বিশ্বের সবচেয়ে গভীর সুইমিংপুল কোনটি

নিরাপদ সাঁতারের জন্য তৈরি হয়েছে সুইমিংপুল। মূলত নিরাপদে সাঁতার কাটার জন্য এমন একটি জায়গার প্রয়োজন, যার গভীরতা খুব বেশি নয়। ঢেউ নেই, হাতের কাছে সব সুবিধা পাওয়া যায়, এমন একটি জায়গার কল্পনা থেকে এসেছে আজকের সুইমিংপুল।

সুইমিংপুলের ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর আগে সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদারো শহরে প্রথম কৃত্রিম জলাধার তৈরি করা হয়েছিল, যা ‘গ্রেট বাথ’ নামে পরিচিত। তবে আধুনিক ইনডোর সুইমিংপুলের ব্যবহার শুরু হয় ১৮৩৭ সালে, লন্ডনে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসে সুইমিংপুলের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে।

সাধারণত একটি বাণিজ্যিক সুইমিংপুল চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর হয়। কিন্তু দুবাইয়ে এমন একটি পুল আছে, যার গভীরতা ১৯৬ ফুট ১০ ইঞ্চি বা ৬০ দশমিক শূন্য ২ মিটার। এর নাম ‘ডিপ ডাইভ দুবাই’। এই বিশাল পুলে প্রায় ১৪০ লাখ লিটার পানি রয়েছে, যা ছয়টি অলিম্পিক সাইজ সুইমিংপুলের সমান। ২০২১ সালে এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের গভীরতম সুইমিংপুলের স্বীকৃতি পায়। এটি দুবাইয়ের ‘নাস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে’ অবস্থিত।

আরও পড়ুন

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এত বড় সুইমিংপুলের পুরোটাই কি টাইলস দিয়ে তৈরি? উত্তর হচ্ছে, না। এই পুরো সুইমিংপুল অনেকটা একটা বহুতল বিল্ডিংয়ের মতো। যার মাঝখানের অংশটা পুরোটা ফাঁকা। তুমি যদি পুলটির ঠিক মাঝখানে গিয়ে নিচে তাকাও, তাহলে তুমি পুরো ৬০ মিটার নিচে পুলটির সবচেয়ে নিচের অংশ দেখতে পারবে। ওপর থেকে দেখলে একটা সাধারণ সুইমিংপুল মনে হলেও পুলটি একটি ২০ তলা ভবনের প্রায় সমান।

সবাই কি এখানে সাঁতার কাটতে পারে

যেহেতু এটা অনেকটা সুইমিংপুলের মতো, সেহেতু তোমার মনে হতে পারে এখানে যে কেউ যখন তখন সাঁতার কাটতে পারে। আসলে চাইলেই যে কেউ এখানে নামতে পারে না। কারণ, পুলটির গভীরতা অনেক বেশি। তাই যাঁরা অধিক উচ্চতায় ভয় পান, তাঁদের এখানে নামতে খুব একটা উৎসাহিত করা হয় না। এ ছাড়া সেখানে নামতে স্কুবা ডাইভিংয়ের ট্রেনিং সার্টিফিকেট দেখাতে হয়।

যেহেতু এটি বিশ্বের সবচেয়ে গভীর সুইমিংপুল ও এখানে অনেক তারকা ও বিখ্যাত মানুষজন আসেন, তাই নিরাপত্তার বিষয়টা অনেক কঠোর।

এখানে পানির অনেক নিচে প্রায় ৫২টি ক্যামেরা লাগানো আছে ডাইভার ও কোচদের পর্যবেক্ষণের জন্য। যাঁরা ডাইভার, অর্থাৎ পুলে সুইম করতে আসেন, তাঁদের সুইমিংপুলে নামার আগে বিশেষ ডাইভিং স্যুট ও অক্সিজেন মাস্ক পরতে হয়। প্রত্যেক ডাইভারের সঙ্গে একজন করে ইনস্ট্রাকটর থাকেন, যিনি ডাইভিংয়ের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বলে রাখা ভালো, পুলটি মিষ্টিপানির, যাতে সবাই কোনো সমস্যা ছাড়া সাঁতার কাটতে পারেন।

আরও পড়ুন

পুলটির নিচে কী আছে

এত বড় পুল যদি শুধু টাইলস দিয়ে বানানো হয়, তাহলে একদমই বেখাপ্পা লাগবে। তাই ইঞ্জিনিয়াররা পুলটির নিচের অংশে বিশেষ কিছু স্থাপন করার চেষ্টা করেন, যাতে পুলটি আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

তাঁরা পুলটিতে দাবা, বাস্কেটবল, টেবিল, ফুটবল, টেবিল টেনিস ইত্যাদি রেখেছেন।

অনেকেই যাঁরা পানিতে নামতে ভয় পান অথবা গভীরতা ভয় পান, তাঁরাও বিশাল পুলটি দেখতে পারবেন পানিতে না নেমেই। সুইমিং কমপ্লেক্সের পর্যটক ও যাঁরা পানিতে ভয় পান, তাঁদের কথা চিন্তা করে ইঞ্জিনিয়াররা পুলটির প্রায় প্রতিটি অংশে অনেকগুলো স্বচ্ছ কাচের গ্লাস দিয়ে রেখেছেন। যাতে মানুষ পানিতে না নেমেও এর ভেতরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

যখনই কোনো সুইমিংপুলে নামবে, অবশ্যই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে তারপর নামবে।

সূত্র: স্কুবা ডাইভিং ম্যাগাজিন, আইসল্যান্ডস, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস

আরও পড়ুন