রাত নয়টা। বন্ধুরা মিলে চায়ের দোকানে খেলা দেখছি। গ্রামের বাজার। বেশি বড় নয়। রাতের খাবার খেয়ে আসিনি আমি। তাই বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। রাস্তায় দেখলাম একটা লোক। লোকটা দেখতে পাগলের মতো, তাই নজরে এল। কিন্তু গুরুত্ব না দিয়ে বাড়ি চলে গেলাম। বন্ধুদের বলে এসেছি আবার বাজারে যাব।
সাড়ে নয়টা বাজে। বাজারের দিকে যাচ্ছি। পথে আবার সেই লোকটা। বাজার থেকে আসছে। ঘটনা এখানেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু গ্রামের একজন অদ্ভুত এক তথ্য দিলেন আমাকে। ওই লোকটার নাকি বিশেষ ক্ষমতা আছে। লোকটাকে নাকি কাদা খেতেও দেখেছেন তিনি। শুনে বেশ কৌতূহল হলো আমার। বন্ধুদের নিয়ে আবার সেই পথে হাঁটা ধরলাম আমি। লোকটা অনেক দূর চলে গেছে। ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত হাঁটছি। হঠাৎ সামনে দেখা গেল লোকটাকে। কী আশ্চর্য, এত দ্রুত সামনে এল কী করে? আমরা তাকে থামতে বললাম। কিন্তু লোকটা থামল না। মনে হলো আমাদের কথা কানেই নিল না লোকটা। হঠাৎ ঘুরে তাকাল সে, যেন আমাদের ওপর হামলা করবে এখনই। ইশারায় আমাদের চলে যেতে বলল। কিন্তু যাওয়ার কোনো আগ্রহ দেখা গেল না আমাদের মধ্যে। ফেরার পথ ধরল লোকটা। পিছু নিতে চাইলাম আমরাও। কিন্তু পারলাম না। আমাদের পা যেন আটকে গেছে কোনো কিছুর সঙ্গে। ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা যা দেখলাম তাতে আমাদের চোখ ছানাবড়া। লোকটা শূন্যে এমনভাবে মিলিয়ে গেল যেন কোনো অদৃশ্য ঘরের ভেতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। চোখের সামনে এমন একটা দৃশ্য দেখে ভাষা হারিয়ে ফেললাম সবাই। হঠাৎ আমাদের পায়ের বন্ধন খুলে গেল। ভাষাও ফিরে এল। আমাদের আর এগোনোর সাহস নেই। রাত হয়ে গেছে অনেক। এখন বাড়ি যেতে হবে একা। তা–ও আবার জঙ্গলের ভেতর দিয়ে গাঙ পার হয়ে। এতক্ষণ যা দেখলাম সেটা ভেবে ভয়টা জেঁকে বসেছে আরও। সাঁকো দিয়ে গাঙ পার হচ্ছি। ঠিক মাঝখানে। পেছনে তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর শোনা গেল। সেদিকে তাকিয়েই ভয়ে জ্ঞান হারালাম আমি। পরদিন সকালে জ্ঞান ফিরল। আমি বাড়িতে শুয়ে আছি। রাতের সেই ঘটনার একটা অস্পষ্ট স্মৃতি চোখে ভাসল। কিন্তু কী দেখেছিলাম তা আর মনে পড়ল না।