মহাবিপন্ন বাগাড়ের গল্প

অতিরিক্ত মাছ ধরা, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, দূষণ—সব মিলিয়ে বাগাড়ের সংখ্যা কমে গেছেছবি: ফোকাস বাংলা

বাগাড় নাম শুনলে চোখে ভাসে বিশাল একটা মাছ, নদীর তলা থেকে টেনে তোলা কালচে দাগওয়ালা এক দানব। জেলেপাড়ায় এই মাছ নিয়ে গল্পের শেষ নেই—কেউ বলে পদ্মায় ছয় ফুট লম্বা একটা উঠেছিল, কেউ যমুনার কথা টানে। প্রতিবার গল্প বলার সময় মাছটা যেন আরেকটু বড় হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের তালিকা অনুযায়ী, বাগাড় একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বাগাড় শিকার, ধরা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরও পড়ুন

বাগাড় নাম নিয়ে গোলমাল আছে। গায়ে বাঘের ডোরার মতো অনিয়মিত দাগ, মাথা চ্যাপটা, চোয়াল চওড়া-দেখতে বেশ হিংস্র। এখান থেকেই নামের প্রথম অংশ এসেছে। প্রথমে এটা ছিল বাঘা। তারপর সেখান থেকে বাগা। আইড় শব্দটা শুনে অনেকে ধরে নেন এটা বুঝি আইড় মাছেরই কোনো প্রজাতি। আসলে তা নয়। শিলন্ড আইড় বা গুজি আইড়ের মতো প্রকৃত আইড় মাছ আসে অন্য পরিবার থেকে। সিসোরিডি পরিবারের সদস্য এই মাছ। জিনগত দূরত্বটা এদের কম নয়। অনেকটা বিড়াল আর কুকুরকে এক পরিবারের প্রাণী ভেবে নেওয়ার মতো ভুল। বাংলা লোকভাষায় এমন হয়ই। চেহারায় মিল পেলেই একই ছাঁচে নাম বসিয়ে দেওয়া হয়। যেমন তিমিকে মাছ ভেবে নেওয়া, যদিও সে আসলে স্তন্যপায়ী।

এই মাছ দক্ষিণ এশিয়ার বড় নদীতে থাকে—গঙ্গা, পদ্মা, যমুনার গভীর ঘোলা জলে। তলদেশে শুয়ে থাকে পাথর বা বালুর ফাঁকে গা এলিয়ে দিয়ে। ছোট মাছ আর জলজ প্রাণী শিকার করে বাঁচে। দৈর্ঘ্যে ১ দশমিক ৮ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ওজন ২০ কেজি হতে পারে। এমন আকারের বাগাড় বাংলাদেশের নদীতে এখন প্রায় দেখাই যায় না অবশ্য। অতিরিক্ত মাছ ধরা, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, দূষণ—সব মিলিয়ে এদের সংখ্যা কমে গেছে।

আরও পড়ুন

নদীর নাব্যতা যেভাবে কমছে, যেভাবে চর জেগে উঠছে একের পর এক, গভীর জলের এই মাছের বসতিও ছোট হয়ে আসছে সেভাবেই। বাঘের মতো দাগ নিয়ে জন্মানো এই মাছ হয়তো একদিন নামেই বাঘ থেকে যাবে, নদীর কোনো বাঁকে আর দেখা মিলবে না।

সূত্র: ফিশফার্মিং বিডি

*এই লেখাটি সংশোধিত। মহাবিপন্ন এই মাছটির স্বাদ নিয়ে আগের ভার্সনে অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। এই ভার্সনে সেটি সংশোধন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন