মার্ভেলের নতুন মুভি স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে
৩১ জুলাই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে টম হল্যান্ড অভিনীত স্পাইডার-ম্যান সিরিজের নতুন মুভি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ইতিমধ্যে ফাইনাল ট্রেইলারও মুক্তি পেয়েছে।
এই মুহূর্তে বক্স অফিসে ‘দ্য ওডিসি’ বড় ধরনের সাফল্য পেলেও মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে বিশাল বাজেটের এই স্পাইডার-ম্যান মুভিটি। এটি পরিচালনা করেছেন ‘শ্যাং-চি অ্যান্ড দ্য লেজেন্ড অফ দ্য টেন রিংস’ খ্যাত পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন।
সনি পিকচার্স ২০২১ সালের সুপারহিট মুভি ‘নো ওয়ে হোম’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে এই শেষ ট্রেলারটি সামনে এনেছে। শোনা যাচ্ছে, টম হল্যান্ডকে মূল ভূমিকায় রেখে এই নতুন মুভির মাধ্যমেই স্পাইডার-ম্যানের আরও একটি নতুন তিন পর্বের সিরিজ (ট্রিলজি) শুরু করতে যাচ্ছে মার্ভেল স্টুডিওস।
পিটার পার্কার চরিত্রে এটি তাঁর চার নম্বর একক মুভি। এই মুভির গল্প শুরু হবে ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ যেখানে শেষ হয়েছিল, ঠিক সেখান থেকে। সেই ঘটনার পর পুরো পৃথিবী পিটার পার্কারের কথা একদম ভুলে গিয়েছিল।
এরপরের সময়ে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স (এমসিইউ) অনেকগুলো মুভি ও টিভি শো তৈরি করেছে। ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভল. থ্রি’, ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ এবং ‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন এগেইন’। মার্ভেলের মূল টাইমলাইনে এই নতুন স্পাইডার-ম্যান মুভি অবস্থান ঠিক কোথায়?
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এমসিইউ (মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স)-এর ফেজ সিক্সের অংশ। মার্ভেলের সর্বশেষ যেসব মুভি ও টিভি শো আসছে, তার মধ্যেই রয়েছে এই পর্বটি। এই তালিকায় ‘দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’-এর পাশাপাশি ডিজনি প্লাসের পাঁচটি শো রয়েছে। ‘আইজ অব ওয়াকান্ডা’, ‘মার্ভেল জম্বিস’, ‘ওয়ান্ডার ম্যান’, ‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন এগেইন’এবং ‘দ্য পানিশার: ওয়ান লাস্ট কিল’।
মার্ভেল স্টুডিওর এই মুভির পরই আসবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’। আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া সেই মুভিতে মার্ভেলের প্রধান সুপারহিরোদের একসঙ্গে আবার দেখা যাবে।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুভির শুরুর দৃশ্যটি দেখানো হবে ‘নো ওয়ে হোম’-এর ঘটনার ৯ মাস পরের সময় নিয়ে। তবে মুভির মূল গল্পটি সাজানো হয়েছে ‘নো ওয়ে হোম’-এর চার বছর পর থেকে।
‘নো ওয়ে হোম’ মুভির শেষে দেখা যায়, বিশ্বকে বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পিটার পার্কার নিজের পরিচয় গোপন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জাদুতে এমজে ও তার বন্ধু নেডসহ পৃথিবীর সব মানুষ তাকে পুরোপুরি ভুলে যায়। শেষ দৃশ্যটিতে দেখা যায়, পিটার একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে নতুন করে থাকতে শুরু করেছে। নিজের হাতে কাপড় সেলাই করে স্পাইডার-ম্যানের নতুন একটি স্যুট বানিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমেই পিটার পার্কারের জীবনে স্পাইডার-ম্যান হিসেবে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
দুই মুভির মাঝখানের চার বছরের ব্যবধান নিয়ে অভিনেতা টম হল্যান্ড বলেন, দর্শকেরা যেন চরিত্রগুলোকে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিণত দেখতে পান, সেই চিন্তা থেকেই এই সময়ের গল্প তৈরি করা হয়েছে। ফলে শুরু থেকেই দর্শকেরা প্রিয় চরিত্রগুলোকে একটু নতুন রূপে দেখতে পাবেন।
এই নতুন মুভিটি শুধু ‘নো ওয়ে হোম’-এর পরের গল্পই বলবে না। বরং এটি স্পাইডার-ম্যানের মুভির জগৎকে আরও বড় করে তুলবে। টম হল্যান্ডের আগের মুভিগুলোতে ছিল না, মার্ভেলের এমন অনেক নতুন নতুন চরিত্রকে এই মুভির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে।
২ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের এই মুভিতে মূল অ্যাভেঞ্জারদের হাল্ককে দেখা যাবে। ডিজনি প্লাসের ‘শি-হাল্ক’ সিরিজের পর এই প্রথম তিনি মার্ভেলের কোনো মুভিতে ফিরলেন। পাশাপাশি জন বার্নথালকেও ফ্র্যাঙ্ক ক্যাসেল বা দ্য পানিশার চরিত্রে আবার দেখা যাবে। কিছুদিন আগেই তিনি ডিজনি প্লাসের স্পেশাল শো ‘দ্য পানিশার: ওয়ান লাস্ট কিল’-এ মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।