৫০ কোটি সাবস্ক্রাইবার হওয়ার পর ইউটিউব থেকে যা পেলেন মিস্টারবিস্ট
ইউটিউবের ইতিহাসে প্রথম কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ৫০ কোটি সাবস্ক্রাইবারের রেকর্ড গড়েছেন মিস্টারবিস্ট। জিমি ডোনাল্ডসন নামের বিখ্যাত ইউটিউবারের চ্যানেল এটা। ১২ জুন তিনি এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। এর মাধ্যমে ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইবারের ক্রিয়েটর হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
সাধারণত ইউটিউবে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার হলে রেড ডায়মন্ড প্লে বাটন পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু মিস্টারবিস্টের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যকে উদ্যাপন করতে ইউটিউবের সিইও নীল মোহন নিজে জিমির সঙ্গে দেখা করে বিশেষভাবে তৈরি একটি ৫০০এম প্লে বাটন উপহার দিয়েছেন। মিস্টারবিস্টই পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি, যাঁর চ্যানেলের জন্য ইউটিউব কর্তৃপক্ষ স্পেশাল এই প্লে বাটনটি বানিয়েছে।
বিশেষভাবে তৈরি এই ট্রফিটির নিচের অংশ রুপালি রঙের ও হীরা দিয়ে নিখুঁতভাবে নকশা করা, যা ইউটিউবের ডায়মন্ড প্লে বাটনের আদলে বানানো। ট্রফিটির ওপর মিস্টারবিস্টের বিখ্যাত ‘বিস্ট প্যান্থার’ লোগোটি থ্রিডি ডিজাইনে করা হয়েছে। ট্রফিটিতে নীল ক্রিস্টাল ও লাল রঙের একটি বেস রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে ইউটিউবের সিইও নীল মোহন লিখেছেন, ‘ইউটিউবের প্রথম ক্রিয়েটর হিসেবে ৫০ কোটি সাবস্ক্রাইবার পাওয়ার জন্য মিস্টারবিস্টকে অভিনন্দন। এই অর্জন প্রমাণ করে, একজন ক্রিয়েটর যখন নিজের সৃজনশীলতা ও আসল রূপ ফুটিয়ে তোলার স্বাধীনতা পান, তখন কত বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব। জিমি, আপনি একজন অসাধারণ আবিষ্কারক এবং আপনার এই গৌরবময় যাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা ভীষণ গর্বিত।’
মিস্টারবিস্টের ‘৫০ জন ইউটিউব কিংবদন্তি ১০ লাখ ডলারের জন্য লড়াই করছেন’ ভিডিওর শেষ অংশে এই বিশেষ পুরস্কারটি সবার সামনে আনা হয়। ইউটিউবের সিইও নীল মোহনের কাছ থেকে ট্রফিটি নেওয়ার পর, জিমি ডোনাল্ডসন সেটি তাঁর ছোটবেলার শোবার ঘরের মতো হুবহু তৈরি একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে বসে তিনি তাঁর পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে করেন। কীভাবে একসময় শূন্য সাবস্ক্রাইবার নিয়ে তিনি ভিডিও আপলোড করা শুরু করেছিলেন আর আজ তিনি ইউটিউবের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিয়েটর।
জিমি ডোনাল্ডসন তাঁর শুরুর দিনগুলোতে যে ক্রিয়েটরদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ধন্যবাদ জানান বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি দর্শককে। জিমি জানিয়েছেন, এই সাফল্যের কারণেই আজ দুনিয়াজুড়ে বড় বড় সমাজসেবামূলক কাজ ও বিশাল সব ভিডিও প্রজেক্ট করা সম্ভব হচ্ছে।
ঠিক এক বছর আগে ২০২৫ সালের জুনে তিনি ৪০ কোটি সাবস্ক্রাইবার পান। সেই সময় তাঁর এই অর্জনের জন্য তাঁকে একটি বিশেষ নীল ক্রিস্টালের পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। এর ঠিক এক বছর পরেই এল নতুন এই রেকর্ড। কিশোর বয়সের শুরুতেই তিনি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা শুরু করেন। প্রথম দিকে তিনি মূলত বিভিন্ন গেম খেলার ভিডিও এবং সাধারণ আলোচনা-ধাঁচের ভিডিও তৈরি করতেন।
তবে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের চ্যানেলটিকে পুরোপুরি বদলে ফেলেন। এখন তিনি অনেক টাকা খরচ করে দারুণ সব চ্যালেঞ্জের ভিডিও ও বড় বড় স্টান্ট তৈরি করেন। পাশাপাশি দর্শকদের আকর্ষণীয় সব পুরস্কার দিয়ে তিনি খুব দ্রুত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
জিমি মূলত কঠিন সব সারভাইভাল চ্যালেঞ্জ, লাখ লাখ টাকার নগদ পুরস্কার এবং বড় বড় সামাজিক পরীক্ষার মতো ভাইরাল আইডিয়ার ভিডিওর জন্য পরিচিত। তাঁর এই ভিডিওগুলোতে প্রায়ই শত শত মানুষ অংশ নেয় ও এগুলো তৈরি করতে বিশাল সব প্রোডাকশন সেটআপের প্রয়োজন হয়। তাঁর একেকটি ভিডিও তৈরি করতে লাখ লাখ ডলার খরচ হয়। এই বিশাল খরচের টাকা মূলত ইউটিউব বিজ্ঞাপনের আয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপ এবং তাঁর অন্যান্য ব্যবসা থেকে আসে, যা তিনি আবার নতুন ভিডিও তৈরির পেছনেই ব্যায় করেন।