দল না পাওয়া সেই দিওমান্দে কীভাবে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হলেন
এই তো বছর দুয়েক আগের কথা, ইয়ান দিওমান্দে তখনো দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে ঘুরপাক খাচ্ছেন। একের পর এক ক্লাব তাঁকে ফিরিয়ে দিচ্ছে ট্রায়াল থেকে। ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ফিকে হতে শুরু করেছিল তাঁর। সেই দিওমান্দে এখন রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়। নামের পাশে ১৩০ মিলিয়ন ইউরোর ট্যাগ। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় এখন তিনিই।
দলই পাচ্ছিলেন না দিওমান্দে
ছোটবেলায় আইভরি কোস্ট থেকে ফুটবলের জন্য দিওমান্দে পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে একের পর এক ক্লাব তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে, শেষমেশ সুযোগ হয়েছিল কলেজের একটি ফুটবল দলে। ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সে যখন লা লিগা মাতাচ্ছেন লামিন ইয়ামাল, তখন দিওমান্দে নিজের দলই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। খেলতেন আমেরিকান লিগের দ্বিতীয় বিভাগে। চেলসি, বোর্নমাউথ, রেঞ্জার্স, ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে শুরু করে অলিম্পিয়াকোস—সবাই তাঁকে একনজর দেখেই ফিরিয়ে দিয়েছে। যোগাযোগ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি কেউ। অবশেষে ২০২৪ সালে এসে তাঁকে পরখ করার সুযোগ দেয় লেগানেস। স্প্যানিশ এই দলে তাঁর অভিষেকটাও ছিল এই রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেই।
লেগানেসে খেলা অর্ধেক মৌসুম বদলে দেয় দিওমান্দের ভাগ্য। মৌসুমটা মনে রাখার মতো ছিল না লেগানেসের। অবনমিত হয়ে গিয়েছিল প্রথম বিভাগ থেকে। কিন্তু আইভোরিয়ান তারকাকে দলে ভিড়িয়েছিল জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ। ২০ মিলিয়ন ইউরোর বদলে স্পেন থেকে জার্মানিতে ভেড়েন তিনি।
লাইপজিগের রাখা ভরসার প্রতিদানও দিয়েছেন দিওমান্দে, অভিষেক মৌসুমেই করেছেন ১২ গোল, ৮ অ্যাসিস্ট। বুন্দেসলিগার সেরা নবীন তারকার খেতাবও পেয়েছেন তিনি। এরপরই শুরু হলো বিশ্বকাপ। যেখানে নজর কাড়া মানেই ভবিষ্যৎ পাকা হয়ে যাওয়া। দিওমান্দে বাজিমাত করলেন সেখানেই। নামের পাশে হয়তো গোল নেই, কিন্তু অ্যাসিস্ট আছে একটি, কিন্তু তাঁর দুর্দান্ত গতি ও ড্রিবলিং মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সেই বিমুগ্ধ দর্শকদের একজন স্বয়ং রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান কোচ হোসে মরিনহো।
দিওমান্দেকে কেন বেছে নিল রিয়াল
বিশ্বকাপ শেষে বিশ্বকাপের তারকা কেনা রিয়াল মাদ্রিদের নিয়ম বলা চলে। সেই ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে চমক দেখানো তারকাদের পরবর্তী গন্তব্য হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। এবার সেই তালিকায় টিকমার্ক পড়ল ইয়ান দিওমান্দেকে দিয়ে। ১৯ বছর বয়সী কিশোরের জন্য ১৩০ মিলিয়ন খরচ করতেও পিছপা হয়নি রিয়াল। কিন্তু কেন?
দিওমান্দের বয়সটা মাত্র ১৯, অভিজ্ঞতা একেবারে শূন্যের কোঠায়। ক্যারিয়ারে সর্বসাকল্যে খেলেছেন মাত্র ৬৩টি ম্যাচ। গোল করেছেন ১৮টি। তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য পরিসংখ্যানটা খুব একটা খারাপ নয়। কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের জন্য রিয়াল মাদ্রিদ যখন রেকর্ড ভাঙতে চলেছে, তখন তো তাঁর মধ্যে নিশ্চয় নতুন কিছুর সন্ধান পেয়েছেন মরিনহো।
রাইট উইংয়ে হতে পারেন নতুন ভরসা
অনেক দিন ধরেই রিয়াল মাদ্রিদের ডান পাশ একপ্রকার অচল হয়ে আছে। গ্যারেথ বেলের পর রিয়াল মাদ্রিদের রাইট উইংয়ে বলার মতো কেউ আসেনি। মোটামুটি জোড়াতালি দিয়েই চলেছে রিয়াল। রদ্রিগো ভালো খেললেও তিনি খেলতেন আসলে বাঁ পাশে, ভিনি থাকায় খেলতে হয়েছে ডানে। তিনিও চোটের কারণে ২৭ সাল পর্যন্ত মাঠের বাইরে। এ ছাড়া যাঁদের আনা হয়েছে বা যুব দল থেকে যাঁরা খেলতে এসেছেন, কেউই মন কাড়তে পারেননি। পারফরম্যান্স তো দূরে থাক। সব মিলিয়ে ডান পাশে যুতসই কাউকে দরকার ছিল রিয়ালের। সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সামনে দিওমান্দেকে কেনাটা ভুল সিদ্ধান্ত নয়। তাঁকে খুব করে প্রয়োজন ছিল রিয়ালের।
দাম এত বাড়ল কেন
দিওমান্দেকে রিয়ালের প্রয়োজন, এটা বুঝতে পেরেছে লাইপজিগ। সুযোগ বুঝে নিজেদের খেলোয়াড়ের দাম বাড়িয়ে তুলে দিয়েছে আকাশে। ১৯ বছর বয়সী দিওমান্দের জন্য প্রথম আগ্রহ দেখিয়েছিল লিভারপুল। সালাহর বদলি হিসেবে বিশ্বকাপের আগে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ইউরো অফার করেছিল লাইপজিগকে। লাইপজিগ ফিরিয়ে দিয়েছিল অল রেডদের। বিশ্বকাপের পর পিএসজি অফার করেছিল ১০৫ মিলিয়ন ইউরো, সেটাও ফিরিয়ে দিয়েছে তারা। এত দাম দিয়ে কেনার পক্ষপাতী ছিলেন না কেউ। ফলে এক রিয়াল মাদ্রিদই টিকে ছিল দৌড়ে। লাইপজিগের বেঁধে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী তাই ১৪০ মিলিয়ন ইউরো দিয়েই কিনতে হয়েছে তাঁকে। এর মধ্যে ১২৫ মিলিয়ন দিতে হবে ধাপে ধাপে। আর বাকি শর্ত পূরণ করতে পারলে দিতে হবে আরও ১৫ মিলিয়ন ইউরো।