আগামী ৫ বছরের মধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে পারে, পলিটিকো জরিপের তথ্য

পৃথিবী কি বড় কোনো যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? প্রশ্নটি এখন অনেককে ভাবাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে যেভাবে ঝগড়া আর অশান্তি বাড়ছে, তাতে মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। বিশ্ব কি শিগগিরই যুদ্ধে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়বে? বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে মানুষের মনে আসলে কী চলছে, তা জানতেই সম্প্রতি সারা বিশ্বে একটি জরিপ চালানো হয়।

পলিটিকো নামে একটি গণমাধ্যম নতুন জরিপ চালায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ মানুষ এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, পৃথিবী এক মহাযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মনে এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো এই যুদ্ধের ঝুঁকি আর এর পেছনে হওয়া বিশাল খরচ নিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি—এই পাঁচটি দেশের বেশির ভাগ মানুষই মনে করে, পৃথিবী দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মানুষেরা আশঙ্কা করছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

গত বছর মার্চ মাসে যখন একই প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন এত মানুষ যুদ্ধের ভয় পায়নি। কিন্তু এখন মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই ভয়ের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান সেব রাইড বলেন, মানুষের এই চিন্তার পরিবর্তন এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে বর্তমান পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। বন্ধু দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কগুলোও এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে।

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই, এর ওপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন সংঘাতের খবর আসছে। এই আশঙ্কার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে যুক্তরাজ্যে।

নতুন জরিপে একটি অদ্ভুত বিষয় উঠে এসেছে। মানুষ যুদ্ধের ভয় পাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য নিজের পকেট থেকে বাড়তি টাকা দিতে তারা একদমই রাজি নয়। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও কানাডার মানুষ মুখে বলছে যে দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো দরকার। কিন্তু যখনই বলা হচ্ছে যে এর জন্য তাদের বেশি ট্যাক্স দিতে হবে বা স্কুল-হাসপাতালের মতো জরুরি সেবা থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে, তখনই তারা বেঁকে বসছে।

নেতারা বেশ বিপদে পড়েছেন। ইউরোপের দেশগুলো এখন নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না। আবার নিজেরা যে টাকা খরচ করবে সেই অনুমতিও দেশের মানুষ দিচ্ছে না। অথচ চারপাশের পরিস্থিতি এমন যে যুদ্ধ যেকোনো সময় লেগে যেতে পারে। এই কঠিন সমস্যা নিয়েই সম্প্রতি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বিশ্বের বড় বড় নেতারা আলোচনায় বসেছিলেন।

আরও পড়ুন

গত কয়েক বছরের ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মনে এই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই, এর ওপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন সংঘাতের খবর আসছে। এই আশঙ্কার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে যুক্তরাজ্যে। সেখানে গত বছর যেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ বিশ্বযুদ্ধের ভয় পেত, এখন তা বেড়ে ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করে, ২০৩১ সালের মধ্যে মহাযুদ্ধ শুরু হতে পারে। তবে পাঁচটি দেশের মধ্যে কেবল জার্মানির মানুষই কিছুটা শান্ত। তারা মনে করে, আগামী পাঁচ বছরে বড় কোনো যুদ্ধের ভয় নেই।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রতি তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন মনে করে আগামী পাঁচ বছরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি বড় আশঙ্কা আছে।

জরিপে আমেরিকানরা এখন সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের দেশ কোনো না কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মানুষের মনেও একই ভয় কাজ করছে। তিনটি দেশই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ মনে করছে শক্তিশালী দেশগুলোই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও ভোটাররা তাঁর কথায় খুব একটা ভরসা পাচ্ছেন না।

আরও ভয়ের কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রতি তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন মনে করে আগামী পাঁচ বছরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি বড় আশঙ্কা আছে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বড় হুমকির আশঙ্কা করছে। আবার অদ্ভুতভাবে, কানাডা ও ইউরোপের অনেক মানুষ এখন চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই নিরাপত্তার জন্য বেশি বড় বিপদ বলে মনে করছে। এ থেকে বোঝা যায়, বন্ধু দেশগুলোর মধ্যেও এখন একে অপরের প্রতি বিশ্বাস কমে আসছে এবং এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো, নিউইয়র্ক পোস্ট

আরও পড়ুন