ভয়ংকর নদীভ্রমণ

তখন আমাদের স্কুলে ঈদের বন্ধ চলছে। সবাই মিলে বেড়াতে গেলাম দাদুর বাড়ি। কিন্তু সেবার ঈদের আরও ১২ দিন আছে। আমার দুই ফুফাতো ভাই রবিন ও রাজু তারা শহর থেকে আসার সময়ই পরিকল্পনা করেছে এবার নদীর মাঝখানে চরে যাবে। আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এক নদী। তার ঠিক মাঝখানে ছোট চর রয়েছে। তো আমরা তার পরিকল্পনামতো রাজি হলাম। গ্রামের আরও দুই ভাইকেও নিয়ে গেলাম। কিন্তু কাউকে না বলে। আমাদের নদীর তীরে ছোট একটি নৌকা ছিল। কিন্তু তার পিঠে অসংখ্য ফুটো। আমরা মাটি দিয়ে সে ফুটো বন্ধ করলাম। শুরু হলো নৌকাযাত্রা, কয়েক মিনিটের জন্যই হলো, কারণ যেতে এত কম সময় লাগবে, তা আমি জানতামই না। খুবই মজা করলাম, কিন্তু মজাকে সাজা করে নদীতে স্রোত এল। আমরা তাড়াতাড়ি করে নদীতে নৌকা ভাসিয়ে পাড়ে যেতে আরম্ভ করলাম। পানির ছিটায় নৌকার ফুটোগুলো থেকে মাটি সরে এল। আমার পাশের এক ভাই তখন পানির এক বড় ধাক্কায় নদীর স্রোতে পড়ে গেল। কিন্তু সাঁতরে নদী পার হয়ে গেল সে। নদীর মাঝবরাবর এসে আমাদের নৌকাটি ঘুরপাক খেতে শুরু করল। সামনে থেকে দেখা যাচ্ছে একটি অনেক বড় ঢেউ আসছে। আমার গলা তখন কাঠ হয়ে গেছে। হয়তো আর বাঁচব না। কিন্তু তখন আমার জ্যাঠাতো ভাই সাহস করে পানিতে নেমে নৌকাটিকে ঠেলতে শুরু করল। আমরা আশার আলো পেলাম। অনেক কষ্টে পাড়ে উঠলাম কিন্তু নৌকাটি স্রোতের টানে কোথায় যেন চলে গেল। আমরা বাড়ি ফিরে দেখি বাড়িতে কত মানুষ। কারণটা বুঝতে পারলাম। আমরা সকাল নয়টায় বের হয়ে সন্ধ্যা সাতটায় বাড়িতে ফিরলাম। খুবই ভয়ংকর নদীভ্রমণ।

লেখক: সপ্তম শ্রেণি, ফেনী পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ফেনী।