পৃথিবীবিখ্যাত এই ৮ বিড়ালকে চেনো কি

তুমি হয়তো জানো, বিড়াল মানুষের সবচেয়ে পুরোনো সঙ্গীদের একটি। কখনো তারা ছিল দেবতার প্রতীক, কখনো জাহাজের নাবিক, আবার কখনো ইন্টারনেটের তারকা। ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু বিড়াল আছে, যাদের গল্প শুধু মজার নয়, অনেক সময় অবাক করার মতোও। নিচে তেমনই বিখ্যাত ৮টি বিড়ালের গল্প তোমার জন্য তুলে ধরা হলো।

১. তা-মিউ: প্রাচীন মিসরের রাজপ্রাসাদের বিড়াল

প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন মিসরে রাজপুত্র থুটমোসের একটি প্রিয় বিড়াল ছিল, নাম তা-মিউ। তখন মিসরে বিড়ালকে শুধু পোষা প্রাণী নয়, অনেকটা পবিত্র প্রাণী হিসেবেও দেখা হতো। রাজপুত্রের মৃত্যুর পর তাঁর কবরের পাশে এই বিড়ালের জন্য আলাদা কফিন বা সারকোফেগাস রাখা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, মানুষ ও বিড়ালের সম্পর্ক কত গভীর ছিল সেই সময় থেকেই। তা-মিউ আজও কায়রো মিউজিয়ামে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

২. পাংগুর বান: এক সন্ন্যাসীর কবিতার বিড়াল

নবম শতাব্দীতে আয়ারল্যান্ডে এক সন্ন্যাসী তাঁর বিড়ালকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন, নাম ‘পাংগুর বান’। এটি সম্ভবত বিড়াল নিয়ে লেখা সবচেয়ে পুরোনো সাহিত্যগুলোর একটি। কবিতায় দেখা যায়, সন্ন্যাসী যেমন বই ও জ্ঞান নিয়ে ব্যস্ত, তেমনি বিড়ালটি ব্যস্ত ইঁদুর ধরতে। দুজনের কাজ আলাদা হলেও মনোযোগ একই রকম। পাংগুর বান নামের এই বিড়াল আজও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে একধরনের শান্ত ও সাদা বিড়ালের প্রতীক হয়ে আছে।

আরও পড়ুন

৩. আনসিংকেবল স্যাম: যুদ্ধজাহাজের বেঁচে যাওয়া বিড়াল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক বিড়াল নৌবাহিনীতে এমনভাবে বিখ্যাত হয়ে ওঠে যে তাকে বলা হতো ‘আনসিংকেবল স্যাম’। গল্প অনুযায়ী, এই বিড়াল একাধিক যুদ্ধজাহাজে ছিল এবং আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিবারই জাহাজ ডুবে গেলেও সে বেঁচে যায়। প্রথমে একটি জার্মান যুদ্ধজাহাজ, পরে ব্রিটিশ জাহাজ—সবখানেই সে ছিল। শেষ পর্যন্ত সে যুদ্ধ শেষে অবসরজীবন কাটায়। সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত হলেও এই বিড়াল নাবিকদের কাছে ভাগ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

৪. ফিলিসেট: মহাকাশে যাওয়া একমাত্র বিড়াল

১৯৬৩ সালে ফ্রান্স একটি বিড়ালকে মহাকাশে পাঠায়। তার নাম ছিল ফিলিসেট। বিজ্ঞানীরা ১৪টি বিড়ালের মধ্যে তাকে বেছে নিয়েছিল। কারণ, সে ছিল শান্ত স্বভাবের। মহাকাশে তার যাত্রা ছিল মাত্র ১৩ মিনিটের, কিন্তু এটি ছিল ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র বিড়ালের মহাকাশভ্রমণ। পরে তাকে আর বাঁচিয়ে রাখা হয়নি। কারণ, গবেষণার জন্য তার শরীর পরীক্ষা করা হয়। আজ ফিলিসেটকে স্মরণ করা হয় একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে।

আরও পড়ুন

৫. ল্যারি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসার স্থায়ী অতিথি

লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে একটি সরকারি পদ আছে—‘চিফ মাউসার’, অর্থাৎ ইঁদুর ধরার প্রধান। এই পদে সবচেয়ে বিখ্যাত বিড়াল হলো ল্যারি। ২০১১ সাল থেকে সে সেখানে আছে এবং একাধিক প্রধানমন্ত্রী বদলালেও ল্যারি একই জায়গায় রয়ে গেছে। তার কাজ মূলত ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করা, তবে সে প্রায়ই অতিথিদের সামনে ঘুরে বেড়ায় এবং অফিসের পরিবেশকে প্রাণবন্ত রাখে। ব্রিটিশ রাজনীতিতে ল্যারি এখন এক পরিচিত মুখ।

৬. টোমবিলি: ইস্তাম্বুলের রাস্তার বিড়াল

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের এক সাধারণ রাস্তার বিড়াল ছিল টোমবিলি। তার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে তাকে খুব আরাম করে বসে থাকতে দেখা যায়, যেন সে দুনিয়ার কোনো চিন্তাই করছে না। ছবিটি এত জনপ্রিয় হয় যে তার মৃত্যুর পর স্থানীয় মানুষেরা তার জন্য একটি মূর্তি তৈরি করে। কিন্তু সেটি চুরি হয়ে গেলে আবার নতুন করে বানানো হয়। টোমবিলি আজও ইস্তাম্বুলের মানুষের ভালোবাসার প্রতীক।

আরও পড়ুন

৭. লিল বব: চিরশিশু বিড়াল

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লিল বব ছিল এক অদ্ভুত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বিড়াল। তার শরীর ছিল ছোট, পা ছোট, মুখের গঠন আলাদা—তাই সে সারা জীবন দেখতে ছিল ছোট্ট বিড়ালছানার মতো। এই ভিন্নতার কারণে সে দ্রুত ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার ছবি, ভিডিও, এমনকি ডকুমেন্টারিও তৈরি হয়। তবে তার জীবন ছিল অসুস্থতার মধ্য দিয়ে ভরা। তবু সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাণীদের জন্য সচেতনতা তৈরি করেছে।

৮. গ্রাম্পি ক্যাট: ইন্টারনেটের সবচেয়ে রাগী মুখ

২০১২ সালে একটি ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়—একটি বিড়ালের মুখ, যেন সে সব সময় রেগে আছে। এই বিড়ালের নাম গ্রাম্পি ক্যাট। আসলে তার শরীরে একধরনের জেনেটিক সমস্যা ছিল, যার কারণে তার মুখ এমন দেখাত। কিন্তু এই ‘রাগী মুখ’ তাকে ইন্টারনেট তারকায় পরিণত করে। মিম, টি-শার্ট, বই—সব জায়গায় তার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে তার মৃত্যু হলেও গ্রাম্পি ক্যাট এখনো ইন্টারনেট সংস্কৃতির একটি বড় অংশ।

তোমার জন্য একটি প্রশ্ন

এই আট বিড়ালের ব্যাপারে তো জানলে। এদের মধ্যে তোমার সবচেয়ে মনে ধরল কাকে?

তথ্যসূত্র: দ্য কালেক্টর

আরও পড়ুন