এক দিনেই এভারেস্টে ২৭৪ জন পর্বতারোহী, নতুন রেকর্ড
সাধারণ পর্যটন পথে বরফ ধসের আশঙ্কায় এবার বসন্তে পর্বতারোহণ একটু দেরিতে শুরু হয়েছিল। তবে নেপালের দিক থেকে একই দিনে রেকর্ড সংখক ২৭৪ জন পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছেন। এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন নেপালের ঋষি রাম ভান্ডারি জানান, পর্বতারোহীরা ২০ মে, বুধবার পরিষ্কার আবহাওয়ার পুরো সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন।
নেপালের এই বিশ্ব রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে ভান্ডারি জানান, এখন পর্যন্ত এক দিনে এত বেশি মানুষ এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার ঘটনা এটাই প্রথম। তবে চূড়ায় পৌঁছানো পর্বতারোহীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, ওপরের দিকে থাকা অনেকেই হয়তো এখনো নিচে বেজক্যাম্পে তাঁদের সফল হওয়ার খবর পাঠাতে পারেননি।
একজন পর্বতারোহী ছাড়া বাকি সবাই শেরপার সাহায্য নিয়ে ও সিলিন্ডারের বাড়তি অক্সিজেন ব্যবহার করে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছেন। তবে ইকুয়েডরের পর্বতারোহী মার্সেলো সেগোভিয়া কোনো শেরপা গাইডের সাহায্য ছাড়া ও বাড়তি অক্সিজেন সিলিন্ডার না নিয়েই একাই এই চূড়ায় আরোহণ করেছেন।
পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই নেপাল সরকারের সমালোচনা করেন। কারণ, তারা একসঙ্গে অনেক বেশি পর্বতারোহীকে পাহাড়ে ওঠার অনুমতি দেয়। এর ফলে কখনো কখনো চূড়ার ঠিক নিচের ডেথ জোন এলাকায় পর্বতারোহীদের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক ওপরে অবস্থিত এই অঞ্চলের বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ এতই কম থাকে যে তা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়।
একই দিনে এত বেশি মানুষ জড়ো হওয়ার একটি বিশেষ কারণ ছিল। অনেক পর্বতারোহী ভালো আবহাওয়ার জন্য ওপরের ক্যাম্পগুলোতে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক তখনই নিচের ক্যাম্প থেকে অন্য পর্বতারোহীরাও ওপরে চলে আসেন। ফলে সবাই একসঙ্গে চূড়ার দিকে রওনা হন। ওপর থেকে ফিরে আসা কয়েকজন পর্বতারোহী জানান, চূড়ায় ওঠার পথে তাঁদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। এই জটের কারণে সবার আরোহণের গতিও অনেক ধীর হয়ে গিয়েছিল।
৮ হাজার ৮৪৯ মিটার বা ২৯ হাজার ৩২ ফুট উঁচু এভারেস্টের এই চূড়াটিতে নেপালের দক্ষিণ দিক অথবা চীনের তিব্বতের উত্তর দিক এই দুই পথ দিয়ে ওঠা যায়। ২০১৯ সালের ২২ মে নেপালের দিক থেকে ২২৩ জন এবং চীনের দিক থেকে ১১৩ জন পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন। তবে চীন কর্তৃপক্ষ এই বছর তাদের দিকের পথটি বন্ধ করে দিয়েছে।
এই সপ্তাহেই অভিজ্ঞ পর্বত গাইড কামি রিতা শেরপা ৩২ বারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই শৃঙ্গে সবচেয়ে বেশিবার আরোহণের নিজের আগের রেকর্ডটি আবারও ভেঙেছেন। তাঁর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী পাসং দাওয়া শেরপা এই সপ্তাহে ৩০ বারের মতো চূড়ায় আরোহণ করেছেন। অন্যদিকে নারী পর্বতারোহী লাকপা শেরপা ১১তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নারী পর্বতারোহীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার চূড়ায় ওঠার নিজের রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন।
এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার মূল পথে ঝুলে থাকা একটি বিশাল হিমবাহের বরফের খাড়া ঢাল ধসে পড়ার চরম ঝুঁকি ছিল। এই বিপদের কারণেই এ বছর পর্বতারোহীদের জন্য এভারেস্টের আরোহণ মৌসুম শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে মে মাসের শেষে এভারেস্টের এই মৌসুমটি শেষ হবে। ততদিনে মোট ৪৯৪ জন পর্বতারোহী এই পর্বত আরোহণের চেষ্টা শেষ করবেন। তাঁদের সঙ্গে ঠিক সমসংখ্যক শেরপা গাইডও থাকবেন।
১৯৫৩ সালের ২৯ মে শেরপা তেনজিং নোরগে ও নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারি প্রথম সফলভাবে এভারেস্ট জয় করেন। সেই ঐতিহাসিক শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ পৃথিবীর সর্বোচ্চ এই চূড়াটিতে আরোহণ করেছেন। নেপালের পর্যটন বিভাগের একজন কর্মকর্তা হিমাল গৌতম জানিয়েছেন, তিনি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছেন গত বুধবারই ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ সম্পন্ন করেছেন।
গৌতম আরও বলেন, আমরা মূলত চূড়া থেকে পর্বতারোহীদের নিচে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করি। তাঁরা ফিরে এসে আমাদের কাছে তাঁদের আরোহণের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও অন্যান্য প্রমাণপত্র জমা দেন। এরপর আমরা সব যাচাইবাছাই করে তাঁদের আরোহণের আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট প্রদান করি। কেবল তখনই আরোহণকারী মানুষের সঠিক সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে। নেপাল সরকার এই বছর এভারেস্ট আরোহণের জন্য মোট ৪৯৪টি পারমিট দিয়েছে। যার প্রতিটির সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ডলার।