তৈরি হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমান, কী কাজে ব্যবহার করা হবে

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বোল্ডারে অবস্থিত রেডিয়া নামের কোম্পানি তৈরি করবে উইন্ডরানারছবি: অ্যারোটাইম

১৯০৩ সাল থেকে আকাশে উড়ছে বিমান। এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে হাজারো ধরনের বিমানের মডেল। কোনোটা যাত্রী পরিবহনে, আবার কোনোটা সামরিক কাজে। কিছু বিমান আবার ব্যবহার হয় উদ্ধারকাজে। কাজের ধরন অনুসারে এসবের আকার ও আকৃতি ভিন্ন হয়।

সম্প্রতি এমন এক বিশাল বিমান তৈরির কাজ চলছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম বিমান হওয়ার পথে। তবে এর আকার বা ইঞ্জিন নিয়ে যতটা আলোচনা হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে এর ব্যবহার নিয়ে। তাহলে, কী কাজের জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমান?

বিশ্বের বৃহত্তম এই বিমান তৈরির প্রকল্পের নাম উইন্ডরানার। বিমানটি কিন্তু এখনো তৈরি হয়নি। এর আগেই বিশ্বের বৃহত্তম বিমান বলা হচ্ছে উইন্ডরানারকে। এটি সম্পূর্ণরূপে অনুমোদন পেলে বিশাল আকারের এবং বিশ্বের বৃহত্তম মালামাল পরিবহনের জন্য ডিজাইন করা বিমানটি পুরোনো সব রেকর্ড ভেঙে দেবে, আশা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের।

আরও পড়ুন
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে
ছবি: অ্যারোটাইম

মজার ব্যাপার হলো, উইন্ডরানার নামের বিশ্বের বৃহত্তম এই বিমানটি এয়ারবাস, বোয়িং বা লকহিডের মতো কোনো পরিচিত কোম্পানি তৈরি করছে না। এমন একটি সংস্থা এটি তৈরি করছে, যারা এর আগে কখনো বিমান তৈরি করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বোল্ডারে অবস্থিত রেডিয়া নামের কোম্পানি তৈরি করবে উইন্ডরানার। কোম্পানিটি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক লুন্ডস্ট্রম, যিনি একজন উদ্যোক্তা ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন মহাকাশ প্রকৌশলী। কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে বিমানের নকশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিমানটির ডানার দৈর্ঘ্য হবে ৮০ মিটার বা ২৬২ ফুট এবং মূল বিমানের দৈর্ঘ্য হবে ১০৮ মিটার বা ৩৫৪ ফুট।

আমরা এমন এক সময়ে আছি, যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে। এই সমস্যা সমাধানে রেডিয়া কোম্পানি এক নতুন পরিকল্পনা করেছে। তারা আবাসিক এলাকা থেকে অনেক দূরে ও দুর্গম এলাকায় বিশ্বের বৃহত্তম বাতাসে চালিত টারবাইন ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরি করে। দুর্গম এলাকায় টারবাইন পৌঁছে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বিমান তৈরি করার পরিকল্পনা করছে।

আরও পড়ুন
বিশাল বিশাল টারবাইন ব্লেড ও কাঠামো সাগরের দুর্গম উপকূলে সহজে নিয়ে যাওয়া যাবে
ছবি: অ্যারোটাইম

উপকূলে স্থাপিত বায়ু টারবাইন ব্লেড দৈর্ঘ্যে ১০০ মিটার বা এরও বেশি হতে পারে। সাধারণত স্থলে টারবাইনের ব্লেডের দৈর্ঘ্য হয় ৭০ মিটার। সমতল বা মালভূমির মতো কোনো স্থানে কারখানা থেকে এত বড় কিছু রাস্তা দিয়ে পরিবহন করা খুব কঠিন। উপকূলে বাতাসচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্প তাই তেমন একটা দেখা যায় না।

পরিবহনের এই সমস্যার সমাধান করার কথা ভেবেছেন মার্ক লুন্ডস্ট্রম। এতে বিশাল বিশাল টারবাইন ব্লেড ও কাঠামো সাগরের দুর্গম উপকূলে সহজে নিয়ে যাওয়া যাবে। এতে আরও বেশি শক্তি উৎপাদন করা যাবে। একই সঙ্গে খরচ কমবে। মার্ক লুন্ডস্ট্রম জানান, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প লাভজনক হবে। এ রকম প্রকল্প করলে স্থানীয় জমির দাম দ্বিগুণ বা তিন গুণ বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০ লাখের বেশি এ ধরনের সুপার টারবাইন তৈরি করা সম্ভব হবে। লুন্ডস্ট্রম এই বিশাল পরিকল্পনাকে ‘গিগাউইন্ড’ নাম দিয়েছেন। রেডিয়া জানিয়েছে, এটি উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ শিল্পে একটি বিপ্লব ঘটাবে।

আরও পড়ুন

উইন্ডরানার বিমানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এত বড় বিমানের জন্য শক্তপোক্ত ও দীর্ঘ রানওয়ে প্রয়োজন হয়; যা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে, বায়ু টারবাইনের পাশে থাকা রানওয়েগুলো অস্থায়ীভাবে বানানো হয়। এই রানওয়েগুলো মাটি বা নুড়ি পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়। এ ধরনের রানওয়েতে চলাচল করার জন্য বিমানটির শক্তিশালী ল্যান্ডিং গিয়ার ও বিশেষ ধরনের টায়ার থাকা জরুরি। যেন কোনো ক্ষতি না হয়। এ ধরনের ক্ষমতা থাকলেই শুধু সবচেয়ে বড় বিমানটি বিশাল টারবাইন ব্লেডগুলো দুর্গম এলাকায় নিয়ে যেতে পারবে।

এতদিন অ্যান্টোনভ এএন-২২৫ মারিয়া ছিল বিশ্বের বৃহত্তম কার্গো বিমান। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের প্রথম দিকে বিমানটি ধ্বংস হয়ে যায়।

সূত্র: এরো টাইম, রেডিয়া, বিবিসি

আরও পড়ুন