default-image

লাথি মারার জন্য পা ছোঁয়াতেই মরা বিড়ালটা ম্যাও বলে উঠল! লাফিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে আসার পর ভালো করে তাকিয়ে দেখি বিড়ালটা মরেনি। তবে চাপ পড়ে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এসেছে। মুখটা বিকৃত করে যেই বাসার সিঁড়িতে পা বাড়িয়েছি, অমনি আবার সেই ডাক। ঘৃণাকে পাশে সরিয়ে আমার স্কার্ফটা খুলে বিড়ালটাকে জড়িয়ে নিয়ে ছুটলাম হাসপাতালে। ক্রিটিক্যাল কেস—তিন ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর ভেটেরিনারিয়ানের হাসিমাখা মুখটা দেখে আমার মুখের ওপর থেকে পূর্ণিমা রাতে আঁধার করা কালো মেঘ সরে যাওয়ার পর আমার ঘুম ভাঙল! আমার প্রতিদিনের রুটিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই স্বপ্ন। এইমাত্র একটা আর্জেন্ট কল এসেছে, এক্ষুনি যেতে হবে। একটা কুকুর রাস্তা পার হতে গিয়ে অ্যাকসিডেন্ট করেছে। সম্ভবত সামনের ডান পা রিপ্লেস করতে হবে। আজ আমি একজন ভেটেরিনারিয়ান। অসহায় পশু-পাখিদের জীবন রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। হাজার হোক, ১৮ বছর আগে অমাবস্যার সেই রাতে অজান্তে আমার বাইকের নিচে চাপা পড়া ছোট্ট বিড়ালছানাটির বাঁচার আকুতি আমি শুনেও উপেক্ষা করেছিলাম।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

বিজ্ঞাপন
কিশোর আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন