সিগালের খাবার চুরি, ব্রিটেনে বছরে ক্ষতি ১৭১ মিলিয়ন পাউন্ড

পথচারীদের হাতে আইসক্রিম, চিপস কিংবা সসেজ রোল দেখলেই এগুলো উড়ে এসে দ্রুত তা কেড়ে নেয়ছবি: দ্য মিরর

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক পাখি সিগালের খাবার চুরির কারণে যুক্তরাজ্যে বছরে প্রায় ১৭১ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের খাবার নষ্ট হয়। সমুদ্রের তীরে বা শহরের রাস্তায় সিগাল পাখির উৎপাত খুব সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে এরা মানুষের হাত থেকে খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পরিচিত।

পথচারীদের হাতে আইসক্রিম, চিপস কিংবা সসেজ রোল দেখলেই এগুলো উড়ে এসে দ্রুত তা কেড়ে নেয়। এই পাখিগুলো খুবই সুযোগসন্ধানী। মানুষ খেয়াল না করলেই এগুলো আক্রমণ করে খাবার নিয়ে চম্পট দেয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, শহরের কোলাহল ও মানুষের উপস্থিতি সিগালদের ভয় দূর করে দিয়েছে। এ কারণে পাখিগুলো খাবারের জন্য সরাসরি মানুষের কাছাকাছি চলে আসে।

একটি জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭১ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক জানিয়েছেন, সিগাল তাঁদের খাবার কেড়ে নিয়েছে অথবা চুরি করার চেষ্টা করেছে। দুই হাজার জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, এই পাখিগুলো প্রতিবছর তাঁদের প্রায় ১৭১.৮ মিলিয়ন পাউন্ড খাবার খেয়ে ফেলছে।

আরও পড়ুন

মানুষের কাছে থাকা খাবারের গড় দাম ও কতবার তাঁরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করেই এই আনুমানিক ক্ষতির হিসাবটি বের করা হয়েছে।

সিগাল পাখির চুরি করা খাবারের মধ্যে সবচেয়ে ওপরে রয়েছে ব্রিটিশদের প্রিয় খাবার ফিশ অ্যান্ড চিপস। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ মানুষের চিপস বা মাছের ওপর সিগাল আক্রমণ চালিয়েছে। এ ছাড়া স্যান্ডউইচ ও আইসক্রিম চুরি হওয়ার ঘটনাও অনেক বেশি।

যুক্তরাজ্যে সিগাল বা গাঙচিল পাখির উৎপাত এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে

এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ‘কমপেয়ার দ্য মার্কেট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মারগেটের একটি দোকানে বিশেষ বিমা সুবিধা চালু করেছে। এর অধীনে কোনো গ্রাহকের ফিশ অ্যান্ড চিপস সিগাল পাখি নিয়ে গেলে দোকানটি বিনা মূল্যে সেই খাবার আবার বানিয়ে দেবে। এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আপাতত এক হাজার পাউন্ডের একটি তহবিল রাখা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি চার্লি ইভান্স জানান, খাবার হাতে নিয়ে বসার সঙ্গে সঙ্গেই নজর এড়ালে তা সিগালের পেটে চলে যায়। সিগাল যে শুধু খাবার চুরি করছে তা নয়, পরোক্ষভাবে মানুষের টাকাও নষ্ট করছে।

যুক্তরাজ্যে সিগাল বা গাঙচিল পাখির উৎপাত এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পাখিগুলোর চুরির স্বভাবের কারণে সে দেশের প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষ বাইরে খোলা জায়গায় বসে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারেন না। আক্রমণের ভয়ে তাঁরা বাইরে খাওয়ার অভ্যাস ও নিয়ম পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন। এমনকি সিগালের হঠাৎ তাড়া খেয়ে বা ভয় পেয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ তাঁদের হাতের খাবার মাটিতে ফেলে দিতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন
সিগাল পাখির চুরি করা খাবারের মধ্যে সবচেয়ে ওপরে রয়েছে ব্রিটিশদের প্রিয় খাবার ফিশ অ্যান্ড চিপস

পাখিগুলোর হাত থেকে নিজের দুপুরের খাবার বাঁচাতে মানুষ নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করছেন। প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ সিগালের নজর থেকে আড়াল হয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে খাবার খান। আবার ৩১ শতাংশ মানুষ সিগাল উড়ে আসার আগেই তাড়াহুড়ো করে দ্রুত খাবার গিলে শেষ করেন। যাঁদের ওপর একবার সিগাল আক্রমণ করেছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা বারবার এই পাখিগুলোর হামলার শিকার হয়েছেন।

নিজেরা বেঁচে গেলেও অন্যদের আক্রান্ত হতে দেখেছেন প্রায় ৮২ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক। অর্থাৎ চোখের সামনে অন্য কারও হাত থেকে সিগাল খাবার ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এমন দৃশ্য সেখানে খুবই সাধারণ। তবে এই পাখিগুলো শুধু যে খাবার ছিনিয়ে নেয়, তা নয়। এদের লোভ এত বেশি যে সুযোগ পেলে শিশুদের ছোটখাটো খেলনা, এমনকি পানীয়র ক্যান বা বোতলও টান মেরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট ও দ্য মিরর

আরও পড়ুন