ফাইনালে এগিয়ে থাকবে কে—স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা?
বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি সংস্করণেই একটা ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, আনকোরা কোনো দেশ হুট করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মঞ্চে চলে যায়। অঘটনটা তারা সাধারণত ঘটায় শেষ ১৬ বা কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু সেমিফাইনাল বা ফাইনালে এসে তারা আবার হেরে যায় পরাশক্তি কোনো দেশের কাছে। পুরো বিশ্বকাপে তাদের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স থাকে ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেতাটা আর হয়ে ওঠে না। গত বিশ্বকাপে মরক্কো আর ক্রোয়েশিয়া, ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ছাড়াও কোস্টারিকা, কলম্বিয়া, রাশিয়া, সুইডেনের মতো দেশগুলো বিশ্বকাপের শেষ কয়েকটি সংস্করণে অনেক দূর পর্যন্ত এসেছিল।
কিন্তু এবার ঠিক তেমনটা হয়নি। ফিফার র্যাংকিংয়ে থাকা সেরা চার দলই খেলেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। আর যে দুটো দেশ ফাইনালে খেলবে, তারা নিজেরা ফুটবলে খুব কমই মুখোমুখি হয়েছে।
আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপ জেতার পর, ২০২৪ সালে ইউরো জেতে স্পেন। ইতালি আর আর্জেন্টিনার মধ্যকার যে ফিনালিসিমা খেলাটা শুরু হয়েছিল, তেমনই একটা ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনা আর স্পেনের মধ্যে। তত দিনে লামিনে ইয়ামালকে মেসির গোসল করানোর ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে। বুঝতেই পারছ, কোন ছবির কথা বলছি। তাই এই ম্যাচটা নিয়ে গোটা পৃথিবীর ফুটবলপ্রেমী মানুষজনই নয়, খোদ স্পেনের খেলোয়াড়েরাও মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু ফিনালিসিমার ম্যাচটা বাতিল হয়ে যায়। ভাগ্যবিধাতা হয়তো নাটকীয়তা পছন্দ করেন, তাই ফিনালিসিমায় না হলেও এই দুই পরাশক্তিকে তিনি মিলিয়ে দিয়েছেন সরাসরি বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে।
ইতিহাস বলে, দীর্ঘ ৬০ বছর পর কোনো বড় প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের প্রথম ম্যাচ এই ফাইনাল। ইতিহাসে এই প্রথম উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়ন এবং কনমেবল কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে, যা বাতিল হয়ে যাওয়া ফিনালিসিমার অভাবকে পুষিয়ে দিচ্ছে ষোলো আনা।
কিন্তু এই ফাইনাল নিয়ে আবার উভয়সংকটে পড়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনা আর স্পেন দুই মহাদেশের দেশ হলেও এই দুটো দেশের মাঝে সূক্ষ্ম একটা সম্পর্ক আছে। বুঝতেই পারছ কে? লিওনেল মেসি। একসময় বলা হতো—মেসি আর্জেন্টিনার চেয়ে স্পেনের বেশি। তাই অন্তত মেসির জন্য হলেও, স্পেনে অগণিত আর্জেন্টিনা সমর্থক দেখা যায়। আর্জেন্টিনার ম্যাচের সময় দেখা যায়, স্প্যানিশরা আকাশি-সাদা জার্সি পরে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিচ্ছে। তাই এই ম্যাচটা তাদের কাছে বেশ আবেগপ্রবণ। অবশ্যই দেশ সবার আগে, কিন্তু মনের গহিন এক কোণে হয়তো উঁকি দেবে মেসির প্রতি ভালোবাসা।
উভয়সংকটে আছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও। কারণ, ভদ্রলোকের স্ত্রী স্প্যানিশ, তাঁর সন্তানেরা জন্মেছেন স্পেনে। একটা সময় স্পেনের ক্লাব মায়োরকাতে খেলেছেন। তা ছাড়া এখন তিনি স্পেনেই থাকেন। স্কালোনির স্ত্রীর পরিবারের সবাই মায়োরকার বাসিন্দা। তা ছাড়া স্পেনের যে কোচের মুখোমুখি তিনি হতে যাচ্ছেন, সেই দে লা ফুয়েন্তে আসলে স্কালোনির শিক্ষক। বোঝাই যাচ্ছে, স্কালোনির জন্য পরিস্থিতি কতটা কঠিন।
এমন পরিস্থিতিতে আছে আরেক দলের সমর্থক। তুমি যদি বার্সেলোনা ক্লাবকে সমর্থন করো, তাহলে ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পারবে। কারণ, স্পেনের বাইরে বার্সেলোনা ক্লাবের অনেক সমর্থক আছেন, যাঁরা মেসিকে ভালোবেসে এই ক্লাবকে সমর্থন করতে শুরু করেছিলেন। বহু বছর হয়ে গেছে মেসি ক্লাবে নেই, তবু সেই ভালোবাসা এখনো তরতাজা। এদিকে বার্সেলোনার ৮ জন খেলোয়াড় স্পেন জাতীয় দলে খেলেন। হুয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া বিশ্বকাপের ম্যাচে এখনো মাঠে না নামলেও পাউ কুবারসি, পেদ্রি, গাভি, ফেরান তোরেস, লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো প্রতি ম্যাচেই মাঠে নামছেন। ওদিকে মার্ক কুকুরেয়া সদ্য রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেও আদতে তিনি তো লা মাসিয়ারই খেলোয়াড়। তাই বার্সেলোনা সমর্থক হয়ে দোটানায় ভোগা স্বাভাবিক। কিন্তু তবু বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার লড়াইয়ে কেউ কাউকে একবিন্দুও ছাড় দেবে না।
কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের যুদ্ধে এগিয়ে কে? হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর এক শব্দে দেওয়া সম্ভব হবে না।
ফাইনালের সবুজ গালিচায় নামার আগে দুই দলেরই টুর্নামেন্ট–যাত্রা ছিল রোমাঞ্চে ঠাসা। আর্জেন্টিনার কথা যদি বলা যায়, তবে শক্তিমত্তার দিক থেকে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি তিনটি। নিজেদের হার না মানা মানসিকতা, লিওনেল মেসির ম্যাজিক আর লিওনেল স্কালোনির কৌশল।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শুরু করেছিল লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক দিয়ে। গ্রুপ পর্বটা বেশ ভালোভাবেই উতরে গিয়েছিল তারা। এরপর কেপ ভার্দের ম্যাচ থেকে শুরু হয় তাদের অগ্নিপরীক্ষা। মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের ফর্মহীনতা এবং ফুলব্যাকদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় আর্জেন্টিনা ভুগেছে প্রতিটা ম্যাচেই। কেপ ভার্দে, মিসর আর সুইজারল্যান্ড—প্রতিটি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে নির্ভর করতে হয়েছে মেসি আর লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত দক্ষতার ওপর; এবং আর্জেন্টিনা এ-প্লাস পেয়ে পাস করেও গেছে। এই বিশ্বকাপে খুব সম্ভবত আর্জেন্টিনা সবচেয়ে ঘুমপাড়ানি ফুটবল খেলেছে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে। কিন্তু সেই ম্যাচেও তাদের উতরে দিয়েছে স্কালোনির কৌশল। আক্রমণে চারজন খেলোয়াড় নামিয়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্স নিজেদের করে নেওয়ার সেই কৌশল কাজে লেগেছিল ইংল্যান্ডের ম্যাচেও। আর প্রতিটি ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা খেলে গেছে নিজেদের শেষ বিন্দু শক্তি দিয়ে। ফর্ম না থাকলেও অথবা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে পেরে না উঠলেও তারা এক সেকেন্ডের জন্যও হাল ছাড়েনি। আর এই দিক থেকে আর্জেন্টিনা সব সময়ই এই বিশ্বকাপে এগিয়ে ছিল, ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষেও এগিয়ে থাকবে।
বিপরীতে, স্পেন বিশ্বকাপ শুরু করেছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে। এরপর সৌদি আরবকে চার গোল দিলেও উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলেছে কিছুটা অলস ও ধীরগতির ফুটবল। কিন্তু ফ্রান্স, পর্তুগাল আর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নিজেদের জাত চিনিয়েই ফাইনালে এসেছে তারা। উনাই সিমোনের গোলবারের তন্দ্রাহীন প্রহরা, পাউ কুবারসি আর আইমেরিক লাপোর্তের জমাট রক্ষণ, পেদ্রো পোরো আর মার্ক কুকুরেয়ার দুর্দান্ত উইংব্যাক ডিউটি, সুপার-সাব মিকেল মেরিনো, গোলের দায়িত্বে মিকেল ওয়ারজাবাল, নাম্বার টেনে দানি ওলমো এবং মধ্যমাঠ থেকে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পেদ্রি-রদ্রি-রুইজ জুটি—স্প্যানিশদের কমতি নেই কোথাও। এমনকি আর্জেন্টিনার যেমন মেসি রয়েছেন, স্পেনের আছে লামিনো ইয়ামাল। খোদ স্কালোনি বলেছেন, ‘মেসিকে আটকানো যেমন কঠিন, তেমনই লামিনে ইয়ামালকেও।’
কিন্তু নিজেদের অভিন্ন শক্তিমত্তা থাকলেও এই দুই দল একে অপরকে আটকানোর জন্য কেমন কৌশল আঁটতে পারে?
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি মেসি এবং তাদের সেট পিস। মেসিকে ম্যান-মার্ক করেও আটকে দেওয়া কঠিন। কারণ ডি-বক্সের আশপাশে মেসি যদি একটি লং বল বাড়িয়ে দেন অথবা ক্রস করেন, তাহলে হেডে গোল দেওয়ার মতো বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে আর্জেন্টিনার একাদশে। আর বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটা গোল হেডেও করেছে। আর এনজো, ম্যাক অ্যালিস্টার, মোলিনা বা লো সেলসো ডি-বক্সের বাইরে থেকে যেভাবে দূরপাল্লার শট করার ক্ষমতা রাখেন, সেটা অতিপরীক্ষিত এবং শক্তিশালী রক্ষণের জন্যও আটকে দেওয়া কষ্টকর। আর এখানেই স্পেনের খুব সম্ভবত প্রধান একটি দুর্বলতা বেরিয়ে আসে। দূরপাল্লার শট, কুইক হেড এবং গোলবারের একদম পাশ ঘেঁষে নেওয়া শট আটকাতে উনাই সিমোনের দুর্বলতা রয়েছে। যেখানে আর্জেন্টিনা এবার ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট করে গোল দিয়েছে ৫টি। তা ছাড়া গোলবারের একদম পাশ ঘেঁষে শট নেওয়াতে মেসি যে রীতিমতো ওস্তাদ, সেটা তো আর বিস্তারিত বলতে হবে না।
ওদিকে স্পেনের উইং দিয়ে চালানো আক্রমণ আটকাতে হিমশিম খেতে পারেন আর্জেন্টিনার ফুলব্যাক মোলিনা ও তালিয়াফিকো জুটি। পোরো ও কুকুরেয়া মিলে এবার মোট ১৩টি গোল স্কোরিং চান্স ক্রিয়েট করেছেন, যেখান থেকে সরাসরি অ্যাসিস্টে গোল এসেছে ৩টি। অথচ আর্জেন্টিনার এই দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা এই ফুলব্যাক। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের একমাত্র গোল গর্ডন করেছিলেন মোলিনার ভুলেই। বিপরীতে দানি ওলমোর ক্রিয়েটিভিটি এবং স্পেনের কুইক পাসিং মিডফিল্ডারদের সামলানোর অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার তেমন একটা নেই। এই বিশ্বকাপেও হয়নি। এই ব্যাপারটা স্পেনের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা।
ওদিকে ওলমো এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত গোল দিতে না পারলেও তিনি যেভাবে দলের আক্রমণভাগ এবং মধ্যমাঠকে একই সুতায় জুড়ছেন, সেটা অনবদ্য। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট, নিখুঁত পজিশনিং এবং দ্রুত ওয়ান-টু পাসের মাধ্যমে লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রো পোরো ও মিকেল মেরিনোর মতো খেলোয়াড়েরা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের বিপজ্জনক এলাকায় বল পেয়ে আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন। স্পেনের সাবলীল, গতিময় ও সমন্বিত আক্রমণভাগ মূলত ওলমোর ফুটবল-বুদ্ধিমত্তা, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা এবং সতীর্থদের সঙ্গে অসাধারণ বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করেছে। শুধু গোল করার সামর্থ্যের ওপর নয়। আর আছেন লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপে পুরোপুরি ফিট হয়ে খেলতে এখনো পারেননি, কিন্তু মাঠে তাঁর উপস্থিতি লিওনেল মেসির মতোই ভয়ংকর।
এবার একটু হেড-টু-হেড পরিসংখ্যানে আসি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে মাত্র একবার। ’৬৬-এর বিশ্বকাপে সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনাই। তাই বিশ্বকাপের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে আলবিসেলেস্তেরা। আর প্রীতি ম্যাচে স্পেন ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছে মোট চারবার, যার মধ্যে তিনবারই জিতেছে স্পেন। যদিও এই দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচের স্কোরলাইন হয়তো তোমাদের মনে থাকার কথা। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ইসকোর হ্যাটট্রিক এবং ৬-১ গোলে হারের স্মৃতি তো এখনো বেশ তরতাজা!
যদিও ইতিহাসের পুরোনো গল্প কিংবা অতীতের পরিসংখ্যান—ফাইনালের মহারণে এসে তার সবকিছুই আসলে অর্থহীন হয়ে যায়। মাঠের নিখুঁত কৌশল, ডাগআউটের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ আর ফুটবলারদের স্নায়ুর লড়াই-ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কার মাথায় উঠবে বিশ্বজয়ের এই পরম মুকুট। একদিকে লিওনেল মেসির বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখার আলবিসেলেস্তে জেদ, আর অন্যদিকে লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমোদের হাত ধরে স্প্যানিশ ফুটবলের এক নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষুধা। বিশ্বমঞ্চের সবুজ গালিচায় যখন রেফারির শেষ বাঁশি বাজবে, তখন হয়তো একদল মেতে উঠবে বাঁধভাঙা উল্লাসে, আর অন্য দল পুড়বে চিরন্তন এক বেদনায়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির (যেমন NBA বা NFL) সঙ্গে মিল রেখে প্রথমবারের মতো এক অভিনব ঐতিহ্য চালু করছে। ফাইনালের বিজয়ী দল শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিই উঁচিয়ে ধরবে না, বরং তাদের স্কোয়াডের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কোচের হাতে উঠবে কাস্টমাইজড ‘ফিফা চ্যাম্পিয়নশিপ রিংস’। চলতি বছরের সঙ্গে মিলিয়ে মোট ২,০২৬টি রিং তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে মাত্র ৩০টি রিং দেওয়া হবে বিশ্বজয়ী দলকে।
তবে রিং কিংবা ট্রফি যার শোকেসেই যাক না কেন, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এই ফাইনাল যে এক অবিস্মরণীয় কাব্য হিসেবে চিরকাল থেকে যাবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।