কিছুদিন আগের কথা, আব্বুর প্রায়ই পায়ে ব্যথা করে রাতের বেলা। তাই আব্বু একদিন অফিস থেকে আসার সময় দোকান থেকে টাইগার বাম কিনে আনলেন। আমার ছোট ভাইকে বললেন বামটি ড্রেসিং টেবিলে রেখে আসতে। সে এ বছরই ক্লাস ওয়ানে উঠেছে, অনেক আদুরেও বটে। আবার আম্মু-আব্বুর আদেশ পালনেও সে থাকে সবার সামনে। তাই আব্বু বলতেই সে বামটি দৌড় দিয়ে রেখে আসে। পরদিন সকালের কথা, ঘুম থেকে উঠেই দেখি স্কুল শুরু হতে আর মাত্র পনেরো মিনিট বাকি। আমি জলদি উঠে আম্মুকে ডাক দিয়ে রেডি হতে শুরু করি। আম্মুও উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হন। আমি, ছোট ভাই রাকিব আর আম্মু যখন ঘর থেকে বের হব, এমন সময় আম্মু আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘এই, দেখো তো ঠোঁট ফেটে গিয়ে রক্ত বের হচ্ছে কি না!’ আমি বললাম, হ্যাঁ, আম্মু! হালকা হালকা। আম্মু রাকিবকে ড্রেসিং টেবিল থেকে লিপবামের কৌটা খুলে সেখান থেকে হালকা লিপবাম নিয়ে আসতে বললেন। যেই বলা সেই কাজ। রাকিব মুহূর্তের মধ্যে আম্মুর জন্য হাতে করে একটু বাম নিয়ে এল। আম্মু পুরো বামটুকু ঠোঁটে লাগালেন এবং হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন, ‘এই রাকিব, এইটা কী এনেছিস?’ রাকিব বলল, ‘কেন মা, বাবা রাতে যে নতুন লিপজেল এনেছিল, সেখান থেকে এনেছি।’ মা একটা জোরে ধমক দিয়ে বললেন, ‘ওরে গাধা রে, ওটা তো তোর বাবার পা ব্যথার জায়গার মালিশ করার বাম।’ এরপর আর কী, আম্মুর পানি দেওয়ার পরও অনেকক্ষণ ঠোঁট জ্বলেছিল কিন্তু রাকিবের ওপর ক্ষোভটা সারা দিনেও যায়নি। আর এভাবেই টাইগার বাম থেকে লিপবাম হওয়ার গল্পটি সমাপ্ত হয়।