আসলে প্রিয় মানুষের কথা কোথা থেকে শুরু করতে হয়, আর কোথায় গিয়ে শেষ করতে হয় তা জানি না আমি। ভাইয়া আমার কাছে ঠিক সে রকম একটা মানুষ। ওর কথা যে আমি কীভাবে শুরু করব, সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। কিন্তু শুরু তো করতেই হবে। না হলে তো আর গল্প লিখতে পারব না। তাহলে শুরু করি।
আমার ভাইয়া; যাকে ছাড়া জীবনের হাসি, কান্না, ঝগড়া, খাবার খাওয়া, টিভি দেখা, ঠাট্টা-তামাশা...এই মুহূর্তগুলো কল্পনাও করতে পারি না আমি। আমাকে হাসানোর মানুষটা ভাইয়া, কাঁদানোর জন্যও ভাইয়া। একটু একটু ঝগড়া, মজার মজার খাবার ভাগ করার মানুষ ভাইয়াই। মোটকথা ভাইয়া ছাড়া একটা মুহূর্তের কথাও চিন্তাও করতে পারব না আমি।
ছোটবেলায় একবার আমি রাগ করে নানুবাড়ি চলে গেলাম। তখন নাকি ভাইয়া খাওয়াদাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধু কি ভাইয়া? আমিও তো তাই করেছিলাম। আসলে সেদিনই বুঝেছি, ভাইয়া আমার জীবনে কত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু ভাগ্যই হয়তো আলাদা করে দিয়েছে আমাদের দুজনকে। ভাইয়া এখন চট্টগ্রামে, আর আমি ঢাকায়। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে এবার এসএসসি দেবে ও। বছরে বাড়ি আসে মাত্র চারবার। সেই ছোটবেলার মতো খুনসুটি তো আর করা যায় না এখন। তবু ও চেষ্টা করে পড়াশোনার ফাঁকে আমাকে একটু আনন্দ দিতে। ভালোবাসা দিতে। মাঝে মাঝে মনে হয়, ইশ্! যদি ছোটবেলার দিনগুলো ফিরিয়ে আনা যেত। এখনো ভাইয়া আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি আসলে অনেক বেশি জেদি। ভাইয়া যে কীভাবে এখনো আমার সঙ্গে মানিয়ে চলে, নিজেও জানি না আমি।
ভাইয়ার জন্য এখনো খুব খারাপ লাগে মাঝে মাঝে। কাউকে বুঝতে দিই না। করার তো কিছু নেই। শুধু এটাই বলতে চাই, আমার ভাইয়া আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। কোনো দিন আমাকে বিপদে ফেলে চলে যাবে না ও। সব সময় বাড়িয়ে দেবে ওর দুটি হাত। হয়তো বলবে, ‘কী সব ঝামেলা যে করিস তুই, এই শেষ, আবার ঝামেলা করলে আমি কিন্তু নাই, বলে দিলাম।’ কিন্তু আমি জানি, ভাইয়া ঠিকই থাকবে। যতবার আমি বিপদে পড়ব, ততবারই এগিয়ে আসবে ও।
ভাইয়া, তুই আমাকে সব সময় এভাবেই ভালোবাসিস। আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি। আই লাভ ইউ ভাইয়া অ্যান্ড আই রিয়েলি মিস ইউ। ভালো থাকিস সব সময়।