জাহাজে চড়ে বিদেশযাত্রা করা এক চালাক শিয়ালের গল্প
ভাবুন তো, ভিসা নেই, পাসপোর্ট নেই, টিকিট নেই, তবু দিব্যি ইংল্যান্ড থেকে আমেরিকা।
ঠিক এমনটাই করেছে এক লাল শিয়াল।
ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বন্দর থেকে একটি কার্গো জাহাজে চুপিচুপি উঠে পড়ে শিয়ালটি। তারপর জাহাজটি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যায়। সেখানে শিয়ালটি ধরা পড়ে।
ধরা পড়ার পর শিয়ালটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, সে মোটামুটি ভালোই আছে।
শিয়ালটির বয়স প্রায় দুই বছর। ওজন প্রায় পাঁচ কেজি। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা বলেছেন, এত বড় ভ্রমণের পরও শিয়ালটি বেশ ভালো আছে। পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে সে।
কেন এমন করে শিয়াল
লাল শিয়াল পৃথিবীর সবচেয়ে মানিয়ে নিতে পারা প্রাণীদের একটি। বন–জঙ্গল–শহর সব জায়গাতেই তারা টিকে থাকতে পারে। খাবার হিসেবে তারা ফল, ইঁদুর, পোকা—যা পায়, তা–ই খায়।
তাই কৌতূহল বা খাবারের খোঁজে জাহাজে উঠে পড়া এই শিয়ালের ক্ষেত্রে খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এর আগে এমন বিনা টিকিটের যাত্রী
এক পেঙ্গুইনকে উদ্ধার করতে গিয়ে হেলিকপ্টারে তোলা হয়েছিল। কিন্তু সে নামতেই চাইছিল না। মনে হচ্ছিল, সে যেন আরও একটু ঘুরতে চায়।
বিভিন্ন সময়ে বিমানের কার্গোতে সাপ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা না জানলেও এই সাপগুলো দূর দেশে পৌঁছে গেছে।
একটি বিড়াল ভুল করে পার্সেলের বাক্সে ঢুকে পড়েছিল। পরে বিড়ালটি অন্য শহরে পৌঁছে গেলে সেখানে তাকে উদ্ধার করা হয়।
অনেক পাখি ক্লান্ত হয়ে জাহাজে বসে বিশ্রাম নেয়। কখনো কখনো সেই বিশ্রামই হয়ে যায় সমুদ্র পাড়ি দেওয়া।
শেষ কথা
শুরুতে যে শিয়ালের গল্পটি বলা হলো, তা যেন বাস্তবের রূপকথা। আমরা যেখানে নিয়ম মেনে ভ্রমণ করি, সেখানে প্রাণীরা কৌতূহল আর বেঁচে থাকার তাগিদে হয়ে ওঠে বিশ্বভ্রমণকারী।
কে জানে পরের বিনা টিকিটের যাত্রী কে হবে!