স্কুল খোলার দিনটিতে হঠাৎ খেয়াল করলাম, বাতাসে কেমন যেন একটা আনন্দের সুবাস। বসন্তকালে যেমন থাকে, অবিকল তেমন। বাসে-রিকশায় ছেলেমেয়েরা স্কুলের পোশাক পরে স্কুল যাচ্ছে, ফেরত আসছে, স্কুলের ঘণ্টার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে কিছুক্ষণ পরপর, স্যারদের ব্যস্ত ভঙ্গিতে এক ক্লাসরুম থেকে অন্য ক্লাসরুমে ছুটে যাওয়া—সবই অত্যন্ত পরিচিত দৃশ্য। তবু সেগুলো দেখতে কত যে ভালো লাগছিল, বুঝিয়ে বলা কঠিন। আকাশে–বাতাসে কেমন একটা জাদু যেন ছড়িয়ে পড়েছিল! অবশ্য করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা অনেক সীমিত হয়ে গেছে। আমি এবং আমার বন্ধুরা যেখানে পাঁচজনের বেঞ্চে সাতজন বসতাম, এখন সেখানে এক বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজনকে ঠিকমতো বসতে দেওয়া হয় না। স্যারদের মতে, যতটা সম্ভব দূরে বসতে হবে। আমাদের তাতে মন খারাপ হয়েছে। এত দিন পর স্কুলে এসে বন্ধুদের সঙ্গে ইচ্ছেমতো বসতে পারব না—এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কী হতে পারে?
তবু মহামারি বলেই আপাতত মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হলো, স্কুল খুলেছে!