বিড়াল–কাহিনি

অলংকরণ: রাকিব রাজ্জাক

তানভীর তাদের পাড়ার অনেক ‘কিউট’ একটা ছেলে। ক্লাস থ্রিতে পড়ে সে। গোলগাল চেহারা এবং হাবাগোবা টাইপের তানভীরকে পাড়ার সবাই খুব পছন্দ করে, শুধু একজন ছাড়া। সে হলো পাশের বাসার সাদিয়া আপুর পোষা বিড়াল। বিড়ালটার নাম ‘পিলু’। তানভীর আগে কখনো এত কিউট বিড়াল দেখেনি। বিড়ালটা অনেক সুন্দর। পুরো গায়ের রং সাদা। শুধু ঘাড়ের কাছে কিছু অংশ ও লেজটা কালো। সব মিলিয়ে মায়াবী একটা চেহারা। তানভীরের সমবয়সী ছেলেমেয়েরা পিলুকে নিয়ে খেলত। তাকে আদর করত। তাতে কোনো আপত্তি করত না পিলু। কিন্তু শুধু তানভীর আদর করতে গেলে দৌড়ে পালাত, ধারেকাছেই আসত না। অনেক চেষ্টা করেও তানভীর বিড়ালটাকে মানাতে পারেনি। এ জন্য বিড়ালটার ওপর অভিমানও ছিল তার।

একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল তানভীর। সাদিয়া আপুর বাসার কাছাকাছি আসতেই সে পিলুর মিঁয়াও মিঁয়াও শুনতে পেল। একটু এগোতেই দেখল, একটা বাঁশের বেড়ার মধ্যে নিজেকে আড়াল করে গুটিসুটি মেরে বসে আছে পিলু। একটা কুকুর তার দিকে দাঁত খিঁচিয়ে তাকিয়ে আছে। পিলুকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল খুব ভয় পেয়েছে সে। সাদিয়া আপুদের বাসায় তালা মারা, মানে কেউ বাসায় নেই। তানভীর ভয় দেখিয়ে তাড়াল কুকুরটাকে। আবার দাঁত খিঁচিয়ে চলে গেল কুকুরটা। এতক্ষণে বাইরে চলে এসেছে পিলু। ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল তানভীর। একটু পরই পায়ের কাছে এসে তাকে আদর করতে লাগল বিড়ালটা। ইশ্‌! কি কিউট বিড়ালটা। এরপর থেকে বিড়ালটা আর তানভীরকে দেখে দৌড়ে পালায় না। হয়তো বিড়ালটা সেদিন তানভীরের সাহায্য বুঝতে পেরেছিল।