মেসির এই সাতটি গুণের কথা তুমি কি জানতে
লিওনেল মেসিকে আমরা গোলের সংখ্যায় চিনি। বাঁ পায়ের জাদু, বিশ্বকাপ ট্রফি, বার্সেলোনা অধ্যায়—এসব সবার জানা। কিন্তু মাঠের বাইরে যে মেসি, তার কথা খুব কম শোনা যায়। সেই ছেলেটির সাতটি গুণ এখানে।
১. রাতের ইনজেকশন সহ্য করার ধৈর্য
রোজারিওতে মেসির বয়স যখন দশ-এগারো, ডাক্তার বলেন—শরীরে গ্রোথ হরমোন কম। উচ্চতা বাড়ছে না। চিকিৎসা মানে প্রতি রাতে পায়ে ইনজেকশন। এক রাত এক পা, পরের রাত অন্য পা। প্রথমে বাবা-মা দিতেন। পরে নিজেই নিতে শিখেছিলেন। খরচ এত বেশি যে পরিবারের পক্ষে চালানো কঠিন। তাঁর তখনকার ক্লাব নিউয়েলসও খরচ দিতে পারেনি। তবু ছেলেটি খেলা ছাড়েনি। ছোট হয়েও বড় হওয়ার লড়াইটা সে মাঠের আগেই জিতেছিল।
২. কথা কম, কিন্তু মন বড়
লা মাসিয়ায় প্রথম দিকে সতীর্থরা ভেবেছিল, এই আর্জেন্টিনীয় ছেলেটি হয়তো কথাই বলতে পারে না। এত চুপ! স্প্যানিশও জানে না। পরে বোঝা গেল, লাজুক। অচেনা মানুষের সামনে গুটিয়ে থাকে। বন্ধু আর পরিবারের মধ্যে সে আলাদা—হাসিখুশি, মজার। মাঠে সে চিৎকার করে না। কাজটা করে। কিশোরদের জন্য এটা বড় শিক্ষা: জোরে কথা বলা আর সাহসী হওয়া এক জিনিস নয়।
৩. বাবার শ্রম ভোলে না
বাবা হোর্হে কারখানায় বাড়তি সময় কাজ করতেন, যেন ছেলের ওষুধ চলে। মা সেলিয়াও কাজ করতেন। মেসি বারবার বলেছেন, বাবা না থাকলে তাঁর জীবনটা এমন হতো না। ট্রফি জিতেও সে প্রথমে পরিবারের দিকে তাকায়। বিখ্যাত হয়েও বাবা-মা, ভাইবোন আর তিন ছেলেকে সে জীবনের মাঝখানে রেখেছে। খ্যাতি এলেও শেকড় কাটেনি।
৪. নীরবে দেওয়া
২০০৭ সালে সে লিও মেসি ফাউন্ডেশন করে। রোজারিওর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা, হাসপাতাল, যাতায়াত—এসবের খরচ সে বহন করে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূতও। একবার মরক্কোর সুফিয়ান নামের এক ছেলের সঙ্গে খেলেছিল, যার দুই পা ছিল না। পরের ম্যাচে প্রথম গোলটা তার নামে উৎসর্গ করে। ক্যামেরার সামনে বক্তৃতা কম। কাজটা বেশি।
৫. ছোট জিনিসেও গুছিয়ে থাকা
পাঁচ বছর বয়সেই ম্যাচের আগে বুরুশ দিয়ে জুতো পরিষ্কার করত। গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ বাঁধত। বড় হয়েও রুটিন ভাঙলে তার মন খারাপ হয়। জামাকাপড় গুছিয়ে রাখে। এলোমেলো পছন্দ করে না। প্রতিভা একা আসে না। তার পেছনে থাকে এই ছোট ছোট অভ্যাস—যেগুলো কেউ পোস্টারে ছাপে না।
৬. দেশ বদলানোর লোভ সামলানো
তেরো বছর বয়সে বার্সেলোনায় এসেছিল। চুক্তি হয়েছিল একটা ন্যাপকিনে—ক্লাব তার চিকিৎসার খরচ দেবে। পরে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগও এসেছিল। সে বলেছিল, স্বপ্নে তাঁর আর্জেন্টিনার জার্সি। সতেরো বছর বয়সেই আর্জেন্টিনা তাকে বেঁধে ফেলে। বিদেশে বড় হয়েও দেশ ভোলেনি। ২০২২-এর বিশ্বকাপ সেই পুরোনো কথার জবাব।
৭. শৈশবের বন্ধুত্ব ধরে রাখা
অ্যান্তোনেল্লাকে চেনে ছোটবেলা থেকে। একই শহর, একই পাড়া। বিখ্যাত হয়েও সেই সম্পর্ক ছাড়েনি। বিয়ে করেছে, তিন ছেলে। মাঠে যত ঝলমলে, ঘরে তত সাদামাটা। বিনয়টা তার পোশাক নয়, অভ্যাস। ডাক্তার যারা তাকে দেখেছেন, তারা বলেছেন—বন্ধুদের সঙ্গে সে মজার, অচেনাদের সঙ্গে সংযত, কাউকে ছোট করে না।
গোল দিয়ে মেসি বড় হয়নি। বড় হয়েছে রাতের ইনজেকশন, বাবার বাড়তি শিফট, চুপ করে থাকা, আর দেওয়ার অভ্যাসে। কিশোর আলোর পাঠকদের জন্য হয়তো এই শিক্ষাই বেশি দামি—মাঠ যত বড়ই হোক, মানুষটা আগে গড়ে ওঠে ঘরে।
এআইয়ের সহায়তা নেওয়া হয়েছে