কেইন ইয়ামাল: ৩ বছর বয়সেই বিশ্বজয়ী
শিরোনাম দেখে হেসে উঠতে পারো। কী বলে এসব! তিন বছর বয়সে কেউ ফুটবল খেলতে পারে নাকি? তাও আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা জেতা? কিন্তু স্পেনের হয়ে সেই কাজটাই করে দেখিয়েছে একজন। নাম তার কেইন ইয়ামাল। এখন নিশ্চয় চিনতে পারছ? বলছি লামিনে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামালের কথা। স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালের পর সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র কিন্তু কোনো খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের সদস্য নন, বরং তিন বছর বয়সী কেইন।
লামিনে ইয়ামাল যখন ফুটবল জগতে পা দেন, তখন থেকেই ছিলেন আলোচিত। এত কম বয়সে বার্সেলোনার মতো দলে জায়গা করে নেওয়া ছিল চমক। সেই চমকের রেশ কাটতে না কাটতেই হাজির হয়েছে কেইন। বড় ভাই লামিনের বিশাল ভক্ত সে, তাঁকে ছাড়া যেন এক মুহূর্ত থাকতে চায় না কেইন। তাই তো খেলা হোক, কোথাও ঘুরতে যাওয়া হোক, কেইন সঙ্গী হয়ে থাকে ইয়ামালের। প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা মেলে কেইনের। তাকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসেন তার বাবা।
আর ক্যামেরার চোখও খুঁজে নেয় তাকে। কেনই বা নেবে না? ক্যামেরা দেখলে একটুও মুখ লুকায় না সে। বরং এমন সব অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করে যে তাকে পর্দার বাইরে রাখার কোনো উপায়ই নেই। গোলের পর তার উদ্যাপন দেখলে যে কারও মুখে হাসি ফুটতে বাধ্য। আর সেটা যদি হয় তার ভাইয়ের গোল? তাহলে তো কথাই নেই। পারলে গ্যালারি ভেঙে মাঠে চলে আসে তিন বছর বয়সী কেইন।
আর সেই কেইনের দল স্পেন জিতেছে বিশ্বকাপ। শেষ বাঁশি বাজতেই ক্যামেরার চোখ খুঁজে নিল খেলোয়াড়দের, সেই সঙ্গে কেইন ইয়ামালকে। জুনিয়র ইয়ামালের হাসি আর দেখে কে? মাঠে নামিয়ে দিতেই যেন বুঝে গেল, এখানে সব করার স্বাধীনতা আছে তার। পুরো মাঠে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, যাকে ইচ্ছে হচ্ছে খোঁচা দিচ্ছে, কখনো বল নিয়ে খেলছে। আর সবটা দেখে লামিনে ইয়ামালও হেসে লুটোপুটি।
এর মধ্যেই কে যেন তার হাতে জাল কেটে ধরিয়ে দিল। কেইনের হাসি আর দেখে কে? সেই জাল নিয়ে দৌড়ে চলে গেল লামিনের কাছে, দেখো দেখো আমি একটা জালের টুকরো পেয়েছি। বল, মাঠ ছেড়ে জালের টুকরা নিয়েই খেলা শুরু করল সে।
এর মধ্যেই এক দায়িত্বরত নিউইয়র্ক পুলিশের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে তার। মাথার টুপিটা দেখে খুব পছন্দ হয়েছে। পুলিশও আর কী করবেন? ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ বলে কথা, তার আবদার তো মেনে নিতেই হবে। পুলিশও তাঁর মাথা থেকে খুলে ক্যাপটা পরিয়ে দিলেন তার মাথায়। যদিও ভারী ক্যাপটা বেশিক্ষণ রাখতে পারেনি। একটু পরই খুলে ফেলেছে। সেটা ঠিকঠাক বুঝেও নিয়েছেন সেই পুলিশ সদস্য।
এরপরই এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিশ্বকাপের শিরোপা বুঝিয়ে দেওয়া হলো স্পেনের হাতে। এরপর কেইনের আনন্দ দেখে কে? যেন মাঠে ২৬ জন খেলে তার জন্য একটা নতুন খেলনা নিয়ে এসেছে। আর সেটা দিয়েই এখন সে খেলবে। বিশ্বকাপের বল, জাল আর ট্রফি—এক দিনে যেন তার জন্য তিনটি খেলনা প্রস্তুত। এই তিন খেলনা নিয়েই বাড়ি যাবে সে। পারলে আটকাও!