নিশাপতির গল্প

অলংকরণ: রাকিব রাজ্জাক

আমি মিলিদের বাসার ওপরেই থাকি । কী বললে? মিলি কে? ওই তো মিলি! রাতের খাবার খাবে না বলে বায়না করছে। মেয়েটার ছোটবেলা থেকেই এই এক বদ–অভ্যাস। কিছুতেই রাতের খাবারটা ঠিকমতো খেতে চায় না। এই বাড়িতে মিলি থাকে সেই ৩ বছর বয়স থেকে। কিন্তু মনে হয় এই তো সেদিনই বাচ্চা মেয়েটা এল বাবা-মায়ের হাত ধরে। ওর একটা ছোট ভাইও আছে। ভাইটা অবশ্য দুষ্টু না, খুব দুষ্টু। তবে মিলির মতন খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ঝামেলা করে না। তাই আমার সঙ্গে খুব একটা দেখা হয় না ওর। মিলি ছোটবেলায় আমার দেখা না পেলে খেতেই পারত না। ছোটবেলায় আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যুর গল্প অথবা আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের গল্প শুনতে শুনতে মিলির মা খাইয়ে দিত মিলিকে। খাবার যে কখন শেষ হয়ে যেত, টেরই পেত না মিলি। এই সেদিনও তো জানালায় এসে আমায় জিজ্ঞেস করছিল, তুমি কি সত্যিই চরকা কাটতে জানো? সেই মিলি আজ কত্ত বড় হয়ে গেছে। এখন আর রাতে খাওয়ার সময় তো আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেই না, অন্য সময়ও আসে না। শুধু মিলি নয়, ও বাড়ির কলি, পাশের পাড়ার তন্ময়—কেউই আর আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে না। যান্ত্রিক শহরের যান্ত্রিক বর্জ্যে ওরা আজ অনেক ব্যস্ত।

ও, আমার নামটাই তো তোমাদের বলা হয়নি। তোমরা আমাকে সবাই চেনো। কেউ আমাকে ডাকো মামা বলে, আবার অনেকে বুড়ি বলেও ডাকো। হ্যাঁ, আমার নাম চাঁদ বা নিশাপতি।

লেখক: শিক্ষার্থী, একাদশ শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা