রহিম স্যার একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। বার্ষিক পরীক্ষার আগে স্যারের কাছে অঙ্ক করতে গেলাম। মাইনে হিসেবে স্যারকে ৮০০ টাকা দিতে হতো। স্যার অবশ্য কখনোই টাকার কথা বলতেন না। কে টাকা দিল, কে দিল না তা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথাই ছিল না। ব্যাপারটা আমার চোখে পড়ল। আমি স্যারের কাছে দুই মাস পড়লাম। বাসা থেকে দুবার টাকা নিলাম, কিন্তু স্যারকে আর দিলাম না। স্যারও কিছু বললেন না। অন্য ছাত্রদের মতোই আমাকে অঙ্ক শেখালেন। পরীক্ষায় খুব ভালো করলাম। তারপর স্যারের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। একদিন এক বড় ভাইয়ের কাছে শুনলাম স্যারের কথা। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে স্যারই সবার বড়। ভাই-বোনদের দুজন কলেজে আর বাকিরা স্কুলে পড়ে। বাবা না থাকায় অন্য ভাই-বোনদের সব খরচ স্যারই বহন করেন। শুনে আমার খুব খারাপ লাগল। এমন একজন মানুষের টাকা মেরে আমি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছি! আমি বেশ কয়েকবার স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম। স্যার এত অমায়িক! আমি লজ্জায় টাকার কথাটা তুলতেই পারলাম না। সেই টাকা আজও দেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে দেখা হলে স্যার আমার খোঁজখবর নেন। আমিও নিই, কিন্তু কথা শেষ হলেই মনের ভেতর খচখচ করে। মনে হয়, ইশ্, স্যারের পা ধরে যদি মাপ চেয়ে নিতাম! ব্যাপারটা কাউকে বলিনি কখনো। কিআর বন্ধুদের কথাটা বলতে পেরে কিছুটা হালকা লাগছে।