বিশ্বকাপে খেলার মধ্যে বিরতি কেন?

দুই অর্ধে দুবার ম্যাচ থামিয়ে দেওয়া হয় পানি খাওয়ার বিরতিরয়টার্স

ফুটবল খেলায় বিরতি থাকে কয়টা? সবাই একসঙ্গে বলে উঠবে, একটা। ৪৫ মিনিট শেষ হলে হাফটাইমের বিরতিতে যায় দলগুলো। বিশ্রাম করে, কোচদের কথা শুনে আবার ফেরত আসে মাঠে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ দেখে একটু অবাকই হবে। কারণ, ২৩ মিনিট হলেই রেফারি বাজাচ্ছেন লম্বা বাশি, আর দুই দল চলে যাচ্ছে বিরতিতে। মাঠ থেকে উঠছে না, কিন্তু পানি খেয়ে আবার ফিরে আসছে মাঠে। দুই হাফে এই দুই বিরতি কেন?

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা পরিচয় করিয়ে দিয়েছে নতুন এক নিয়মের সঙ্গে, ‘হাইড্রেশন ব্রেক’। মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বিশ্বকাপে অতিরিক্ত গরমে যাতে কোনো খেলোয়াড় অসুস্থ না হয়ে পড়েন, তাই দুই অর্ধের মাঝখানে ছোট্ট একটা বিরতি নিয়ে হাজির হয়েছে ফিফা। ইউরোপিয়ান দলগুলো সাধারণত নিজেদের ম্যাচ খেলে থাকে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু মেক্সিকো–আমেরিকায় তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি। এই গরমে খেলোয়াড়দের সুস্থ থাকাটাও জরুরি।

আরও পড়ুন

যে কারণে ফিফা নিয়ে এসেছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’, যেখানে দুই অর্ধের ২৩ মিনিট শেষে ৩ মিনিটের ছোট্ট একটা বিরতি নেবে দুই দল। সেখানে পানি পান করে, কোচের কথা শুনে আবার খেলায় ফিরে আসবে তারা। ফুটবল মাঠে এমন বিরতি নতুন কিছু নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে প্রতি বিশ্বকাপেই দেখা গেছে সেই নিয়ম। তবে আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকলে খেলোয়াড়দের সুস্থ থাকার জন্য নেওয়া হতো ছোট্ট বিরতি।

এই বিশ্বকাপে পাকাপাকি করে দেওয়া হয়েছে নিয়ম। প্রতিটি ম্যাচেই থাকছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’।

৩ মিনিট করে থাকছে ৬ মিনিটের বিরতি। সেটা মাঠ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হোক, বৃষ্টি পরুক কিংবা গরম। ৩ মিনিট বিরতি থাকবেই। শুনে সুন্দর মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ফিফার অন্য এক উদ্দেশ্য। এই বিরতি খেলোয়াড়দের কথা বলে করা হলেও মূলত সুবিধা করে দিচ্ছে বিজ্ঞাপনদাতাদের।

আরও পড়ুন

বিরতি মানেই তো বুঝতে পারছ? এখানে বসবে বিজ্ঞাপনের মেলা। একের পর এক বিজ্ঞাপন চলতে থাকবে টিভির সামনে। সেটাই হয়েছে। শুধু তা–ই নয়, এমনও ঘটনা ঘটেছে, খেলার জন্য প্রস্তুত দুই দল। কিন্তু বিজ্ঞাপন দেখানো শেষ হয়নি বলে রেফারিরা খেলা শুরু করতে পারছেন না।

এমন ঘটনায় বিরক্ত সবাই। দর্শকেরা তো বিরক্ত বটেই, খেলোয়াড়-কোচ পর্যন্ত কথা বলেছেন বিরতি নিয়ে। এভাবে জোর করে বিরতি চালু করায় খেলার ছন্দ নষ্ট হচ্ছে। ছোট দলগুলো ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়েও খেই হারিয়ে ফেলছে। দিন শেষে ফিফার জোর করে প্রবেশ করানো বিরতি খেলোয়াড়দের তেমন কোনো কাজেই এল না। বরং বিরক্ত হয়ে সবাই চাইছেন এর থেকে মুক্তি।

আরও পড়ুন