তাঁকে ছাড়তে রাজি। রিয়ালের মাঝমাঠের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে দুই পক্ষই লাভবান হবে এই দলবদল থেকে।

দলবদলের মৌসুম শেষ হতে আর বাকি মাত্র ১৫ দিন। এর মধ্যে রিয়ালকে সমাধান করতে হবে তাদের ‘নাম্বার নাইন’ সমস্যার। করিম বেনজেমার রেখে যাওয়া স্থান পূরণ করা অসম্ভব। এই তালিকার ভেতরে কিংবা বাইরে, যেই রিয়ালের ‘৯’ নম্বর জার্সি গায়ে চড়াক না কেন, প্রত্যাশার বিশাল ভার নিয়েই মাঠে নামতে হবে তাঁকে।