অ্যান্ড্রয়েড না আইফোন, কোনটি কিনব

ছবি তোলায় আজকাল অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনই আইফোনের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করছেছবি: নিউইয়র্ক টাইমস

নতুন ফোন কেনার কথা উঠলেই বন্ধুদের মধ্যে একটি প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়, ‘অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইফোন?’ কেউ বলে, আইফোনই সেরা। আবার কেউ বলে, একই দামে অ্যান্ড্রয়েডে আরও বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। প্রশ্ন হলো, এত মানুষ কেন আইফোনের প্রতি আকৃষ্ট হন?

এর অন্যতম কারণ হলো আইফোনের স্মুদ ব্যবহার-অভিজ্ঞতা। অ্যাপল কোম্পানি নিজেরাই আইফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি করে। ফলে ফোনের প্রতিটি অংশ একে অপরের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করে। অ্যাপ খুলতে দেরি হয় না, ফোন হঠাৎ আটকে যাওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কম। অনেক বছর ব্যবহারের পরও একটি আইফোন আগের মতোই দ্রুত কাজ করতে পারে।

আরেকটি বড় সুবিধা হলো, দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট। অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন দুই-তিন বছরের মধ্যেই নতুন সফটওয়্যার আপডেট নেওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আইফোনের ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় বছর, কখনো কখনো তারও বেশি সময় ধরে নতুন আইওএস সংস্করণ ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া যায়। ফলে পুরোনো ফোনেও নতুন ফিচার ব্যবহার করা যায় এবং নিরাপত্তাও ঠিকঠাক থাকে।

আরও পড়ুন

ক্যামেরার কথাও আলাদা করে বলতে হয়। ছবি তোলায় আজকাল অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনই আইফোনের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করছে। তবে ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে আইফোন এখনো অনেকের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যন্ত্র। ভিডিওর রং, স্থিরতা, শব্দ ও আলো নিয়ন্ত্রণের কারণে ইউটিউবার, ভ্লগার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের বড় একটি অংশ এখনো আইফোন ব্যবহার করেন।

অ্যাপল

শুধু ছবি বা ভিডিও নয়, শব্দের মানও আইফোনের একটি শক্তিশালী দিক। ছোট স্পিকার হলেও গান শোনা, সিনেমা দেখা বা গেম খেলার সময় পরিষ্কার ও ভারসাম্যপূর্ণ শব্দ শোনা যায়। এয়ারপডসের মতো অ্যাপল ডিভাইসগুলো মুহূর্তেই সংযোগ হয়ে যায়।

ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়েও অ্যাপলের সুনাম আছে। কোনো অ্যাপ কী তথ্য ব্যবহার করছে, তা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেটও ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়ায়।

যারা ম্যাকবুক, আইপ্যাড বা অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য আইফোন যেন পুরো একটি দলের সদস্য। আইফোনে লেখা শুরু করে ম্যাকবুকে শেষ করা, এক ডিভাইস থেকে আরেকটিতে মুহূর্তেই ছবি পাঠানো বা কল রিসিভ করার মতো সুবিধাগুলো অ্যাপলের ইকোসিস্টেমকে আলাদা করে তুলেছে।

আরও পড়ুন

আরেকটি বাস্তব সুবিধা হলো রিসেল ভ্যালু। একটি আইফোন চার-পাঁচ বছর ব্যবহার করার পরও তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি করা যায়। ফলে শুরুতে দাম বেশি হলেও অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ মেয়াদে সেটি লাভজনক।

বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ এখনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনই ব্যবহার করেন
রয়টার্স

তবে তাই বলে অ্যান্ড্রয়েডকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই; বরং বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ এখনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনই ব্যবহার করেন। কারণ, কম বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম, সব দামের ফোনই অ্যান্ড্রয়েডে পাওয়া যায়। অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বড় ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং, জুম ক্যামেরা, ভাঁজ করা ডিসপ্লে কিংবা নিজের ইচ্ছেমতো ফোন সাজানোর মতো সুবিধাও থাকে। এগুলো অনেক ব্যবহারকারীর কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

তাহলে কোনটি সেরা?

আসলে এর একক কোনো উত্তর নেই। যদি দীর্ঘদিন একই ফোন ব্যবহার করতে চাও, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, নির্ভরযোগ্য ভিডিও ক্যামেরা এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে আইফোন ভালো পছন্দ হতে পারে। আর যদি কম খরচে বেশি ফিচার, মডেলের বৈচিত্র্য এবং নিজের মতো করে ফোন ব্যবহার করার স্বাধীনতা চাও, তাহলে অ্যান্ড্রয়েডই হতে পারে সেরা।

কোন ফোন কিনব, সঠিক সিদ্ধান্তটা নির্ভর করে তোমার চাহিদা ও বাজেটের ওপর।

আরও পড়ুন