বেশ কয়েক মাস আগের কথা। আমাদের বাসার ডাইনিং রুমের জানালায় একটা কাক আসত। তবে উনি আবার স্পেশাল। প্রতিদিন দুপুরে খাবার সময় জানালার গ্রিলের ভেতর দিয়ে মুখ ঢুকিয়ে কা-কা করে জানান দিতেন যে ওনার লাঞ্চের সময় হয়েছে। নানা-নানু রীতিমতো ভাত মাখিয়ে দলা পাকিয়ে দিতেন কাকটাকে। প্রথম প্রথম আমি ভীষণ বিরক্ত হতাম। তাড়িয়ে দিতাম। ওমা একটু পর ঠিকই হাজির। কা-কা করে বাড়ি মাথায় তুলে যেন বলছে, ‘পারবি না রে। আমাকে তাড়াতে পারবি?’ কিছুদিনের মধ্যে আমারও মায়া পড়ে গেল ওর ওপর। কেউ না দেখলেও আমি দেখতাম কাকটা কখন আবদার করছে খাবারের জন্য। শত কাকের আনাগোনার মাঝে ওকে আলাদা করা যেত। ওর নাম দিলাম ক্রোচ্যান। এরপর আমিই সবার আগে ভাত মেখে দিতাম ওকে। কিন্তু হঠাৎ ক্রোচ্যানের আসা বন্ধ হয়ে গেল। নানা বললেন যে চারদিকে দালান উঠে গেছে। তাই আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে ওর। তবু আমি রোজ দুপুরে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকি যদি ক্রোচ্যান আসে। বুয়া খালা বলতেন, ‘কাউয়াটা আর আইত না। খুঁইজা পাইব না বাসা।’ তবু আমি আশা ছাড়িনি। একদিন ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছি। ড্রয়িং রুমের সঙ্গে ডাইনিং রুম। হঠাৎ শুনলাম সেই পরিচিত কা-কা স্বর। ছুটে গিয়ে দেখলাম ক্রোচ্যান ফিরে এসেছে। আমার খুশি কে দেখে তখন!