বেলুনে চেপে আকাশে উড়তে হলে যেখানে যেতে হবে

বেলুনটি দেখতে বিশালাকার এক হিলিয়ামভর্তি ব্লিম্পের মতোউইকিপিডিয়া

পিক্সারের বিখ্যাত মুভি ‘আপ’–এর কথা মনে আছে? যেখানে একঝাঁক রঙিন হিলিয়াম বেলুনে করে পুরো একটি বাড়ি উড়ে চলেছিল স্বপ্ন পূরণ করতে। তবে এমন কল্পনা কিন্তু এই মুভি তৈরির অনেক আগে থেকেই শিশু থেকে বুড়ো—সবার মনেই ঘুরপাক খেত। একগুচ্ছ বেলুনে ভেসে বেড়ানোর সেই অনুভূতি আসলে কেমন? আমরা কি চাইলে সত্যি সত্যি বেলুন ধরে উড়তে পারি?

একজন মানুষকে মাটি থেকে ওপরে তুলতে ঠিক কতগুলো হিলিয়াম বেলুন লাগবে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই নানা হিসাব-নিকাশ করেছেন। মানুষের এই চিরচেনা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই এবার এগিয়ে এসেছে ফ্রান্সের একটি স্টার্টআপ কোম্পানি। তারা এমন এক উদ্ভাবন নিয়ে এসেছে, যা তোমাকে একাই বেলুনে চড়িয়ে নিয়ে যাবে আকাশে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব এই রোমাঞ্চকর আকাশভ্রমণ? আর একজনের ওজন বইতে ঠিক কতগুলো বেলুন লাগবে সেখানে?

তবে এ অভিজ্ঞতা নিতে এখন আর বড় পাইলট হতে হবে না। সাধারণ মানুষ হিসেবে তুমিও এখন হিলিয়াম বেলুনে করে আকাশে ভেসে বেড়াতে পারবে। আকাশে ওড়ার স্বপ্নকে সত্যি করতে কাজ করছে অ্যারোপ্লুম নামের এই স্টার্টআপ। জিন-পিয়ের ডেভিডের ডিজাইন করা এই বেলুন যে কাউকেই দেবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে কোনো ইঞ্জিন নেই, কোনো যান্ত্রিক শব্দ নেই। শুধু হাতের শক্তি ব্যবহার করেই পাখির মতো ডানা মেলে অনায়াসে বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারবেন।

আরও পড়ুন
পিক্সারের মুভির মতো আকাশে হারিয়ে যাওয়ার উপায় এখানে নেই। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অ্যারোপ্লুমটি ওড়ানো হয় ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের ইকাউসেভিল শহরের একটি বিশাল সামরিক হ্যাঙ্গারে।
এতে হাত দিয়ে চালানোর জন্য দুটি ডানাও রয়েছে
অ্যারোপ্লুম

বেলুনটি দেখতে বিশালাকার এক হিলিয়ামভর্তি ব্লিম্পের মতো। অ্যারোপ্লুমটি একবারে কেবল একজন মানুষকেই বহন করতে পারে। আরোহীকে একটি বিশেষ বেল্ট বা হার্নেস দিয়ে বেলুনের নিচের দিকে শক্ত করে আটকে দেওয়া হয়। এতে হাত দিয়ে চালানোর জন্য দুটি ডানাও রয়েছে। হট এয়ার বেলুন ওড়া আর অ্যারোপ্লুমে ওড়া কিন্তু এক নয়।

তবে পিক্সারের মুভির মতো আকাশে হারিয়ে যাওয়ার উপায় এখানে নেই। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অ্যারোপ্লুমটি ওড়ানো হয় ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের ইকাউসেভিল শহরের একটি বিশাল সামরিক হ্যাঙ্গারে। হ্যাঙ্গার হলো মূলত বিমান রাখার বিশাল বড় ঘর। এই বিশাল বদ্ধ জায়গার ভেতরেই ঘণ্টায় ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার বেগে ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াতে পারবে। ইউটিউব তারকা টম স্কটও এই অ্যারোপ্লুমে চড়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাঁর চোখেমুখে শিশুর মতো সেই আনন্দ দেখে যে কেউ এই অদ্ভুত উড়ালের স্বাদ নিতে চাইবে।

ভাবছ, এই বেলুনে চড়া কি খুব কঠিন? একদমই না। ১০ বছর বয়সী কিশোর থেকে শুরু করে বড়দের মধ্যে যাঁদের ওজন ৯০ কেজি পর্যন্ত, তাঁরা সবাই নির্দ্বিধায় এতে চড়তে পারেন। এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে প্রায় ৬০ ইউরো, যা বাংলাদেশি টাকায় যা ৮–৯ হাজার টাকার মতো। কিছুটা উচ্চতায় ওঠার সাহস আর ইকাউসেভিল শহরে যাওয়ার একটি টিকিট।

আরও পড়ুন
হ্যাঙ্গার হলো মূলত বিমান রাখার বিশাল বড় ঘর। এই বিশাল বদ্ধ জায়গার ভেতরেই ঘণ্টায় ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার বেগে ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াতে পারবে।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অ্যারোপ্লুমটি ওড়ানো হয় ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের ইকাউসেভিল শহরের একটি বিশাল সামরিক হ্যাঙ্গারে
অ্যারোপ্লুম

নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ওড়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষকেরা সব সময় সবার পাশেই থাকবেন। তাঁরা নিশ্চিত করবেন যেন নির্ভয়ে ও নিরাপদে এই স্বপ্নের মতো উড়ালের পুরো আনন্দটুকু উপভোগ করতে পারেন।

এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশিবার ওড়ানো হয়েছে এই অ্যারোপ্লুম। অথচ আজ পর্যন্ত একটিও দুর্ঘটনা ঘটেনি। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ৬০ ইউরো খরচ করলে ঠিক কতটুকু সময় পাওয়া যাবে? এই খরচে হ্যাঙ্গারের ভেতরে কাটানোর জন্য মোট ৩০ মিনিট সময় পাবে। এর মধ্যে প্রথম ১০ মিনিট ব্যয় হবে ওড়ানোর নির্দেশনা দিতে, সিট বেল্ট বা হার্নেস ঠিকমতো লাগিয়ে নিতে এবং ওড়ার জন্য প্রস্তুত করতে। বাকি পুরো ২০ মিনিট কাটাতে পারবে শূন্যে ডানা ঝাপটে পাখির মতো ওড়ার আসল আনন্দে।

সূত্র: অ্যারোপ্লুম, আইরিশ টাইমস

আরও পড়ুন