default-image

প্রিয় মনোবন্ধু,

ছোটবেলা থেকে ভালো শিক্ষার্থী ছিলাম আমি। এমনকি অষ্টম শ্রেণিতেও আমার রোল ছিল ২। কিন্তু আমি জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাইনি। পেয়েছি ৪.৮৬। ইংরেজিতে এ–প্লাস পাইনি। অথচ বরাবরই ইংরেজিতে সর্বোচ্চ নম্বর পেতাম আমি। বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। তাতে রেজাল্ট পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব হতাশাগ্রস্ত। আমি টিভি, মোবাইল বা ফেসবুকে আসক্ত নই বা কোনো আবেগীয় সম্পর্কেও জড়িত নই। তবু রেজাল্ট খারাপ হয়ে গেল। পাঁচটি মাস পেরিয়ে গেলেও আমার বাবা–মা এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তাঁরা এখনো বিভিন্ন নেতিবাচক কথা বলেন, যা আমি কখনোই কল্পনা করতে পারি না। তাঁরা আমার প্রতি খুবই বিরক্ত। আমি নবম শ্রেণিতে স্বনামধন্য একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছি। এমনিতে বাসায় বিব্রতকর পরিবেশ, স্কুল একদম ভিন্ন এবং নতুন পরিবেশ, আমার জীবনটাকে বিষাদময় করে তুলেছে। আমি ভেবেছিলাম একসময় হয়তো সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই ঠিক হয়নি। আমি এখন আগের মতো অমনোযোগী। পড়াশোনা করতে পারি না। শরীর খারাপ লাগে। মাথাব্যথা করে। অবশ্য এসব নিয়ে আমার পরিবারের কেউ কিছু ভাবে না। আমি আবার স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই। এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ–প্লাস পেতে চাই। আমি কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব? পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

নবম শ্রেণি, রংপুর

উত্তর: শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু ভালো ফল নয়। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ভালো মানুষ হওয়া, সুনাগরিক হওয়া। বাবা-মায়েরা এই ভুলটি করে ফেলেন এবং সন্তানকে এমন সব টার্গেট দেন যাতে তার রেজাল্ট হয়তো চাপাচাপিতে ভালো হয় কিন্তু তাদের মধ্যে মানবিক গুণগুলো বিকশিত হতে পারে না, সামাজিক দক্ষতা তৈরি হয় না। হয়তো কারও মধ্যে অপার সম্ভাবনা ছিল আইনস্টাইন হওয়ার, কিন্তু বাবা-মায়ের আশা–আকাঙ্ক্ষায় সে হয়ে গেল একজন প্রকৌশলী, প্রকৌশলী মোটেই খারাপ নয় কিন্তু বাবা-মায়ের চাপে একজন আইনস্টাইন থেকে বিশ্ববাসী বঞ্চিত হলো। তেমনি করে যার মধ্যে মাদাম কুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বাবা–মায়েরা চান সে যেন হয় চিকিৎসক! কেবল ভালো রেজাল্ট যদি লক্ষ্য হয়, তবে গোল্ডেন জিপিএ–৫ পাওয়া অনেককে পাওয়া যাবে কিন্তু স্বপ্নবান তারুণ্য হারিয়ে যাবে। সুতরাং কিআর এই পরামর্শগুলো যদিও আমরা তোমাদের জন্য লিখছি কিন্তু মূলত এটা পড়া দরকার তোমাদের বাবা–মায়েদের। তাঁরা যেন জিপিএ–৫–এর টার্গেট দিয়ে তোমাদের স্বপ্নগুলোকে মিইয়ে না ফেলেন।

বিজ্ঞাপন

যাহোক, এ মুহূর্তে তোমার জন্য যেটা জরুরি, সেটা হচ্ছে তুমি বাবা-মা বা স্কুলের চাপের কথা মন থেকে দূর করার চেষ্টা করো, তোমার কাজ হচ্ছে পড়ালেখা করা, জিপিএ–৫ পাওয়া নয়। এটা মনে রেখে তুমি মন দিয়ে পড়ে যাও। ঠিকমতো পড়তে পারলে ভালো ফল হবে, আর যদি মন দিয়ে পড়তে পারো, তবে ফল কোনো বিষয় নয়, এই পড়াটা তুমি যেন কাজে লাগাতে পারো, সেটাই জরুরি। তুমি যত বেশি টার্গেটনির্ভর পড়ালেখা করবে (যেমন গোল্ডেন জিপিএ পেতে হবেই) ততই তোমার মধ্যে মানসিক চাপ বাড়তে থাকবে, পড়ালেখায় মনোযোগ কমবে। তাই পড়ায় মনোযোগ বাড়াতে হলে রুটিন করে কেবল পড়ে যাবে। ফলের দিকে নজর কম দেবে। আর সেই সঙ্গে গল্পের বই পড়া, খেলাধুলা করা, কিআ পড়া কিন্তু কমানো চলবে না। পড়ার বইয়ের চেয়েও এগুলো অনেক জরুরি।

এই বিভাগে তোমরা তোমাদের মানসিক নানা সমস্যা, যা তোমার শিক্ষক, মা-বাবা বা অন্য কাউকে বলতে পারছ না, তা আমাদের লিখে পাঠাও। পাঠানোর ঠিকানা—মনোবন্ধু, কিশোর আলো, ১৯ কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ইমেইলে পাঠাতে হলে সাবজেক্টে লিখবে - ‘মনোবন্ধু’, তারপর তোমার সমস্যাটি ইউনিকোড ফরম্যাটে লিখে পেস্ট করে দেবে মেইলের বডিতে। নাম, বয়স লিখতে ভুলবে না। তোমার সমস্যা বোঝার ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোর আলো থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন