২ ম্যাচেই গোল্ডেন বুট

গোল্ডেন বুটকে ধরা হয় বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় সম্মানগুলোর একটি। একে তো বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চ, যেখানে কোটি কোটি মানুষের চোখ তাকিয়ে আছে প্রত্যেকটি খেলোয়াড়েরর দিকে। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষে পুরো বিশ্ব থেকে বেছে বেছে খেলতে আসা ১১ জন। তাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পুরো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়।

পুরো টুর্নামেন্ট খেলে গোলের বন্যা বইয়ে গোল্ডেন জেতেন একজন খেলোয়াড়। স্বয়ং পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি, রোনালদো কারোর ভাগ্যেই গোল্ডেন বুট জোটেনি। সেখানে একজন আছেন, যিনি নক আউট না খেলে মাত্র ২ ম্যাচেই জিতে নিয়েছিলেন গোল্ডেন বুট। বলছি রাশিয়ান স্ট্রাইকার ওলেগ সালেঙ্কোর কথা।

ক্যামেরুনের বিপক্ষে ৫ গোল করেছিলেন সালেঙ্কো।
ছবি: এক্স

আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগের কথা, শেষ যেবার আমেরিকায় বসেছিল বিশ্বকাপের আসর। সেবার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল রাশিয়া। তাদের গ্রুপে ছিল ব্রাজিল, সুইডেন আর ক্যামেরুন। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হেরে রাশিয়া তখন খাদের কিনারায়। দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে রাশিয়া আবারও হারল ৩-১ ব্যবধানে। সেদিন একমাত্র গোলটি এসেছিল পেনাল্টি থেকে, যার গোলদাতা ছিলেন ওলেগ সালেঙ্কো। দুটি ম্যাচ শেষ, রাশিয়ার বিদায় প্রায় নিশ্চিত। হাতে আছে কেবল একটি ম্যাচ, প্রতিপক্ষ রজার মিলার ক্যামেরুন।

দুই দলেরই পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই শেষ। বাকি শুধু স্রেফ নিয়ম রক্ষার এক ম্যাড়মেড়ে লড়াই। কিন্তু সেই নিয়ম রক্ষার ম্যাচই হয়ে রইল সালেঙ্কোর জীবনের সবচেয়ে বড় দিন। প্রথমার্ধেই তুলে নিলেন হ্যাটট্রিক। দ্বিতীয়ার্ধেও সেই একই ক্ষুধা, ক্যামেরুনের জালে আরও দুই গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে ৫ গোলের বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন তিনি। রজার মিলার ক্যামেরুনের হয়ে একটা গোল শোধ করেছিলেন বটে, কিন্তু রাশিয়া ম্যাচটি জিতল ৬-১ ব্যবধানে।

ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলারের সঙ্গে সালেঙ্কো।
ছবি: এক্স

এক ম্যাচেই ৫ গোল আর আগের ম্যাচে ১ গোল—সব মিলিয়ে সালেঙ্কো তিন ম্যাচে করেছিলেন ৬ গোল। আর সেটা করতে সময় নিয়েছেন মাত্র ২১৫ মিনিট। রাশিয়া গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল বটে, কিন্তু সালেঙ্কো থাকলেন গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে। বুলগেরিয়ার কিংবদন্তি রিস্টো স্টইচকভও সেই বিশ্বকাপে ৬ গোল করেছিলেন, কিন্তু সালেঙ্কো কম সময়ে করায় গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতেই। সেবারই প্রথম এবং শেষবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েও গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তি গড়েছিলেন কেউ।

আরও পড়ুন

মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের পর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছিল সালেঙ্কোর। বিশ্বকাপের পর মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল। রাশিয়ার জার্সিতে খেলেছেন মাত্র ৮টি ম্যাচ, গোল করেছেন ৬টি। আর সেই ৬টি গোলই ১৯৯৪ বিশ্বকাপের দুই ম্যাচ থেকে! বিশ্বকাপের ইতিহাসে সালেঙ্কো তাই হয়ে আছেন ‘এক বিশ্বকাপের বিস্ময়’।

আরও পড়ুন