১০০ বছর পর পেঙ্গুইনের নতুন প্রজাতির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
গত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো পেঙ্গুইনের নতুন এক প্রজাতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।
‘কমিউনিকেশনস বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, এত দিন আমরা যাকে ‘জেন্টু পেঙ্গুইন’ হিসেবে চিনতাম, তা আসলে চারটি আলাদা প্রজাতির সমষ্টি। এর মধ্যে একটি প্রজাতি বিজ্ঞানীদের কাছে একদমই অজানা ছিল। চিলি ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের একদল পেঙ্গুইন বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী এই গবেষণা চালিয়েছেন।
নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘পাইগোসেলিস কারগুয়েলেনসিস’ (Pygoscelis kerguelensis)। অ্যান্টার্কটিকা থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল উত্তরে ভারত মহাসাগরের প্রত্যন্ত কারগুয়েলেন দ্বীপপুঞ্জে এদের বসবাস।
বিবিসি ওয়াইল্ডলাইফের একটি প্রতিবেদন জানানো হয়, পেঙ্গুইনের নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। তবে এক শতাব্দীর মধ্যে এবারই প্রথম। এর আগে ১৯২১ সালে শেষবারের মতো নর্দার্ন রকহপার পেঙ্গুইন নামের একটি প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছিল।
দক্ষিণ-পূর্ব জেন্টু পেঙ্গুইন নামে পরিচিত এই পাইগোসেলিস কারগুয়েলেনসিস দেখতে সাধারণ জেন্টু পেঙ্গুইনের মতোই। বাইরে থেকে দেখে চেনা না গেলেও এদের মূল পার্থক্যটি লুকিয়ে আছে ডিএনএ বা জিনগত বৈশিষ্ট্যে।
গবেষণা অনুযায়ী, জেন্টু পেঙ্গুইনের মোট চারটি আলাদা ধারা বা বংশ রয়েছে। এগুলো হলো, উত্তর, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব। উত্তরের জেন্টু পেঙ্গুইন বাস করে ফকল্যান্ড ও মার্টিলো দ্বীপপুঞ্জে। আর পূর্বের জেন্টু পেঙ্গুইনদের দেখা মেলে ক্রোজেট, মেরিয়ন ও ম্যাককুয়ারি দ্বীপপুঞ্জে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলের তথ্যমতে, অতিরিক্ত ঠান্ডা এলাকায় থাকার কারণে দক্ষিণের জেন্টু পেঙ্গুইনের শরীরে চর্বি জমা রাখা, শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা এবং কম আলোতে দেখার মতো বিশেষ কিছু জিন বেশি থাকে।
অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্বের জেন্টু পেঙ্গুইনদের শরীরে এমন কিছু জিন বেশি আছে, যা এদের গভীর পানিতে দীর্ঘক্ষণ ডুব দিয়ে থাকতে সাহায্য করে। আর শক্তি সাশ্রয় করে খাবার হজম করতে শেখায়।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও পূর্বের পেঙ্গুইনরা এদের থাকার জায়গা মারাত্মকভাবে হারাতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণের জেন্টু পেঙ্গুইনরা হয়তো নিজেদের ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে।
অ্যান্টার্কটিকায় বসবাসকারী এই চার জাতের পেঙ্গুইনের মধ্যে কেবল সাউদার্ন জেন্টু পেঙ্গুইনই সেখানে টিকতে পেরেছে।
গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও চিলির আন্দ্রেস বেলো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জুলিয়ানা ভিয়ানা জানান, অ্যান্টার্কটিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মূলত অন্যান্য জাতের পেঙ্গুইনরা বিপদে রয়েছে। তবে সাব অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে জেন্টু পেঙ্গুইনদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের পানি গরম হওয়ার কারণে অ্যান্টার্কটিকার বাইরের এলাকার পেঙ্গুইনরা এদের থাকার জায়গা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।
তাই ঝুঁকিতে থাকা জেন্টু পেঙ্গুইনের তিন প্রজাতিকে বাঁচাতে বিশ্বের পরিবেশ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের এখনই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে জানান তিনি।