মহাকাশে যাওয়া প্রথম জাপানি নাগরিক তোয়োহিরো আকিয়ামা মারা গেছেন
মহাকাশে যাওয়া প্রথম জাপানি নাগরিক তোয়োহিরো আকিয়ামা মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরিপাকতন্ত্রে নিচের অংশে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সয়ুজ মহাকাশযানে চড়ে মহাকাশে পাড়ি দেন আকিয়ামা। পরে মহাকাশযানটি মির মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়। সেখানে তিনি ৯ দিন অবস্থান করেন। এই সময়ে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে তাঁর অভিজ্ঞতা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। মহাকাশে করা বিভিন্ন পরীক্ষার বিষয়েও দর্শকদের জানান তিনি।
আকিয়ামা ছিলেন টোকিও ব্রডকাস্টিং সিস্টেমের (টিবিএস) একজন টেলিভিশন সাংবাদিক। তাঁর মহাকাশযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো জাপানি নাগরিক পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে যান।
তবে মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ প্রথমে আকিয়ামার পাওয়ার কথা ছিল না। তখনকার জাপানের ন্যাশনাল স্পেস ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি মহাকাশযাত্রার জন্য আগে মহাকাশচারী মামোরু মোহরিকে বেছে নিয়েছিল। ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার দুর্ঘটনার পর তাঁর মহাকাশযাত্রা পিছিয়ে যায়। এর পাঁচ বছর পর আকিয়ামা মহাকাশে যান।
মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার পাঁচ বছর পর ১৯৯৫ সালে টিবিএসের চাকরি ছেড়ে দেন আকিয়ামা। এরপর ফুকুশিমা প্রিফেকচারের তাকিনে শহরে গিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেন। তাঁর সাংবাদিকতার মতোই কৃষিকাজেও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ছিল। কৃষিকাজের মাধ্যমে তিনি খাবার কীভাবে উৎপাদিত হয় এবং জাপানের ইতিহাসে ধান চাষের ভূমিকা সম্পর্কে সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন।
২০১৩ সালে দ্য জাপান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকিয়ামা বলেছিলেন, ‘মানুষের সবচেয়ে মৌলিক কাজ কী? খাওয়া। কৃষকেরা যে খাবার উৎপাদন করেন, তা নিয়ে তাঁরা কী ভাবেন? আর জাপানের ইতিহাসে ধান চাষের ভূমিকা কী?’ এসব বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান না নিয়ে তিনি মারা যেতে চাননি।
কিন্তু ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি ঘটে। এরপর ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক চুল্লিতে দুর্ঘটনা ঘটে। বিকিরণের ঝুঁকির কারণে আকিয়ামাকে তাঁর বাড়ি ও কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে হয়।
এরপর আকিয়ামা কয়েকবার জায়গা বদল করেন। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের নভেম্বরে কিয়োটো ইউনিভার্সিটি অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইনে কৃষিবিষয়ক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান নাম কিয়োটো ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস। সেখানে তিনি ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত পড়িয়েছেন।
জীবনের শেষ দিকে মূলধারার সংবাদমাধ্যম নিয়েও সমালোচনামুখর ছিলেন আকিয়ামা। তরুণ প্রজন্ম যেন সংবাদমাধ্যমের কথায় পুরোপুরি প্রভাবিত না হয়ে নিজেরাই চিন্তা করতে শেখে, সেই আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
আকিয়ামা বলেছিলেন, অন্যকে দিয়ে চিন্তা করিয়ে নিলে সৃজনশীল হওয়া যায় না। তাঁর মতে, কৃষিকাজের অভিজ্ঞতা প্রকৃতিকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ দেয়। বাতাস ও আলো অনুভব করা, মাটির গন্ধ নেওয়া কিংবা মাটিকে স্পর্শ করার মতো অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের চিন্তার ধরন বদলে দিতে পারে।