অফসাইড বুঝব কী করে

বিশ্বকাপে অফসাইড ধরবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিফাইল ছবি

খেলার অন্তিম মুহূর্ত চলছে। ডি-বক্সের ভেতরে জটলা, এমন সময় একেবারে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে গেলেন স্ট্রাইকার। আলতো করে বাড়িয়ে দিতেই বল পৌঁছে গেল জালে। পুরো দল ঝাঁপিয়ে পড়ল উদ্‌যাপনে। গ্যালারির প্রতিটি প্রান্ত যখন উদ্‌যাপনে ব্যস্ত, তখনই হুট করে খেয়াল করলে, দূর থেকে পতাকা তুলে দাঁড়িয়ে আছেন লাইন্সম্যান। ‘অফসাইড’!

ফুটবলের সবচেয়ে মজার এবং একই সঙ্গে বিরক্তিকর নিয়ম হলো অফসাইড। একমুহূর্তে সব আনন্দকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে অফসাইড। শুধু অফসাইড চেক করার জন্যই দুজন লাইন্সম্যান সর্বক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন পতাকা হাতে নিয়ে। অনেকেই ভাবতে পারো, তারা না হয় চোখের সামনে থাকেন বলে অফসাইড ধরতে পারেন, কিন্তু টিভির সামনে বসে কি অফসাইড বোঝা সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। নিয়মিত খেলা দেখলে তুমিও বুঝতে পারবে অফসাইড কীভাবে হয়।

আরও পড়ুন

অফসাইড কী

অফসাইড কী জানার আগে তোমাদের জানা দরকার অফসাইডের নিয়ম আসলে কেন বানানো হয়েছে? অফসাইড মূলত তৈরি করা হয়েছে যেন আক্রমণকারী দল নিজেরা কোনো বাড়তি সুবিধা না পায়। কারণ, অফসাইডের নিয়ম না থাকলে দেখতে সব খেলোয়াড় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গোলপোস্টের সামনে, বল পাওয়ার অপেক্ষায়।

অফসাইড কখন হয়

অফসাইড বোঝার সহজ সূত্র হলো শেষ ডিফেন্ডার। একটি দল যখন আক্রমণ করছে, তখন তুমি নজর রাখবে ডিফেন্ডিং দলের শেষ ডিফেন্ডারের দিকে। শেষ ডিফেন্ডারের পেছনে যদি কোনো খেলোয়াড় থাকে, তবেই সে অফসাইডে আছে। সহজ কথায় এই হলো অফসাইডের নিয়ম। কিন্তু পেছনে থাকলেই কি রেফারি বাঁশি বাজিয়ে দেবেন? না, তা নয়।

আরও পড়ুন

অফসাইড কার্যকর হবে যদি সেই অ্যাটাকারকে পাস দেওয়া হয়। ঠিক যে মুহূর্তে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বল পায়ে স্পর্শ করেছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে যাঁকে পাস দেওয়া হয়েছে, তিনি যদি শেষ ডিফেন্ডারের পেছনে থাকেন, তবেই তিনি অফসাইডে আছেন। হাত (হাতের আঙুল থেকে শুরু করে কবজি পর্যন্ত) ছাড়া শরীরের যেকোনো অংশ যদি শেষ ডিফেন্ডারের পেছনে থাকে তবেই সেই খেলোয়াড় অফসাইডে আছেন বলে ধরা হয়।

এবার আসা যাক ব্যতিক্রমে। নিয়ম যেহেতু আছে, তার মানে ব্যতিক্রম তো থাকবেই। প্রশ্ন করতেই পারো, অনেক সময়ই দেখেছি ডিফেন্ডারের পেছনে থাকলেও অফসাইড হচ্ছে না। সেটা কেন? এর কারণ আছে। শেষ ডিফেন্ডারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো বল। বল ঠিক যেখানে আছে, তার পেছনে যদি কোনো খেলোয়াড় থাকেন, তাহলে ডিফেন্ডার থাকুক কিংবা না থাকুক, সেই খেলোয়াড় অফসাইড নন।

একই কথা প্রযোজ্য যদি খেলোয়াড়েরা নিজেদের অর্ধে থাকেন। কারণ, অফসাইড শুরুই হয় প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকে। যে কারণে লাইন্সম্যানরা দেখবেন নিজেদের অর্ধেই দৌড়াদৌড়ি করেন, অন্য অর্ধেই আসেন না।

আরও পড়ুন

কর্নার কিক অথবা থ্রো ইন হলে সেখানে নেই কোনো অফসাইড। এমনকি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক গোল কিক করার সময় যদি তোমার পায়ে বল দিয়ে দেয়, তবেও সেটা অফসাইড না। এটা শুধু গোলরক্ষক নয়, ডিফেন্ডিং দল যদি তোমার কাছে বল পাস করে দেয়, তবে সেটা সব সময়ই অনসাইড। অফসাইড হবে যখন নিজের দলের খেলোয়াড় বল পাস করবে। শেখা হয়ে গেল তো, কীভাবে অফসাইড বুঝবে? এখন যখন বিশ্বকাপের খেলা দেখতে বসবে, তখন টিভি পর্দায় কড়া নজর রাখবে যাতে কোনো খেলোয়াড় অফসাইডের ছুতো দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারে। আর যদি যায়-ও, সমস্যা নেই। সেমি-অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি তা ধরে ফেলবে মুহূর্তেই। কারণ, বলের ভেতরে থাকা সেন্সর সব সময় অ্যাকটিভ থাকে। ফলে প্রযুক্তির চোখ এড়িয়ে আর যা–ই হোক, অফসাইড হতে পারবে না কেউ।

যেভাবে বুঝবে অফসাইড

  • শেষ ডিফেন্ডারের আগে থাকলে

  • ডিফেন্ডার ছাড়া বলের আগে থাকলে

  • যেভাবে অফসাইড নয়

  • নিজের অর্ধে থাকলে

  • বলের পেছনে থাকলে

  • কর্নার, থ্রো-ইন অথবা সরাসরি গোল কিক থেকে

  • প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় থেকে বল পেলে

আরও পড়ুন