দুই টাকার নোট

অলংকরণ: রাকিব রাজ্জাক

তখন স্কুলে ভর্তিও হইনি। বাবা রাজশাহী থাকতেন। তাই প্রায়ই নওগাঁ থেকে রাজশাহী যাওয়া হতো। সেই সময় এক টাকায় চারটা লজেন্স ক্যান্ডি পাওয়া যেত। রাজশাহীতে যে অ্যাপার্টমেন্টে বাবা থাকতেন, তার বাইরে প্রধান গেটের পাশে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ছিল। আর এই দোকান ছিল আমার যাবতীয় দাঁতে পোকা লাগানো খাবারের সংগ্রহশালা। একবার খুব জেদ ধরলাম লজেন্স খাব, বাবা আমাকে দুটি এক টাকার কয়েন হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যাও কিনে নিয়ে এসো।’ আমি তখন বুঝতাম যে কয়েনের অর্থ হলো পঁচিশ পয়সা, পঞ্চাশ পয়সা অথবা এক টাকা। কিন্তু দুটি এক টাকায় যে দুই টাকা হয়, তা আমি বুঝতাম না। নতুন জেদ ধরলাম যে এক টাকা নেব না। দুই টাকা লাগবে আমার। বাবা বললেন, ‘দুই টাকাই দিয়েছি তো।’ না, আমি তো কিছুতেই মানি না। না পেরে বাবা একটা দুই টাকার কয়েন দিলেন আমাকে। আমি জানতাম না যে দুই টাকারও কয়েন হয়। ভাবলাম, বাবা আমাকে বোকা বানাচ্ছেন। রেগেমেগে চেঁচামেচি করতে লাগলাম, আমি দুই টাকার একটা নোট চাইছিলাম, আর আমি তখন নোট বলতে কেবল দুই টাকাই বুঝতাম। তখন আমাকে কেউ এক হাজার টাকার নোট দিলেও আমি ভাবতাম, ওটা বুঝি দুই টাকাই। তো শেষমেশ দুই টাকার নোটের গল্পটা কীভাবে শেষ হলো, তা আমার নিজেরই মনে নেই। তবে টাকার ব্যাপারে মজার মজার ধারণাগুলো আজও আমার পরিষ্কার মনে আছে।