ওর নাম টিংকু। টিংকু সবকিছু নিয়ে একটু বেশিই টেনশন করে। তাই ওর স্কুলের বন্ধুরা ওর নাম রেখেছে ‘টিটি’ অর্থাৎ ‘টেন্সড টিংকু’। এই টিটি বাবু একবার একটা সাংঘাতিক কাণ্ড বাধিয়ে ফেলল।
টিংকু সবচেয়ে বেশি টেনশন করে ওর শরীর নিয়ে। এই তো সেদিন সে টর্চলাইট দিয়ে তার মুখের ভেতরটা দেখছিল। হঠাৎ সে খেয়াল করল, জিবের একদম পেছনের অংশে ফুসকুড়ির মতো অনেকগুলো গুটিগুটি কী যেন। অন্তত দশবার সে টর্চলাইট ঘুরিয়ে মুখ বড় হাঁ করে দেখতে লাগল সেই জিনিসটা। যা বোঝার বুঝে গেল সে, তার দুচোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল ভয়ে। সে দৌড়ে বাবার কাছে গেল। সব ঘটনা খুলে বলল বাবাকে। তারপর বলল, ‘বাবা, এগুলো টিউমার, তাই না? আমার নিশ্চয়ই ক্যানসার হবে তাই না?’ বলেই সে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে লাগল। তার এ রকম মার্কামারা অবস্থা দেখে তার বাবা হো হো করে হেসে উঠলেন। এরপর তার বাবা বললেন, ‘টিংকু, টর্চলাইট দিয়ে আমার মুখের ভেতরটা একবার দেখো দেখি।’ টিংকু তা–ই করল। সে–ও তার বাবার মুখে অমন ফুসকুড়ি দেখে চিত্কার করে উঠল। বলল, ‘বাবা, তোমার মুখেও! এখন কী হবে?’ বাবা বললেন, ‘বোকা ছেলে টিংকু, সব মানুষেরই জিবের পেছনের অংশে অমন গুটিগুটি ফুসকুড়ির মতো থাকে। এটা মোটেও কোনো টিউমার বা ক্যানসার না রে।’ টিংকু বলল, ‘সবার থাকে? সত্যি?’ বাবা বলল, ‘বিশ্বাস না হলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রত্যেক মানুষের মুখের ভেতরটা চেক করবি।’
এখন তোমরাও তোমাদের মুখের ভেতরটা টর্চলাইট দিয়ে চেক করে দেখো দেখি, ফুসকুড়ি আছে কি না, জিবের পেছনে?