সহপাঠী

অলংকরণ: রাকিব রাজ্জাক

আমাদের জসিম স্যার ছিলেন অতি গুণসম্মত মানুষ। তাঁর গুণগুলো শুনলে যেকোনো শত্রুও ভয় পেয়ে যেত। একটু পরিমাণ ভুলের শাস্তি স্কুলের সবচেয়ে উঁচু স্থানে কান ধরে ওঠা–বসা করার মতো কঠিন হতে পারে। তাই ছাত্ররা তাঁর নাম দিয়েছে গাট্টু স্যার। কেউ বলে গাট্টু ভাই।

তো একবার সমাবেশে দাঁড়াব না বলে দেরি করে স্কুলে এলাম। স্কুলের মাঠটা পেরিয়ে যেই না রুমের পাশে এসেছি, অমনি দেখি ক্লাস শুরু। প্রথম ক্লাসটাই জসিম স্যারের, ইংলিশ গ্রামার। সবাই দেখি বোর্ডে গ্রামারের যে নিয়মগুলো লেখা আছে, তা তুলছে। ক্লাস চুপচাপ। আমিও চুপচাপ পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে মাজেদের পাশে বসলাম।

কিন্তু ক্লাসে স্যারের অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে পারছিলাম না। বন্ধু মাজেদের ঘাড়ের ওপর হাত দিয়ে বললাম, ‘কিরে, গাট্টু ভাই কোথায় রে?’ স্যারকে তখনো বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে খুঁজছিলাম। তারপর কেন যেন আমার হাতটা মাজেদের ঘাড় থেকে বাহুতে গেল। আরে, এত বিশাল বাহু মাজেদের? জিম করে তো ভালোই পেশি বানিয়েছে।

স্যারকে খুঁজতে খুঁজতে মাজেদকে বললাম, ‘কিরে ব্যাটা, কবে থেকে জিম করছিস? বডি তো হেব্বি বানিয়ে...’ শেষ না করতেই মাজেদকে দেখলাম, আমার দুই সিট সামনে বসে আছে। পাশ ফিরে দেখি স্যার মাজেদের জায়গায়, মানে আমার পাশেই বসে আছেন। তার পরের অংশ হাসপাতালের ১৭৬ নম্বর বিছানা ভালো করে জানে।

আরও পড়ুন